
ইসরাইলকে আর্থিক সহায়তা বন্ধ করবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
ফয়সাল হাসান
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:০

লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ব্যালট প্রসেসিং সেন্টারে খাম থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটগুলো বের করা হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের নজর থাকবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে।
এ নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ৪৩৫টি আসনের সবকটি এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কাছ থেকে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রত্যাশা করছে ডেমোক্র্যাটরা।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে:
প্রথম ফলাফল কখন আসবে?
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোটকেন্দ্রগুলো বন্ধ হতে শুরু করার পর প্রাথমিক ফলাফল জানা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের কয়েকটি এলাকায় স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টায়) প্রথম ভোটগ্রহণ শেষ হবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যাজুড়েই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে ফলাফল আসতে থাকবে। তবে কিছু অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের ভোট গণনার ফল প্রকাশের ওপর নির্ভর করে কয়েকটি নির্বাচনের ফল বুধবার (৪ নভেম্বর) কিংবা তার পরেও জানা যেতে পারে।
তবে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের অর্থ এই নয় যে কোনো প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচন কর্মকর্তারাই ভোট গণনার ফলাফল প্রকাশ করেন এবং দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এর মতো সংবাদ সংস্থাগুলো তা বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করে যে কোনো একটি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলাফল কী হতে পারে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কোনো নির্বাচনের ফল নির্ধারণে কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিনও লাগতে পারে। রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে, নাকি ডেমোক্র্যাটরা এক বা উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে, তা নিশ্চিত হতে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে কখন কোন অঙ্গরাজ্যের ভোটকেন্দ্র বন্ধ হবে?
প্রথমে ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির কয়েকটি এলাকায় ভোটকেন্দ্র বন্ধ হবে।
কোন অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনায় বেশি সময় লাগতে পারে?
আলাস্কা: এই অঙ্গরাজ্যে ‘র্যাঙ্কড-চয়েস’ ভোটিং পদ্ধতি চালু রয়েছে। কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে বিজয়ী নির্ধারণে অতিরিক্ত কয়েক দফা ভোট গণনা করতে হয়। নির্বাচনের রাতে সরাসরি ভোট ও নির্বাচনের দিন দেওয়া আগাম ভোটের ফল প্রকাশ করা হলেও ডাকযোগে আসা ব্যালটের ফল পরবর্তীতে প্রকাশ করা হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে পরদিন সকাল নাগাদ প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোট গণনা করা হয়েছিল। বাকি ভোটের হিসাব পরবর্তী কয়েক দিনে প্রকাশ করা হয়।
ক্যালিফোর্নিয়া: এই অঙ্গরাজ্যে মূলত ডাকযোগে ভোটগ্রহণ করা হয়। ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পরও বিপুলসংখ্যক ব্যালট এসে পৌঁছায় এবং সেগুলো যাচাই করতে কয়েক দিন সময় লাগে। ফলে প্রতিনিধি পরিষদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর ফল জানতে কয়েক দিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহও লেগে যেতে পারে।
অ্যারিজোনা: অঙ্গরাজ্যটির কয়েকটি কাউন্টিতে ভোটাররা নির্বাচনের দিন ডাকযোগে ভোটের ব্যালট জমা দেন। গণনার আগে এসব ব্যালটে ভোটারের স্বাক্ষর যাচাই করতে হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে এ কারণে ফল প্রকাশে কয়েক দিন দেরি হতে পারে।
নেভাডা: অঙ্গরাজ্যটির সব নিবন্ধিত ভোটারের কাছে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো হয়। নির্বাচনের দিন পোস্টমার্ক করা ব্যালট পরবর্তী চারদিন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া স্বাক্ষরসংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকলে তা সংশোধনের জন্য ভোটাররা নির্বাচনের পর ছয়দিন সময় পান। ফলে ফলাফল পরবর্তী সপ্তাহ পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে।
মেইন: আলাস্কার মতো এই অঙ্গরাজ্যেও র্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিং পদ্ধতি চালু রয়েছে। দুই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে ব্যালটগুলো আরও গণনার জন্য অঙ্গরাজ্যের রাজধানী অগাস্টায় পাঠাতে হয়। এতে চূড়ান্ত ফল প্রকাশে দেরি হতে পারে।
ওয়াশিংটন: এই অঙ্গরাজ্যেও ডাকযোগে ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচনের দিন পোস্টমার্ক করা ব্যালট পরবর্তী কয়েকদিন পর্যন্ত গণনা করা যায়। ফলে ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হতে পারে।
কোন অঙ্গরাজ্যে দ্রুত ফলাফল প্রকাশ হতে পারে?
যেসব অঙ্গরাজ্যে তুলনামূলক দ্রুত ফলাফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো হলো:
ফ্লোরিডা: এখানে সাধারণত দ্রুত ভোট গণনা করা হয়। সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫১ মিনিটের মধ্যে (গ্রিনিচ মান সময় পরদিন ০৩:৫১) প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা করা হয়েছিল।
ওহাইও: অঙ্গরাজ্যটি সাধারণত আগাম ও অনুপস্থিত ভোটের প্রায় সব ফলাফল প্রাথমিক ঘোষণাতেই প্রকাশ করে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩৬ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ০০:৩৬) প্রথম ফলাফল প্রকাশিত হয়েছিল, যা ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার মাত্র ছয় মিনিট পর। রাত ১১টা ৩ মিনিটের মধ্যে (গ্রিনিচ মান সময় ০৪:০৩) ৯০ শতাংশ ভোটের ফল প্রকাশ করা হয়েছিল।
নর্থ ক্যারোলাইনা: যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের এই অঙ্গরাজ্যেও রাতের প্রথম দফার ফলাফলে ডাকযোগে আসা ভোটের অধিকাংশ হিসাব প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩৬ মিনিটের মধ্যে (গ্রিনিচ মান সময় ০৪:৩৬) ৯০ শতাংশ ভোটের ফল প্রকাশিত হয়েছিল।
পেনসিলভানিয়া: ২০২৪ সালে স্থানীয় সময় রাত ৮টায় (গ্রিনিচ মান সময় ০১:০০) ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রথম ফলাফল আসতে শুরু করে। রাত ১০টা ১২ মিনিটের মধ্যে (গ্রিনিচ মান সময় ০৩:১২) অর্ধেক ভোটের ফল প্রকাশিত হয়। পরদিন রাত ১২টা ৪৮ মিনিটের মধ্যে (গ্রিনিচ মান সময় ০৫:৪৮) ৯০ শতাংশ ভোটের ফল প্রকাশ করা হয়েছিল।
উইসকনসিন: ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৬ নভেম্বর স্থানীয় সময় রাত ২টা ২২ মিনিটের মধ্যে (গ্রিনিচ মান সময় ০৭:২২) অঙ্গরাজ্যটির ৯০ শতাংশ ভোটের ফল প্রকাশিত হয়েছিল।
তাহলে বিজয়ী কে, তা কখন জানা যাবে?
নির্বাচনের রাতেই অনেক আসনের ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হতে পারে। তবে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের শেষ দুই বছরে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা জানতে কয়েকদিন সময় লেগে যেতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে, আলাস্কার সিনেট নির্বাচনে র্যাঙ্কড-চয়েস পদ্ধতিতে ভোট গণনার প্রয়োজন হলে পরবর্তী দফার গণনা ১৮ নভেম্বর নির্ধারিত রয়েছে।
সব নির্বাচনের ফল জানার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। যেসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা একতরফা, সেখানে সব ব্যালট গণনা শেষ হওয়ার আগেই সংবাদমাধ্যমগুলো বিজয়ী ঘোষণা করতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রত্যয়ন বা সার্টিফিকেশনের কাজ পরে সম্পন্ন হয়। তাই দ্রুত ফল প্রকাশ হওয়া মানেই দ্রুত চূড়ান্ত ফল ঘোষণা নয়।
২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নিশ্চিত হতে আটদিন সময় লেগেছিল।
নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করা হলে কী হবে?
কোনো আসনে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান খুব কম হলে অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোট পুনর্গণনা শুরু হতে পারে। আবার কোনো প্রার্থীর আবেদনের ভিত্তিতেও পুনর্গণনা করা হতে পারে।
প্রার্থীদের আদালতে নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও রয়েছে। এ ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার কারণে চূড়ান্ত ফল প্রকাশে আরও বিলম্ব হতে পারে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন ট্রাম্প। চূড়ান্ত ফলাফল মেনে নেবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমি মেনে নেব।’
তবে কেবল নির্বাচনের ফল নিজের পছন্দমতো না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কংগ্রেস নির্বাচনের ফল বাতিল করতে পারেন না। দেশটির প্রতিটি অঙ্গরাজ্য নিজ নিজ নির্বাচনের আয়োজন ও ফলাফল প্রত্যয়নের দায়িত্ব পালন করে। আর আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
ডেমোক্র্যাট কৌশলবিদ মালি স্মিথ আল জাজিরাকে বলেন, ‘সব অঙ্গরাজ্যই নির্বাচন পরিচালনা করে। আদালতও স্বীকার করে যে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর।’
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিজ নিজ সদস্যদের নির্বাচন-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির চূড়ান্ত ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কক্ষ দুটির হাতেই রয়েছে।
বিরোধের ধরন অনুযায়ী, ভোট পুনর্গণনা ও আইনি চ্যালেঞ্জের নিষ্পত্তিতে কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ কিংবা আরও বেশি সময় লাগতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা