
ইরানে নতুন হামলার আশঙ্কার মধ্যে পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক পরিকল্পনাকারী বরখাস্ত
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলা ঠেকাতে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়িকে পাঠানো এক চিঠিতে এ কথা বলেন ভ্যান্স। এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ খবর দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়টি চিঠিতে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্যোগে ‘খুবই উৎসাহী’ ছিলেন বলে জানা গেছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, চিঠিতে সুনির্দিষ্ট কোনো শান্তি প্রস্তাবের পরিবর্তে সম্ভাব্য আলোচনার একটি কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এ বিষয়ে প্রথম খবর প্রকাশ করে। তবে ভ্যান্স ঠিক কবে এই চিঠি পাঠিয়েছেন, তা জানা যায়নি।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাসের মধ্যে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগের উদ্যোগ। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে আলোচনার মধ্যেই এ উদ্যোগের খবর এল।
রেজায়ি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব। এর আগে তিনি দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার ছিলেন। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সঙ্গে মোহসেন রেজায়ির সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, রেজায়ি ইরানের প্রভাবশালী ও কট্টরপন্থি নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ডেটা সেন্টার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় সামরিক অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। এর আগে রেজায়ি বলেছেন, ইরানের দাবিগুলো পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি নয় তেহরান।
রেজায়ির কাছে চিঠির বিষয়ে মন্তব্য জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের দফতরের একজন মুখপাত্র। অন্যদিকে, ভ্যান্সের পাঠানো চিঠি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র। এ বিষয়ে রেজায়ির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
এদিকে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য ভ্যান্সকে কোনো নির্দেশ দেয়ার দাবি সরাসরি নাকচ করেননি ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি বলেন, বিষয়টি হলো তেহরানের চিকিৎসাসামগ্রী ও অন্যান্য কিছু জিনিসের প্রয়োজন। এ বিষয়ে ভ্যান্স আমার মতামত জানতে চেয়েছিলেন। আমি বললাম, যদি তুমি তা করতে চাও, তবে ঠিক আছে। মূলত, অসুস্থ মানুষদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার বিষয়টিই এখানে মুখ্য।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট, আল জাজিরা