
ডেটা সেন্টারে বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করল গ্রামীণফোন
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৩৪

ফাইল ছবি
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের জন্য আরও তিন বছর সময় পেয়েছে বাংলাদেশ। বাড়তি এই সময়ে অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা, রফতানি সুবিধা কাজে লাগানো, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাণিজ্যিক অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ মিলবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশের পক্ষে চীন ও উরুগুয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা অনুমোদন করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।
জাতিসংঘ সদর দফতরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে অধিবেশনের এক সভায় এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশের সময় বাড়ানোর এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। ওই সভায় সভাপতির আসনে ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
বিভিন্ন দেশের সমর্থনে প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়। এর ফলে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের জন্য ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় পেল বাংলাদেশ। জাতিসংঘের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক একেএম ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নিয়ে কাজ করছেন। বর্তমানে তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এ সিদ্ধান্তের পুরো কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিতে চাই। বিএনপি যখন বিরোধী দলের রাজনীতি করছিল, তখনই তারেক রহমান প্রথম উপলব্ধি করেন, যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া এবং দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর আগে এলডিসি থেকে উত্তরণ দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। তবে নির্বাচনের আগেই এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পিছিয়ে দেয়ার পক্ষে অবস্থান নেয় বিএনপি। সেই অনুযায়ী কাজ শুরু করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার।
এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, বিএনপি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের জাতিসংঘ মিশনের কর্মকর্তারাও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। এ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সবারই ভালো ভূমিকা ছিল।
জাতিসংঘের এ সিদ্ধান্তের ফলে অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদার, রফতানি প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে পাওয়া আন্তর্জাতিক সহায়তা ও বাণিজ্যিক সুবিধাগুলোও কাজে লাগানোর জন্য বাড়তি সময় পাবে দেশটি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে এমন সময়ে বাংলাদেশ বাড়তি সময় পেল, যখন অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এ সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে আরও গতি আসতে পারে।