
নেতানিয়াহুর সামনে সরকার গঠনের কোনো পথ নেই, দাবি ইয়ার লাপিদের
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২১

ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম দলের চেয়ারম্যান ইয়াকভ আশের (বাঁয়ে) এবং ইয়াশার দলের চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকোট। ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে কোনো জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে সংখ্যালঘু সরকার গঠনে সমর্থন দেয়ার কথা বিবেচনা করছে অতি-রক্ষণশীল দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে)। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই জোটে যোগ দেবে না দলটি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) চ্যানেল ১২ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দলটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জোটের অবসান হবে।
প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায়, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটের বাইরে থাকবে ইউটিজে। তবে সরকারের বিরুদ্ধে বা এর কোনো আইন প্রণয়নের বিপক্ষে ভোট না দিয়ে ভোটদানে বিরত থেকে সরকারকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করবে দলটি।
চ্যানেল ১২-এর হিসাব অনুযায়ী, ইউটিজের সাতটি আসন ছাড়া নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ৪৬টি। অন্যদিকে, আইজেনকোটের জোটের আসন থাকবে ৪৮টি। এ ছাড়া নেসেটে আটটি আসন পাওয়া আরব দল রাআমের সমর্থনও চাইতে পারেন আইজেনকোট।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে এলেও ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদান থেকে অব্যাহতি দেয়ার আইন পাস করতে পারেননি নেতানিয়াহু। এ নিয়ে তার ওপর ক্ষুব্ধ ইউটিজে। সেই হতাশা থেকেই দলটি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের কথা ভাবছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে সরকার গঠনে লিকুদ পার্টি ছাড়া যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন শাস পার্টির প্রধান আরিয়েহ দেরি।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরকার গঠনের বিষয়ে দুই অতি-রক্ষণশীল দলের অবস্থানে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ইউটিজে বিরোধী জোটের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা তৈরি করলেও লিকুদকে ছাড়া কোনো সরকারে যোগ দেবে না বলে স্পষ্ট করেছে শাস।
সূত্রের দাবি, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দিতে রাজি নন শাস পার্টির প্রধান। ইসরাইলের ২৬তম নেসেট নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের প্রচেষ্টায় অতি-রক্ষণশীল দলগুলোর জোটসঙ্গী নির্বাচনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনের ফলাফলের পর দুই অতি-রক্ষণশীল দলের এই ভিন্ন অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কারণ, নির্বাচনে কোনো জোটই পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনে তাদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল, জেরুজালেম পোস্ট