
যুদ্ধ ইরানকে ‘বিশ্ব পরাশক্তিতে’ পরিণত করেছে: মাহমুদ নাবাভিয়ান
মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বাবু
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:৪৭

শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, শনিবারের বিক্ষোভে দেশজুড়ে অংশ নিয়েছেন প্রায় ১৬ লাখ মানুষ। ছবি: রয়টার্স
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও শিক্ষা খাতের সংকট ঘিরে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। দাবি আদায়ে রাজপথে নেমেছেন শ্রমিক ও শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভে ১৬ লাখ মানুষের অংশ নেয়ার দাবি করেছে শ্রমিক সংগঠনগুলো।
স্থানীয় সময় শনিবার (৫ নভেম্বর) সকালে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষা খাতের সংকটের প্রতিবাদে আবারও ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে নামেন শ্রমিক ও শিক্ষার্থীরা। শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন আন্দোলনকারীরাও। রাজধানী প্যারিসেও দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় সড়কে বিভিন্ন জিনিসপত্র জড়ো করে আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। বল প্রয়োগে আন্দোলন থামানো যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমি মিছিলে এসেছি মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কাজের পরিবেশ এবং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানাতে। কয়েক বছর হলো আমি আর শিক্ষার্থী নই। তারপরও তাদের আন্দোলনে পাশে দাঁড়িয়েছি। কারণ, শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও বাজেট দেয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামও আকাশছোঁয়া।’
আরেকজন বলেন, ‘আমরা আজ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। আমাদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে, পুলিশি দমন-পীড়নও চালানো হচ্ছে। নিজেদের অধিকারের কথা বারবার মনে করিয়ে দিলেও তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। সরাসরি জানিয়ে দেয়া হচ্ছে, আমাদের অধিকারের কোনো গুরুত্ব নেই।’
বিক্ষোভ ঘিরে দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভ মিছিলের ওপর ড্রোন ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হয়।
শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, শনিবারের বিক্ষোভে দেশজুড়ে অংশ নিয়েছেন প্রায় ১৬ লাখ মানুষ। এর মধ্যে শুধু প্যারিসেই ছিলেন সাড়ে তিন লাখ। তবে, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সারাদেশে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছয় লাখের বেশি নয়। এদিকে, চলমান সংকট নিরসনে আগামী সপ্তাহে আন্দোলনরত শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে সরকারের।