
রাশিয়া ও ইউক্রেনের ‘জরুরি সতর্কতা অ্যাপে’ সাইবার হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৫

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’র রেশ কাটতে না কাটতেই আরও এক ঘূর্ণিঝড়ের নিশানায় ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ। ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ আরও শক্তিশালী হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত নিয়েছে। এটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার রাত নাগাদ প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে ভারতের অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
সোমবার (২ নভেম্বর) আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমানের স্বাক্ষরিত আবহাওয়া অধিদফতরের ৮-নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি ১৪ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮১ দশমিক ৮ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছে।
সোমবার সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৪৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
‘মুরাসু’র কারণে বাংলাদেশে বড় কোনো প্রভাব না আজ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। একই সঙ্গে তাপমাত্রাও সামান্য কমতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’র রেশ কাটতে না কাটতেই আরও এক ঘূর্ণিঝড়ের নিশানায় ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ। গত সপ্তাহতেই অন্ধ্রের দিকে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। এবার আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। এই ‘মুরাসু’ শব্দটির অর্থ কী? এমন প্রশ্ন অনেকেরই মনে।
প্রতিবেদন অনুসারে, এটি একটি তামিল শব্দ, যার অর্থ হলো ড্রাম বা রণঢাক জাতীয় বাদ্যযন্ত্র। এই বাদ্যযন্ত্র দিয়ে দুর্যোগ সম্পর্কে বা কিছু ঘোষণা করতে, সবাইকে সচেতন করা হয়ে থাকে। অনেক সময় এটিকে যুদ্ধ বাদ্য হিসেবেও ধরে নেওয়া হয়। সঙ্গম সাহিত্য ও ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, মুরাসু মূলত তিন ধরনের হয়ে থাকে।
এর মধ্যে একটি হলো, বীরা মুরাসু, যা যুদ্ধের উদ্দেশে ব্যবহৃত রণদামামা বা সামরিক ড্রাম হিসাবে ব্যবহৃত হতো। আরেকটি হলো, ত্যাগা মুরাসু। এটি উপহার দেয়া বা দরিদ্র মানুষদের খাদ্য ও সামগ্রী দেয়ার আহ্বানে ব্যবহৃত বাদ্য। তৃতীয়টি, ন্যায় মুরাসু। এটি মূলত, বিচারকার্য পরিচালনা এবং জনগণের অভিযোগ শোনার জন্য ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র।