
ইরানে সম্ভাব্য হামলার জন্য মিত্রদের প্রস্তুত থাকতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:১৮

ছবি: সংগৃহীত
“ভারত খুব শক্তিশালী। আপনি কি ‘ধুরন্ধর’ সিনেমাটি দেখেছেন? দেখুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন ভারতের গোয়েন্দা ব্যবস্থার কতটা উন্নতি হয়েছে”– সীমান্তে চলতে থাকা ভারত-চীন সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ে ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের (আইটিবিপি) প্রধান শত্রুজিৎ সিং কপূরের মন্তব্যের এই ভাবেই পাল্টা জবাব দিয়েছেন অরুণাচল প্রদেশের মন্ত্রী এবং বিজেপি বিধায়ক বালো রাজা।
ভারতের গোয়েন্দা ব্যবস্থার সক্ষমতা বোঝাতে বলিউডের স্পাই-থ্রিলার ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার প্রসঙ্গও টানেন বালো রাজা। তার বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, সম্প্রতি অরুণাচল সীমান্তে চীনা সেনার সঙ্গে ভারতীয় বাহিনীর সংঘাতের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন আইটিবিপি-র ডিজি। একই সঙ্গে চীনের সামরিক আধুনিকীকরণের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
বালো রাজা অরুণাচল প্রদেশের তিনবারের বিজেপি বিধায়ক। রাজ্য সরকারের নগরোন্নয়ন, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং অসামরিক বিমান পরিবহন দফতরের দায়িত্বেও আছেন তিনি। গেল মঙ্গলবার ইটানগরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বালো রাজা প্রশ্ন তোলেন, আইটিবিপি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর প্রধান কেন এমন মন্তব্য করবেন, যাতে ভারতকে দুর্বল বলে মনে হতে পারে? তার কথায়, ভারতের শক্তি এবং গোয়েন্দা ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে, যা ‘ধুরন্ধর’ ছবিটি দেখলেই বোঝা যায়।
গত ২২ অক্টোবর রাজস্থানের আলওয়ারে একটি অনুষ্ঠানে আইটিবিপি-র ডিজি শত্রুজিৎ সিং কপূর জানান, অরুণাচল প্রদেশের একাধিক এলাকায় ভারতীয় ও চীনা সেনার মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে এই উত্তেজনা চলছে এবং সাম্প্রতিক সময়েও কয়েকটি এলাকায় দুই দেশের বাহিনী একেবারে মুখোমুখি অস্ত্র তাক করে রয়েছে।
কপূর আরও বলেন, ‘চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এবং বর্ডার ডিফেন্স রেজিমেন্ট (বিডিআর) সামরিক পরিকাঠামো ও আধুনিকীকরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তাই চীনকে মোকাবিলা করতে ড্রোন এবং ড্রোন-বিরোধী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।’ তিনি জানান, আইটিবিপি-র প্রতিটি সীমান্তরক্ষী ব্যাটালিয়নে ড্রোন ইউনিট তৈরি করা হয়েছে। উচ্চ পার্বত্য এলাকায় অভিযানের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘শৌর্য’ কম্যান্ডোদেরও কাজে লাগানো হচ্ছে।
আইটিবিপি প্রধানের মন্তব্যের পর ভারত-চীন সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে কেন্দ্রীয় সরকারও। গত ২৩ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, চীনা বাহিনী নিয়মমাফিক টহলদারি থেকে সরে এলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর পরিস্থিতি মাঝেমধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তবে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ আগের মতোই রয়েছে বলে জানান তিনি। সীমান্তের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধান করা এবং দুই দেশের সেনার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা সংঘাত এড়ানোই এই আলোচনার লক্ষ্য। সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার তাকসিং এলাকায় ভারতীয় সেনার টহলদারি নিয়েও অতীতে উদ্বেগ ছিল। তবে ওই অঞ্চলে চীনের নতুন দখলদারির অভিযোগ কেন্দ্রীয় সরকারের একাংশ অস্বীকার করেছে। এই পরিস্থিতিতে বালো রাজার ‘ধুরন্ধর’ মন্তব্য ভারত-চীন সীমান্ত নিয়ে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।