
মক্কায় হুতিদের ছোড়া ড্রোন ভূপাতিতের দাবি সৌদি জোটের

বৃহস্পতিবার দোহায় সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ের সময় কথা বলেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি। ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ কিংবা নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতে অর্থায়নের অভিযোগ নাকচ করেছে কাতার। একই সঙ্গে ইসরাইলি রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ এনেছে দেশটি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, ‘ইসরাইলের নির্বাচনে কাতার হস্তক্ষেপ করেছে কিংবা নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করেছে, এমন অভিযোগ আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে নাকচ করছি।’
আল-আনসারি বলেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু থেকে শুরু করে দেশটির বামপন্থি রাজনৈতিক শিবির এবং আরব ভোটারদের অর্থায়নের অভিযোগও কাতারের বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে।
তিনি ইসরাইলি রাজনীতিকদের কাতারকে সব সমস্যার জন্য দায়ী করা বন্ধ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বলেন, ইসরাইলে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তাদের ফিলিস্তিনিদের অধিকার স্বীকার করতে হবে। এর মধ্যে ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারও রয়েছে।
ইসরাইলে চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বা বিরোধী কোনো জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। অর্থাৎ প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের ম্যাজিক ফিগার থেকে পিছিয়ে রয়েছে।
ইসরাইলের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও তাদের মিত্ররা পার্লামেন্টে ৫৩টি আসন পেয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন।
সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮ আসন। নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে ফিলিস্তিনি আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল ‘রা’আম ও ‘জয়েন্ট লিস্ট’। দল দুটি পেয়েছে ১৯টি আসন, যা তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
আরব দলগুলোর এমন ফলের পর নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন ‘চুরি’ করার অভিযোগ তুলেছে। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন মতে, কাতার ও তুরস্কসহ বিদেশি পক্ষগুলো নির্বাচনে ফিলিস্তিনি আরব জনগোষ্ঠীর ভোটার উপস্থিতি প্রভাবিত করতে ইসরাইলে অর্থ পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি।
এমন সন্দেহ থেকে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এ বিষয়ে শিন বেত প্রধানকে চিঠি দেন নির্বাচন কমিটির প্রধান সলবার্গ। কমিটির চেয়ারম্যানের নির্দেশের পর নির্বাচনে বিদেশি অর্থায়ন ও হস্তক্ষেপের সন্দেহ তদন্তও শুরু করেছে শিন বেত।