
রাত পোহালেই নিউজিল্যান্ডে ভোট, বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ক্ষমতাসীন দল
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২:০

হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের কেশম দ্বীপের আকাশে আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি, দ্বীপটির আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-১ মডেলের একটি ড্রোন শনাক্ত করার পর ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেটি ধ্বংস করে। আর আগে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) কেশম দ্বীপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে আইআরজিসি।
এদিকে ওমান উপকূলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় একটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা (ইউকেএমটিও) এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে আইআরজিসি দাবি করে, ‘অননুমোদিত’ পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় মাইনের আঘাতে দুটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়। ইরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার হুমকির মধ্যে এসব ঘটনা ঘটল।
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা নিয়ে হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাতে আজ শনিবার এ খবর জানিয়েছে ফক্স নিউজ।
প্রতিবেদন মতে, আগামী ৯ নভেম্বর নতুন চাঁদের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদের আলো কম বা একেবারেই না থাকার সুযোগকে সামরিক অভিযান শুরুর অনুকূল সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে আলোচনা হয়।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী ৯ নভেম্বর মধ্যপ্রাচ্যে অমাবস্যা শুরু হবে। ফলে রাতের আকাশে চাঁদের আলো থাকবে খুবই কম, এমনকি কোথাও একেবারেই থাকবে না। অন্ধকারের এই পরিস্থিতি সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে সুবিধাজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গত বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ আবার শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে ওয়াশিংটন। তিনি বলেন, ‘সম্ভব হলে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চাই না, তবে হয়তো আমাকে তা করতে হতে পারে। আপনারা খুব দ্রুতই তা জানতে পারবেন।’
এই বিকল্পকে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব যে, আমরা কি আরও এগিয়ে গিয়ে বিষয়টিকে এমনভাবে নিশ্চিত (সার্টিফাই) করতে চাই, যাতে এটি আর কখনোই না ঘটে?’
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালালে বিশ্বজুড়ে মার্কিন সম্পদ লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া সতর্ক করে বলেন, তেহরানের দেয়া সাতটি শর্ত যুক্তরাষ্ট্র পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইরানে নতুন করে হামলা হলে, কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার তোয়াক্কা না করেই মার্কিন শত্রুর সব সম্পদ লক্ষ্যবস্তু করা হবে।’
দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের বাইরে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, সরঞ্জাম এবং বাহিনীও ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আকরামিনিয়া বলেন, ‘দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের বাইরেও আমাদের শত্রুর ঘাঁটি রয়েছে এবং সেসব ঘাঁটিতে তাদের সরঞ্জাম ও বাহিনী মোতায়েন করা আছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার তোয়াক্কা না করেই মার্কিন শত্রুর সব বস্তুগত ও অবস্তুগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে।’