
ফ্রান্সে সড়কে ডাস্টবিন ফেলে বিক্ষোভ, টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জে ছত্রভঙ্গের চেষ্টা পুলিশের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:৫৫

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতিরা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের শাসনবার পরিচালনার মূল কেন্দ্র এডেনের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের সঙ্গে চলামান সংঘাত বন্ধে ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের বৈধশাসকের স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছে দেশটির ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। বিষয়টির সঙ্গে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিরা জানিয়েছে, এই অর্থ সৌদি-নেতৃত্বাধীন বিমান হামলা এবং দীর্ঘস্থায়ী অবরোধের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে কাজ করবে।
প্রতিবেদন মতে, লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর সৌদি আরব সংঘাত বন্ধে আলোচনার সম্ভাবনা যাচাইয়ের লক্ষ্যে হুতিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে জানা গেছে।
হুতিদের এই দাবি মেনে নেয়া রিয়াদের বেশ কঠিন। বিশেষ করে হুতিদের ইয়েমেনের বৈধশাসক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার অর্থ হবে- এমন একটি গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেয়া, যাদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব বছরের পর বছর ধরে লড়াই করে আসছে। একই সঙ্গে এই ঘটনা সৌদি আরব সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারকে দুর্বল করে দেবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমনে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পেক্ষাপটে এই আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতিরা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের শাসনবার পরিচালনার মূল কেন্দ্র এডেনের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের ভূখণ্ড ও অবকাঠামোর ওপর হামলা দেশটির ওপর চাপ বাড়িয়েছে।
হুতিদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা অর্জন না করা পর্যন্ত সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কোনো চুক্তিতে পোঁছাতে অনিচ্ছুক বলে জানা গেছে। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনে অতিরিক্ত সৌদি সেনা পাঠানো হলে তাতে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। একইসঙ্গে এটি নিজ দেশে সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে।
সৌদি আরব হুতিবিরোধী অভিযানে আঞ্চলিক মিত্রদের থেকেও পর্যাপ্ত সহায়তা পাচ্ছে না। সংযুক্ত আরব আমিরাত হুতি-বিরোধী অভিযান থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান ইয়েমেনের ভেতরে অভিযানে অংশ নেয়ার খবর নাকচ করে দিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রও ইয়েমেনে সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছে।
ইয়েমেন সংঘাতের সুদূরপ্রসারী আঞ্চলিক প্রভাব রয়েছে। কারণ ইরানের সাথে হুতিদের সম্পর্ক এবং সৌদি অবকাঠামো ও নৌ-চলাচল রুটের প্রতি হুমকি সৃষ্টির সক্ষমতা। গত অক্টোবরে এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিল, গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তাসহ ইরানের সমর্থন হুতি গোষ্ঠীকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আরও উন্নত ও জটিল আক্রমণ চালাতে সাহায্য করেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, হুতিদের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণের চেয়েও বেশি কিছু অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এটি হুতিদের রাজনৈতিক মর্যাদা, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের ভবিষ্যৎ এবং সৌদি আরবের দক্ষিণ সীমান্তে নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো সামনে আসবে।
তবে চুক্তি নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি। যেসব দাবির কথা শোনা যাচ্ছে, সেগুলো আলোচনার অংশমাত্র; ফলে এগুলো সৌদি আরব মেনে নেবে এখনই বলার সময় হয়নি।
সূত্র: দ্য খামা প্রেস