
মক্কায় হুতিদের ছোড়া ড্রোন ভূপাতিতের দাবি সৌদি জোটের
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:২০

কোনো জোট এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ইসরাইলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। তবে সরকার গঠনের জন্য কোনো জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়নি। ১২০ আসনবিশিষ্ট ইসরাইলি সংসদে (নেসেট) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পাওয়ার প্রক্রিয়ায় দেশটি এখন কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস পর্যন্ত রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।
ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির (সিইসি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে, মধ্যপন্থি গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন।
সিইসি প্রকাশিত ফলাফলে আরব দলীয় জোট ‘রাআম’ এবং ‘জয়েন্ট লিস্ট’ সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন জিতে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে কিংমেকার ভূমিকা পালনের মতো অবস্থানে উঠে এসেছে।
ভোটের এই ফলাফল সরকার গঠন নিয়ে দীর্ঘ ও জটিল আলোচনা শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইসরাইলে রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিভাজন এতটাই গভীর যে আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হওয়া কোনো জোট গঠনও প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এ প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।
এরপরও কোনো দল কোনো জোট থেকে বেরিয়ে অন্য জোটকে সমর্থন দিলে সরকার গঠন একেবারে অসম্ভব নয়। এই অবস্থায় কোনো জোট ক্ষমতায় গেলেও বড়জোর এক বছর বা তার কিছু বেশি সময় টিকে থাকতে পারে। যদি দলগুলোর নেতারা আগামী ১২ সপ্তাহের মধ্যে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হন, তবে ইসরাইলিদের আবারও ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে।
চলমান অচলাবস্থা কাটানোর একটি উপায় হলো নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি নেসেটে বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়ে এমন একটি জোট গঠন করতে পারে, যাতে মধ্যপন্থি ও ডানপন্থি বিরোধী দলগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মধ্যে থাকতে পারে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল গাদি আইজেনকোটের ‘ইয়াশার’, আভিগদোর লিবারম্যানের ‘ইসরাইল আওয়ার হোম’ এবং নাফতালি বেনেটের ‘টুগেদার’। এ ধরনের একটি জোট ১২০ পার্লামেন্টে ৬৬টি আসন নিশ্চিত করবে, যা সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট।
তবে, এই মুহূর্তে এই উপায়টি অত্যন্ত ক্ষীণ বলেই মনে হচ্ছে; কারণ এ ধরনের সরকার গঠন হলে নেতানিয়াহুকে সম্ভবত তার রাজনৈতিক মিত্র—অর্থাৎ কট্টর ডানপন্থি এবং অতি-অর্থোডক্স ইহুদি দলগুলোকে ত্যাগ করতে হবে।
এ ছাড়া, বিরোধী দলগুলো তাদের ভোটারদের দেয়া প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করা, যেটি এই সমঝোতার বিপরীত। কয়েক সপ্তাহ ধরে দীর্ঘ আলোচনার পরও যদি কোনো পক্ষই সরকার গঠন করতে সক্ষম না হয়, তবে শেষ বিকল্প হিসেবে একটি ঐক্য সরকার গঠিত হতে পারে। ইরান বা অন্য কোনো পক্ষের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে, সেই পরিস্থিতি উভয় পক্ষকে কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারে।
ফলাফলের ভিত্তিতে সবচেয়ে বড় দলের নেতা এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক জোটের প্রধান হওয়ায় নেতানিয়াহু ক্ষমতা ভাগাভাগি বা পর্যায়ক্রমিক নেতৃত্বের ব্যবস্থায় সম্মত হবেন এমন সম্ভাবনা কম। তারপরও আইজেনকোটের জোটের সঙ্গে এমন কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না, যেখানে শীর্ষ পদটি (প্রধানমন্ত্রী) পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পক্ষের হাতে থাকবে। এটি হলে পরিবর্তনপন্থি জোটের নেতাদের আবারও ভোটারদের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতে হবে এবং নেতানিয়াহুর অধীনে কাজ করতে হবে।
সবশেষ নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোটের আসন সংখ্যা আগের ৬৪টি থেকে কমে ৫৩টিতে নেমে এসেছে। তবে ইসরাইলের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্ব পালন করা এই নেতাকে দক্ষ রাজনীতিবিদ হিসেবে মনে করা হয়। তিনি বিরোধী দলগুলোর সদস্যদের নিজের জোটে টেনে তাদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারেন।
যুদ্ধবাজ এই্ প্রধানমন্ত্রী আগেও এমনটি করেছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে তিনি এমনটি করেছিলেন, ওই নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়েছিলেন। তবে সেই সময়ে তিনি যে জোটের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন, তাদের ব্যবধান ছিল অনেক কম; ফলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে বিভাজন করার জন্য তার খুব বেশি দলত্যাগী সদস্যের প্রয়োজন পড়েনি।
প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ যদি সবার আগে আইজেনকোটকে সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তখন তিনি ইয়াশার-এর মতো মিত্র দলগুলোকে নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন। সে দলের মধ্যে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা এবং ‘ইসরাইল আওয়ার হোম’। এ ছাড়া, ইসরাইলের দুটি আরব দল ‘রাআম’ এবং ‘জয়েন্ট লিস্ট’ সরকারের আনুষ্ঠানিক অংশ না হলেও, তারা এই সরকারকে সমর্থন দিতে পারে।
সবশেষ ভোট গণনা অনুযায়ী, আইজেনকোটের জোটের আসন সংখ্যা ৪৮টি এবং আরব দলগুলোর আসন সংখ্যা ১৯টি। ফলে সব মিলিয়ে তারা ৬৭টি আসনে সমর্থন নিতে পারলে সরকার গঠন করতে কোনো অসুবিধা হবে না।
তবে আইজেনকোট যদি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেন, তাহলে অনেক ইসরাইলির কাছে তা মেনে নেয়া কঠিন হবে; কারণ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরাইলের আরব সংখ্যালঘুদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আরও কঠোর হয়েছে।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন। পরে এমন একজন প্রার্থীকে সরকার গঠনের জন্য মনোনীত করবেন, যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে তিনি মনে করেন।
যদি কোনো প্রার্থী ব্যর্থ হন, তবে অন্য কেউ চেষ্টা করতে পারেন; আর তিনিও যদি ব্যর্থ হন, তবে নেসেট অন্য কাউকে মনোনীত করতে পারে। এই প্রক্রিয়ার জন্য প্রায় ১০০ দিনের একটি সময়সীমা রয়েছে। যদি কেউ সফল না হন, তবে আরেকটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
ভোটের পর দিন জেরুজালেমে হারজোগ বলেছেন, ইসরাইলে আরেকটি নির্বাচন এড়াতে সম্ভাব্য সবকিছুই করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘সবার কাছে আমার প্রত্যাশা, এখানে আলোচনায় আসা প্রত্যেকেই খোলা মন নিয়ে আসবেন।’
সূত্র: এনডিটিভি