
বাংলাদেশের আর্থিক খাত সংস্কারের অগ্রগতি ইতিবাচক দেখছে আইএমএফ
মহানগর ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৫৬

মো. শওকত আলী চৌধুরী।
ব্যাংক কোম্পানি আইন লঙ্ঘন করে নামে-বেনামে ২০ শতাংশের বেশি শেয়ার নিয়ন্ত্রণের তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পরও ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির (ইবিএল) সাবেক চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রিটকারীর দেয়া আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিচারপতি শওকত আলী চৌধুরী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আলী, ইশরাত হাসান ও বিপ্লব কুমার দাশ।
ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও ইবিএলের ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডার আইনজীবী কামরুল ইসলাম।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১৪ক(১) ধারা অনুযায়ী, কোনো একক ব্যক্তি, পরিবার বা প্রতিষ্ঠান একটি ব্যাংকের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারে না। তবে রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ইবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবার সরাসরি ৯.৯৯ শতাংশ এবং বেনামি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরও ১১.১২ শতাংশ–অর্থাৎ মোট ২১.১১ শতাংশ (প্রায় ৩৩ কোটি ৬৭ লাখ) শেয়ার নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তদন্তেও ২০.৪৮ শতাংশ শেয়ার কুক্ষিগত রাখার প্রমাণ মেলে, তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনের বরাতে রিটে বলা হয়, শওকত আলী চৌধুরী তার পারিবারিক শতভাগ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘এস এন করপোরেশন’-এর কর্মচারী নইমুল হক, তার স্ত্রী সালমা শিরীন এবং শ্যালিকা অনিকা তাহজীবকে প্রক্সি শেয়ারহোল্ডার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। মাত্র ১ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের নামমাত্র প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আরুশা অ্যান্ড কোং’ (৯.৯৮% শেয়ার) ও ‘আনিকা শেয়ার্স অ্যান্ড সিকিউরিটিজ’ (১.১৪% শেয়ার)-এর মাধ্যমে এসব শেয়ার পরিচালিত হতো। নথিপত্রে শ্যালিকা অনিকা তাহজীব ও শওকত আলীর একই বাসস্থান উল্লেখ রয়েছে।
তদন্তে উঠে আসে, ১ লাখ টাকা মূলধনের আরুশা অ্যান্ড কোং ২০০৯ সালের পর কোনো নতুন শেয়ার না কিনলেও নিয়মিত বোনাস শেয়ারের মাধ্যমে বর্তমানে ৩৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ১৩ কোটি ৫৪ লাখের বেশি শেয়ারের মালিক হয়। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ২৪৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা নগদ লভ্যাংশ তুলেছে। শওকত আলী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালক পদে থেকে এসব লভ্যাংশ অনুমোদন করান এবং জমি কেনার ভুয়া বায়না দেখিয়ে লভ্যাংশের ৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা তার ব্যক্তিগত হিসাবে ও ২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা এস এন করপোরেশনে স্থানান্তর করে ব্যক্তিগত সুবিধা ভোগ করেন।
আদালতকে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত রিপোর্ট ধামাচাপা দিতে এবং শেয়ার বাজেয়াপ্তির হাত থেকে বাঁচতে এসব বেনামি শেয়ার দ্রুত বাজারে বিক্রি করে শওকত আলী চক্র স্থান ত্যাগের (সেফ এক্সিট) অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুশাসন নীতিমালা অনুযায়ী, এ ধরনের গুরুতর আর্থিক অনিয়মে জড়িত পরিচালক ও তার পরিবারের সদস্যদের যে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ন্যূনতম তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার আইনি বিধান রয়েছে।