
হামলা বন্ধের জন্য হুতিদের কি ১ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:২

উগান্ডায় গত ১৫ বছরে অন্তত ৩৮ জনকে হত্যা করে তাদের মাংস খাওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। সোমবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উগান্ডার প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই গ্রেফতারের খবর জানান।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম মুজুরিজি মোসেস। তিনি ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির মাসাকা, ইবান্দা ও কাজো জেলায় এসব নৃশংস অপরাধ সংঘটিত করেছেন বলে জানা গেছে। সেনাপ্রধান মুহুজি কাইনেরুগাবা তাঁকে উগান্ডার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর ও নৃশংস সিরিয়াল কিলার ও নরখাদক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে জেনারেল কাইনেরুগাবা লিখেছেন, 'আমি আমাদের নাগরিকদের আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে নিরাপত্তা বাহিনী কুখ্যাত মুজুরিজি মোসেসকে গ্রেফতার করেছে। সে উগান্ডার ইতিহাসের সবচেয়ে কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার ও নরখাদক। ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মাসাকা, ইবান্দা ও কাজো এলাকায় সে ৩৮ জনকে হত্যা করে খেয়েছে। তাকে প্রকাশ্যে বিচার করা হবে এবং অবশ্যই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।'
স্থানীয় তদন্তকারীদের মতে, মোসেস বছরের পর বছর ধরে অত্যন্ত নৃশংস উপায়ে এই হত্যাকাণ্ডগুলো চালিয়ে আসছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল মূলত পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন করা। তিনি গভীর রাতে বাড়িঘেরাও করে কিংবা তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে চাপাতি বা রামদা দিয়ে কুপিয়ে মানুষদের হত্যা করতেন। তার নৃশংস হত্যাকাণ্ডগুলো মধ্যে একটির কথা উল্লেখ করা হয়। এক চার্চের যাজকের বাড়িতে ঢুকে ভেতরে থাকা সবাইকে কুপিয়ে হত্যা করে মোসেসের দল।
হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি প্রেমের ফাঁদে ফেলে কিংবা মিথ্যা সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি দিয়েও অনেককে ডেকে এনে হত্যা করতেন বলে জানা গেছে। এর আগেও একাধিকবার তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছিলেন, কিন্তু বিতর্কিত পরিস্থিতিতে হয় পালিয়ে যান, না হয় ছাড়া পেয়ে যান।
সংবাদমাধ্যম মেট্রোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেফতারের পর অভিযুক্ত মোসেসের বাড়ি থেকে বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া ওই অঞ্চলের বহু পুরোনো ও অমীমাংসিত নিখোঁজ সংক্রান্ত মামলা ও হত্যাকাণ্ডের রেকর্ড পুনরায় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এসব ঘটনার সঙ্গে মোসেসের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ ও আইনি সত্যতা আদালতের বিচারাধীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য ও বিস্তারিত প্রমাণ উন্মোচনে উগান্ডার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।