
‘ওয়ালটন হাউজফুল অফার’ এ ফ্রিজ কিনে বিনামূল্যে ঘরভর্তি পণ্য পেলেন চট্টগ্রামের রীমা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১৩:৬

‘বৈশ্বিক সংকট, অর্থনৈতিক একীভূতকরণ এবং বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ শীর্ষক আলোচনায় অতিথিরা। ছবি: সময় সংবাদ
ইউরোপের বাজারে রফতানি ধরে রাখতে শুধু শুল্কমুক্ত সুবিধার ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য কৌশল নিতে হবে বাংলাদেশকে। এলডিসি উত্তরণের বাড়তি তিন বছর হতে পারে এ প্রস্তুতির বড় সুযোগ। তবে বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা, আমদানিনির্ভরতা ও রফতানিতে তৈরি পোশাকের একক আধিপত্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) পাশাপাশি পণ্যের বহুমুখীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সংস্কারে এখনই জোর দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
বর্তমানে বাংলাদেশের মোট পণ্য রফতানির ৪৩ দশমিক ২৫ শতাংশ যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ)। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ বাজারে রফতানির পরিমাণ ২০ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। যার প্রায় ৯২ শতাংশই তৈরি পোশাক খাতের।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ‘বৈশ্বিক সংকট, অর্থনৈতিক একীভূতকরণ এবং বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ শীর্ষক আলোচনায় অর্থনীতিবিদরা বলেন, শুধু জিএসপি প্লাস সুবিধার ওপর নির্ভর না করে ইইউর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বাজার নিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। তবে এফটিএর পাশাপাশি পণ্যের বৈচিত্র্য, প্রযুক্তির উন্নয়ন, শ্রমমান ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, ‘আমরা এখন চামড়াসহ অনেক পণ্য রফতানি করছি। ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে অনেক সুযোগ রয়েছে। তৈরি পোশাক, কৃষিপণ্য ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এসব খাতে কর্মসংস্থানও বাড়বে। আইটি খাতেও অনেক সুযোগ রয়েছে। এলডিসি উত্তরণ পেছানোর কারণে এফটিএ বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ।’
আলোচকরা বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রফতানি বাজার ধরে রাখতে এখনই কার্যকর বাণিজ্য কৌশল প্রয়োজন। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, এলডিসি উত্তরণের জন্য পাওয়া বাড়তি তিন বছর নিজেদের প্রস্তুত করার সময়। এ সুযোগ কাজে লাগাতে বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সংস্কারের মাধ্যমে রফতানি খাতকে টেকসই করতে না পারলে জিএসপি প্লাস সুবিধা নিয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দরকষাকষিও বাড়াতে হবে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, বিশ্ববাণিজ্যে শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে। ভূরাজনৈতিক বিভক্তি ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি কোন দিকে যাবে, তা এখনই বলা কঠিন। দেশের মোট বাণিজ্যের প্রায় ৫৭ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রফতানি ও প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভর করে। বাণিজ্য ঘাটতিও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রফতানি বাজারে শুল্ক বা বাণিজ্য বাধা তৈরি হলে অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ পড়বে।
আলোচকরা আরও বলেন, ইবিএর আওতায় ইউরোপীয় বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার থাকলেও এফটিএ দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি বিনিয়োগ, সেবা খাতের সম্প্রসারণ এবং ইউরোপের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাড়তি নিশ্চয়তা দিতে পারে এ চুক্তি।