
‘ওয়ালটন হাউজফুল অফার’ এ ফ্রিজ কিনে বিনামূল্যে ঘরভর্তি পণ্য পেলেন চট্টগ্রামের রীমা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৯

গাছ ছাঁটা ও ছোলার কাজ শুরু করেছেন একজন গাছি। ছবি: সময় সংবাদ
শীত আসার আগেই যশোর ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে খেজুরের রস আহরণের প্রস্তুতি। গাছিদের দাবি, নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই মিলবে খেজুরের রস। রস ও তা থেকে তৈরি গুড় বিক্রি করে সংসার চালানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়ের প্রত্যাশা করছেন তারা।
খেজুরের রস আহরণের মধ্য দিয়েই গ্রামীণ জনপদে শুরু হয় শীতের আমেজ। সেই হিসেবে যশোরাঞ্চলে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের আগাম প্রস্তুতি শীতের আগমনী বার্তা দিচ্ছে। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৩ লাখ ১৩ হাজার গাছ থেকে রস সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য গাছ ছাঁটা ও ছোলার কাজ শুরু করেছেন গাছিরা।
গাছ ছোলার ১৪ দিনের মধ্যে বসানো হয় রস সংগ্রহের নল। এরইমধ্যে সেই কাজেও বেশ অগ্রগতি হয়েছে। ফলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। তাদের আশা, নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই খেজুরের রস পাওয়া যাবে। এরপর রস বিক্রির পাশাপাশি তা থেকে গুড় তৈরি করে বাজারে বিক্রি করবেন তারা। আগামী চার থেকে পাঁচ মাস রস ও গুড় বিক্রির আয়েই চলবে তাদের সংসার। দাম ভালো পেলে বাড়তি আয়েরও প্রত্যাশা করছেন তারা।
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরা এলাকার গাছি আব্দুল মাজেদ বলেন, প্রতিবছর রস ও গুড়ের দাম বাড়ছে। এ কারণে এবার ৩০০টি গাছ তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। এখন চলছে গাছ ছাঁটা ও পরিষ্কারের কাজ। রস ও গুড় বিক্রির টাকা দিয়ে আগামী চার মাস সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ মেটাব। চলতি বছর প্রতি কেজি গুড় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রির আশা করছি। সে হিসাবে খরচ বাদ দিয়ে তিন লাখ টাকা সঞ্চয় করা সম্ভব হবে।
নূর আলম নামে আরেক কৃষক বলেন, ৭০টি গাছ রয়েছে। গত বছর গুড় বিক্রি করেছিলাম ৫০০ টাকা দরে। আর সন্ধ্যার রস বিক্রি করেছিলাম ৪০০ টাকা এবং সকালের রস ৩০০ টাকা দরে। এবার দাম আরও বাড়বে বলে আশা করছি। সে হিসাবে তিন লাখ টাকার বেশি বিক্রি হতে পারে। খরচ বাদে যা থাকবে, সেটাই লাভ। রস ও গুড়ের ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় নতুন একটি বাগানও করেছি। সেখানে রয়েছে আরও ৯৮টি গাছ।
যশোর সদর উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের কৃষক সজন আলী বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে গাছ তোলা ও ছাঁটার কাজ চলছে। তালবাড়িয়া, ঘুরুলিয়া ও সুলতানপুরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকা গুড়ের জন্য পরিচিত। তবে গাছ কাটা, গাছ থেকে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির লোকের সংকট রয়েছে। এ কারণে বাইরে থেকে লোক এনে কাজ করাতে হচ্ছে। তারপরও গুড়ের দাম মোটামুটি ভালো। গত বছরের তুলনায় এবার আরও বেশি দাম পাওয়ার আশা করছি। সব মিলিয়ে ১০০টি গাছ রয়েছে। সব খরচ বাদ দিয়ে লক্ষাধিক টাকা আয় করা সম্ভব হবে।
সুলতানপুর গ্রামের তোফায়েল মন্ডল বলেন, শীতের মৌসুম শুরু হওয়ায় এখন ব্যস্ত সময় পার হচ্ছে। এবার ১৫০টি গাছ ছোলা ও ছাঁটার কাজ করছি। এক সপ্তাহের মধ্যে নল বসানো হবে। ১৫ দিনের মধ্যেই রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরি শুরু করা সম্ভব হবে। রস ও গুড় বিক্রির আয়েই শীতের চার মাস সংসার চালাতে হয়। গত বছর ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে গুড় বিক্রি করেছিলাম। এবার প্রতি কেজি গুড় ৮০০ টাকার কমে বিক্রি করব না। এ আয় দিয়ে ভালোভাবে সংসার চালাতে পারব।
এদিকে যশোর কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছর জেলায় ১২১ কোটি টাকার গুড় বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সরাসরি লাভবান হবেন কৃষক পরিবারগুলো। পাশাপাশি উৎপাদিত গুড়ের আয় বাড়াতে বিদেশে রফতানির প্রস্তুতিও চলছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) সমরেণ বিশ্বাস বলেন, প্রতিবছর জেলায় প্রচুর পরিমাণে খেজুরের গুড় ও পাটালি উৎপাদিত হয়। সারা দেশের মধ্যে খেজুরের গুড় ও পাটালি উৎপাদনে যশোর প্রথম। এরইমধ্যে সরকার খেজুরের গুড়কে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ মৌসুমে ১৫ হাজার ১১৪ জন কৃষক রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির কাজ করছেন। তাদের মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার ১০০ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদন সম্ভব হবে। চলতি বছর ১২১ কোটি টাকার গুড় বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলার উৎপাদিত গুড় ও পাটালি যশোরের বাজার ছাড়িয়ে অনলাইন ও অফলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাবে।
তিনি আরও বলেন, গুড় বিদেশে রফতানির প্রক্রিয়াও এরইমধ্যে শুরু হয়েছে। বিসিক গুড়ের সিরাপ ও গুড়ের নির্যাস বিদেশে রফতানির জন্য বিএসটিআইয়ের অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও কথা হয়েছে। জেলা প্রশাসন এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বিএসটিআইয়ের অনুমোদন পেলেই বিদেশে রফতানির পথ খুলবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে এসব পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ওই বাজার ধরতে পারলে অন্তত ১০ কোটি টাকার গুড় রফতানি সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
এদিকে চুয়াডাঙ্গা জেলাতেও জোরেশোরে চলছে খেজুরের রস আহরণের প্রস্তুতি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলায় ৭৫ কোটি টাকার গুড় বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।