
কেশম দ্বীপের আকাশে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৩৬

নিউজিল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হবে। ছবি: আনাদোলু
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। এরপরই নিউজিল্যান্ডে সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
এই নির্বাচনকে ক্ষমতাসীন দলের জন্য বড় পরীক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, মধ্য-বামপন্থি বিরোধী দল লেবার পার্টি ৩০.৬ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছে। ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পার্টির সমর্থন ২৪.৮ শতাংশ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা থেকে শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত) ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচনে ৩৭ লাখের বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই প্রাথমিক গণনা শুরু হবে। চূড়ান্ত ফলাফল ২৭ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশের কথা রয়েছে।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের সংসদের নতুন সদস্য নির্ধারিত হবেন। দেশটিতে মিশ্র-সদস্য আনুপাতিক (এমএমপি) পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই ব্যবস্থায় ভোটাররা দুটি আলাদা ভোট দেন। একটি রাজনৈতিক দলের জন্য এবং অন্যটি নিজ এলাকার সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য।
দলীয় ভোটে ভোটাররা তাদের পছন্দের রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। কোনো দল জাতীয়ভাবে যত শতাংশ ভোট পায়, মূলত তার ভিত্তিতেই সংসদে দলটির আসনসংখ্যা নির্ধারিত হয়।
অন্যদিকে নির্বাচনী এলাকার ভোটে ভোটাররা নিজ এলাকার প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য একজন প্রার্থীকে ভোট দেন। মাওরি ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত ব্যক্তিরা মাওরি নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীদের ভোট দেন। আর সাধারণ ভোটার তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা সাধারণ নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীদের ভোট দেন। প্রতিটি এলাকায় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সংসদে প্রতিনিধিত্ব পেতে কোনো রাজনৈতিক দলকে জাতীয়ভাবে অন্তত ৫ শতাংশ ভোট পেতে হবে অথবা কোনো একটি নির্বাচনী আসনে জয়ী হতে হবে।
নিউজিল্যান্ডের সংসদে সাধারণত ১২০টি আসন থাকে। তবে কোনো দল জাতীয়ভাবে পাওয়া ভোটের অনুপাতে যতটি আসন পাওয়ার কথা, তার চেয়ে বেশি সরাসরি নির্বাচনী আসনে জয়ী হলে সংসদের আসনসংখ্যা বেড়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত এসব আসনকে বলা হয় ‘ওভারহ্যাং আসন’।
বর্তমান সংসদে ছয়টি রাজনৈতিক দলের ১২৩ জন সদস্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৫ জন সাধারণ নির্বাচনী এলাকা এবং ৭ জন মাওরি নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ৫১ জন দলীয় তালিকার মাধ্যমে সংসদে এসেছেন।
এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পার্টি ও মধ্য-বামপন্থি বিরোধী দল লেবার পার্টিসহ দেশটির প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এছাড়া গ্রিন পার্টি, অ্যাক্ট নিউজিল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড ফার্স্টও নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী। ছোট দলগুলোর মধ্যে রয়েছে তে পাতি মাওরি ও অপরচুনিটি পার্টি।
এবারের নির্বাচনে নতুন দল হিসেবে অংশ নিচ্ছে ফ্রি প্যালেস্টাইন পার্টি। দলটির নেতা পল হপকিনসন চলতি বছরের শুরুতে আনাদোলুকে জানিয়েছিলেন, নির্বাচনী প্রচারে ফিলিস্তিন ইস্যুকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য।
রেডিও নিউজিল্যান্ড-রিড রিসার্চের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৩০.৬ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছে লেবার পার্টি। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পার্টির সমর্থন ২৪.৮ শতাংশ। জরিপে গ্রিন পার্টি ১৪.৫ শতাংশ, অ্যাক্ট নিউজিল্যান্ড ১০.১ শতাংশ এবং নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট ৯.৯ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে।
নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক চাপই ভোটারদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে। ১ হাজার ৮ জনের ওপর পরিচালিত ইপসোসের ‘ইস্যু মনিটর’ জরিপে দেখা গেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতিকে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা। গত ১৯ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত এ জরিপ পরিচালিত হয়।
স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতালের বিষয়টি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা এটিকে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর পেট্রল ও জ্বালানির দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ৩১ শতাংশ।
এছাড়া অর্থনীতি নিয়ে ৩০ শতাংশ, বেকারত্ব নিয়ে ১৯ শতাংশ, বাড়ির দাম নিয়ে ১৮ শতাংশ, দারিদ্র্য ও বৈষম্য নিয়ে ১৬ শতাংশ, অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ১৪ শতাংশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ১২ শতাংশ উত্তরদাতা উদ্বেগ জানিয়েছেন।
নিউজিল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম দ্য স্পিনঅফের তথ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়গুলোর মধ্যে জ্বালানির দাম নিয়ে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে পরিচালিত জরিপের তুলনায় তা ১৭ শতাংশ বেড়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং পরবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানির দাম নিয়ে এই উদ্বেগ বেড়েছে।