
ইতিহাসে বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরিবাইন্যান্স থেকে ৬৩০ কোটি ডলার লুট, নেপথ্যে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার!
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৪৮

ইসরাইলের বিদায়ী বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ: ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলের বিদায়ী বিরোধীদলীয় নেতা ও ‘বি’ইয়াচাদ’ দলের নেতা ইয়ার লাপিদ দাবি করেছেন, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নেতানিয়াহুবিরোধী জোট ‘পয়েন্টের ব্যবধানে জয়’ পেয়েছে। তার দাবি, নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোটের আসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সরকার গঠনের কোনো পথ নেই তার সামনে। তবে বিরোধী জোটের নিরঙ্কুশ জয় না আসায় সরকার গঠনের আলোচনা এগিয়ে নিতে জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন লাপিদ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে লাপিদ লেখেন, ‘মঙ্গলবার রাত ১০টায় আমরা সবাই স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে একটি সংখ্যার অপেক্ষায় ছিলাম। সেটি৬১। কিন্তু সেটি হয়নি। আমাদের জন্যও নয়, আর নিশ্চিতভাবেই তার (নেতানিয়াহু) জন্যও নয়।’
নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের দলগুলো সম্মিলিতভাবে ৬৭টি আসন পেয়েছে। তবে চারটি ইহুদিপ্রধান দলের মধ্যে তিনটি—ইয়াশার, বি’ইয়াচাদ ও ইসরাইল বেইতেনু—মূলত আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আমের সঙ্গে জোট সরকারে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ কারণে সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদিপ্রধান দলগুলো পেয়েছে ৪৮টি আসন। আর আরব নেতৃত্বাধীন দুটি দল পেয়েছে ১৯টি আসন, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। নেতানিয়াহুর দল লিকুদ ২৭টি আসন নিয়ে পার্লামেন্টের বৃহত্তম দল হয়েছে। তবে ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের কোনো স্পষ্ট পথ তারও নেই।
লাপিদ স্বীকার করেন, নেতানিয়াহুর বিরোধীরা ‘স্পষ্ট ও তাৎক্ষণিক জয়’ চেয়েছিলেন, যে জয়ের পর নিশ্চিন্তে ঘুমাতে যাওয়া যায়। কিন্তু নির্বাচনে আমরা তেমন ফল পাইনি।
ইসরাইলের বিদায়ী বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোটের আসন কমে ৫৩টিতে নেমে এসেছে। এর মধ্যে ১৩টি আসন এমন দুই অতি-রক্ষণশীল দলের, যারা নিজেদের অ-জায়নবাদী হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে নেতানিয়াহুর হাতে কার্যত ৪০টি আসন রয়েছে এবং কোনোভাবেই তার পক্ষে সরকার গঠন সম্ভব নয়।
পোস্টে লাপিদ বলেন, ‘তার হাতে এখন ৪০টি আসন। এটাই তার শক্তি। তিনি যা-ই করুন না কেন, সরকার গঠনের কোনো পথ তার সামনে নেই।’
বর্তমান সরকারে থাকা নেতানিয়াহুপন্থি দলগুলো বিদায়ী নেসেটে ৬৮টি আসন পেয়েছিল। এবারের নির্বাচনে তাদের আসন কমে ৫৩টিতে দাঁড়িয়েছে। লাপিদ বলেন, ‘তার মানে আমরাই জিতেছি, এটি বড় ব্যবধানে নকআউট জয় ছিল না; পয়েন্টের ব্যবধানে জয়। তবে পয়েন্টও গুরুত্বপূর্ণ। জয় তো জয়ই।’
তিনি জানান, ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে বিরোধী জোট সরকার গঠনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তবে কাজটি কঠিন হবে এবং সফলতা নিশ্চিত নয় বলেও স্বীকার করেন তিনি।
এ অবস্থায় ইসরাইলিদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে লাপিদ বলেন, ‘ইসরাইলিদের কাছে এমন কিছু চাওয়া কঠিন, তবু আমাকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ করতে হচ্ছে।’
সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নির্বাচনী প্রচারের ঠিক বিপরীত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। লাপিদের ভাষায়, ‘এটি ছোট ছোট কক্ষে, ধীরে ধীরে এবং ক্যামেরার আড়ালে সম্পন্ন হয়।’
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল