
ইসরাইলকে আর্থিক সহায়তা বন্ধ করবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ২০:২৯

ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট। ছবি: আনাদোলু
ইসরাইলে সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের নেতা গাদি আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দেওয়ার পর আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বৈঠকে বসছেন বিভিন্ন দলের নেতারা।
এদিকে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ হারানো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের নেতৃত্বে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। খবর এএফপির।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়নি। আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর শিবির পেয়েছে ৫৩টি আসন, যার মধ্যে তার লিকুদ পার্টির আসন ২৭টি।
১২০ আসনের পার্লামেন্টে ফিলিস্তিনি আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দলগুলোর জোট রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে। ফলে সরকার গঠনে তারা সম্ভাব্য ‘কিংমেকার’ হয়ে উঠেছে। সরকার গঠন প্রশ্নে আরব দলগুলো এরই মধ্যে আইজেনকোটকে সমর্থন জানিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিরোধী দলগুলোর মধ্যে প্রথম বৈঠক বসতে যাচ্ছে। হার্জলিয়ায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আইজেনকোটের দল ইয়াশার জানিয়েছে, তথাকথিত ‘চেঞ্জ ব্লক’-এর নেতারা জোটের পরবর্তী পদক্ষেপ সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা করবেন।
এদিকে নেতানিয়াহু আরব দলগুলোকে বাদ দিয়ে একটা ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান। গত সোমবার (২ নভেম্বর) তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় দলের নেতা হিসেবে পরবর্তী জোট সরকারের নেতৃত্ব তাঁরই পাওয়া উচিত।
লিকুদ পার্টির টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইহুদি জনগোষ্ঠীর স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ লিকুদকে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে এবং আমাকে পরবর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বেছে নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের অংশীদারদের পাশাপাশি এমন যেকোনো দলের সঙ্গে একটি বৃহত্তর সরকার গঠন করতে চাই, যারা যোগ দিতে আগ্রহী এবং সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না।’
তবে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তার অভিযোগ, এসব দল সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে এবং ইহুদি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার পর ইসরাইলি আরব দলগুলোর নেতারা সর্বসম্মতভাবে ওই হামলার নিন্দা জানিয়েছিলেন। তবে তারা ফিলিস্তিনি ইসলামপন্থি সংগঠন হামাসকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যায়িত করেননি।
আরব দলগুলোর মধ্যে রা'আম পার্টির নেতা ইসরাইলকে ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও অন্য দলগুলোর নেতারা এই সংজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের আগে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দুই তালিকার নেতারা অভিন্ন লক্ষ্য তুলে ধরেছিলেন। তাদের ভাষ্য, তাঁরা একটি ‘বর্ণবাদী’ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চান।