
সাড়ে ৯ হাজার প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল সৌদি আরব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ৬:২৭

গাদি আইজেনকোট। ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলের পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বাদ দিয়ে তাকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ।
রাষ্ট্রপতির মুখপাত্র জানিয়েছেন, শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আইজেনকোটকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান হারজোগ। রোববার (৮ নভেম্বর) এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব বা ম্যান্ডেট তুলে দেয়া হবে।
এক্সে দেয়া এক পোস্টে আইজেনকোট লিখেছেন, ‘এখনই একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের সময়। আমরা যেন এই দায়িত্ব পালনের যোগ্য হই, তা নিশ্চিত করতে আমি আমার সাধ্যমতো সবকিছু করব।’
এর আগে গত ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে কোনো দল বা জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনের জন্য কাকে দায়িত্ব দেয়া হবে, তা নির্ধারণে চলতি সপ্তাহে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেন হারজোগ।
আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোসহ প্রায় ৬৭ জন আইনপ্রণেতা পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য আইজেনকোটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন ৪৬ জন আইনপ্রণেতা।
সরকার গঠনের জন্য নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে অন্তত ৬১টি আসন নিয়ে জোট গঠন করতে হবে। এ জন্য আইজেনকোটকে ২৮ দিন সময় দেয়া হবে। প্রয়োজনে এই সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে।
অক্টোবরের নির্বাচনে আইজেনকোটের চারদলীয় জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও ধর্মীয় জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন থেকে দুই জোটই পিছিয়ে রয়েছে। এ নির্বাচনে ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে।
তবে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন আইজেনকোট। ওই দলগুলোর সমর্থন পেলে তিনি ৬৭ আসনের জোট গঠন করতে পারবেন। এছাড়া অতি-গোঁড়া ইহুদি দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও শাসকে পাশে পেলে ঠিক ৬১টি আসন নিয়ে সরকার গঠন সম্ভব হবে।
অবশ্য সংসদে আস্থা ভোটে জয়ী হতে পারলে ৬১টির কম আসন নিয়েও সরকার গঠন করতে পারবেন আইজেনকোট।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক নূর ওদেহ জানিয়েছেন, আইজেনকোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে ‘অনুমানযোগ্য পথই অনুসরণ করেছেন’ প্রেসিডেন্ট হারজোগ। কারণ, সবচেয়ে বেশি আইনপ্রণেতার সমর্থন পেয়েছেন আইজেনকোট।
ওদেহ বলেন, আইজেনকোটের সামনে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ। তাকে এমন একটি সরকার গঠন করতে হবে, যা নেসেটে আস্থা ভোটে জয়ী হতে পারে। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারের সময় দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো থেকে খুব বেশি সরে আসা যাবে না। পাশাপাশি নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোটের বিরোধিতাও মোকাবিলা করতে হবে।
আইজেনকোট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে হারজোগ অন্য একজনকে এ দায়িত্ব দেবেন। দ্বিতীয় মনোনীত প্রার্থীও ব্যর্থ হলে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা তৃতীয় একজন প্রার্থীকে সমর্থন জানাতে পারবেন। ওই প্রার্থীকে সরকার গঠনের জন্য শেষবারের মতো ১৪ দিন সময় দেয়া হবে।
এরপরও সরকার গঠন সম্ভব না হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজন করা হবে। সে ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
আইজেনকোট ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর প্রধান ছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম আট মাস নেতানিয়াহুর যুদ্ধ মন্ত্রিসভায় পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
১১টি আসনের অধিকারী আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্টের জ্যেষ্ঠ সদস্য আহমদ তিবি শনিবার আল জাজিরাকে বলেন, হারজোগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিতই ছিল।
আইজেনকোট ও নেতানিয়াহুর মধ্যে সম্ভাব্য ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম যে প্রেসিডেন্ট একটি জাতীয় ঐক্য সরকারের দিকে এগিয়ে যাবেন।’
তবে শেষ পর্যন্ত আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলো আইজেনকোটকে ‘উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে’ সমর্থন দিয়েছে।
তিবি মনে করেন, আরব দলগুলোর বাহ্যিক সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের দিকে এগোচ্ছেন আইজেনকোট। এমন সরকার আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ‘স্বপ্নের সরকার’ না হলেও নেতানিয়াহু, ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোই তাদের অগ্রাধিকার।
হারজোগের সিদ্ধান্ত ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছিলেন, আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থনে বিরোধী জোট সরকার গঠন করলে ইসরাইলের পতন ঘটবে।
আগে থেকে ধারণ করা এক ভিডিও ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসলামপন্থীদের ওপর নির্ভরশীল এমন একটি সরকার ইসরাইল রাষ্ট্রকে ভেতর থেকে ভেঙে দেবে, যেমনটা ইউরোপীয় দেশগুলোতে ঘটছে, এবং তার চেয়েও অনেক বেশি খারাপ কিছু করবে।’
এর মাধ্যমে তিনি কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিবিদদের বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি করেছেন। এসব রাজনীতিবিদ মিথ্যা দাবি করে থাকেন, ইউরোপের কিছু অংশ ইসলামী আইনের অধীনে চলে এসেছে।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের জবাবে তিবি বলেন, ‘নেতানিয়াহু আমাদের সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসবাদের সমর্থক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এর জবাবে আমি বলছি, নেতানিয়াহু ইসরাইল ও এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী এবং সন্ত্রাসবাদের, বিশেষ করে পশ্চিম তীর ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদি সন্ত্রাসবাদের প্রধান সমর্থক।’
আল জাজিরার প্রতিবেদক নূর ওদেহ বলেন, আইজেনকোট স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠন করতে চান না। তবে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার ক্ষেত্রে আইজেনকোট ও আরব দলগুলোর মধ্যে যথেষ্ট জোরালো অভিন্ন কারণ রয়েছে।