
মক্কায় হুতিদের ছোড়া ড্রোন ভূপাতিতের দাবি সৌদি জোটের

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: রয়টার্স
ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য যে কোনো সংঘাতের জন্য রাশিয়া প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে একই সঙ্গে তার দেশ পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কোনো যুদ্ধ চায় না বলেও জানিয়েছেন তিনি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরের সঙ্গে ফোনালাপের পর গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এসব কথা বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট। পুতিন জানান, ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে নেয়া পদক্ষেপগুলোকে তিনি সমর্থন করেন। তবে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কোনো পক্ষই জয়ী হতে পারবে না বলে সতর্ক করে দেন তিনি।
পশ্চিমা দেশগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে পুতিন বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত, তবে ইউরোপের সঙ্গে কোনো সংঘাত চাই না। তবে তাদের কেউ যদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চায়, তাহলে নিতে পারে।’ তিনি আরও দাবি করেন, রাশিয়ার কৌশলগত পরাজয় নিশ্চিত করার যে লক্ষ্য পশ্চিমারা নিয়েছিল, তা অর্জনে তারা ব্যর্থ হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের দুই শীর্ষ নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন পুতিন। ফোনালাপের উদ্যোগ ইউরোপীয় নেতারাই নিয়েছিলেন উল্লেখ করে পুতিন জানান, এই আলোচনা সঠিক পথে এগোনোর একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
তবে রাশিয়া ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ না চাওয়ার কথা বললেও বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন ‘হাইব্রিড’ হামলার মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলো ও ন্যাটোর সামরিক সক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনাও রয়েছে।
সম্প্রতি ফাঁস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ন্যাটোর জোরালো প্রতিক্রিয়া যাচাই করতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জোটটির পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে হামলা চালাতে পারে মস্কো। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, বাল্টিক অঞ্চলের কোনো একটি দেশে ছোট পরিসরে স্থল অভিযান চালিয়ে অথবা পূর্ব ইউরোপজুড়ে সাইবার হামলা চালিয়ে পুতিন নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন।
দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের সঙ্গে পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনায় পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর বিস্তার ঠেকানো এবং জোটটির উপস্থিতি কমানোর দাবি জানাবে রাশিয়া। পুতিন এই সম্প্রসারণকেই বর্তমান যুদ্ধের মূল কারণ হিসেবে বিবেচনা করেন। এর অংশ হিসেবে পোল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও ফিনল্যান্ড থেকে ন্যাটো সেনা প্রত্যাহারের দাবি উঠতে পারে।
এদিকে রুশ হুমকির মুখে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং সতর্ক করে বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির শত্রুরা হামলা চালানোর মতো শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারে।
দ্য টেলিগ্রাফ-এ লেখা এক নিবন্ধে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ঠেকাতে হলে আমাদের সেই পরিস্থিতির জন্য উপযুক্ত প্রস্তুতি নিতে হবে। এর অর্থ হলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা এতটা বাড়ানো, যাতে প্রতিপক্ষ হামলার সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে অন্তত দুবার ভাবে। আর তাতে কাজ না হলে ব্রিটেন যেন যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।’