
ইসরাইলের নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:২০

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ক্রমশ শক্তিবৃদ্ধি করছে। ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ক্রমশ শক্তিবৃদ্ধি করছে। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ১২ ঘণ্টায় তীব্র থেকে অতি তীব্র আকার নিতে চলেছে ঘূর্ণিঝড়টি।
ভোর সাড়ে ৫টার হিসেব অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্বে, ওড়িশার গোপালপুর থেকে ৩৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে।
স্থানীয় আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, ঘূর্ণিঝড়টি এবার পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে খানিক বাঁকবদল করে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোবে সেটি। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পুদুচেরীর ইয়ানাম উপকূলের বাপটলা আর বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী কোনো এলাকা ধরে স্থলভাগে আছড়ে পড়বে ‘অর্ণব’। আছড়ে পড়ার সময় অন্ধ্র উপকূলে ঘণ্টায় ১১৫-১২৫ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ১৪০ কিলোমিটার।
ইতোমধ্যেই অন্ধ্রের চার জেলায় ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এই জেলাগুলো হলো- অনকাপল্লী, শ্রীকাকুলম, বিশাখাপত্তনম এবং বিজয়নগরম। উদ্ধারকাজে গতি আনতে কাকীনাডা, কোনাসীমা, রাজামুন্দ্রি, এলুরু, মছলিপত্তনম এবং নাকাপল্লীর মতো জায়গায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) একাধিক দলকে মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে ইয়ানাম, কৃষ্ণা এবং বিশাখাপত্তনমেও।
এদিকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে মঙ্গল এবং বুধবার অন্ধ্রে ৫৩টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে বিজয়ওয়াড়া, রাজামুন্দ্রি, কাকীনাডা এবং বিশাখাপত্তনমের মধ্যে সংযোগরক্ষাকারী একাধিক ট্রেনের পরিষেবা এই দু’দিন পাওয়া যাবে না। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৮টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে ওড়িশাতেও। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিশাখাপত্তনম-কোরাপুট প্যাসেঞ্জার, বিশাখাপত্তনম-কিরন্ডুল প্যাসেঞ্জার। যাত্রীদের সুবিধার্থে বিশাখাপত্তনমে বিশেষ কন্ট্রোল রুম খুলেছে দক্ষিণ উপকূলীয় রেলওয়ে।
মূলত অন্ধ্র লাগোয়া দক্ষিণ ওড়়িশায় ঘূর্ণিঝড়়ের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে চলেছে। বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, মালকানগিরি, কোরাপুট এবং নবরংপুর জেলায়। এই ছয় জেলায় মঙ্গল এবং বুধবার সমস্ত স্কুল-কলেজ, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে মঙ্গল এবং বুধবার সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে আন্দামান ও নিকোবর প্রশাসন। আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোতায়েন থাকছে ওড়িশা রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, এনডিআরএফ-এর সদস্যদের। নিচু এবং বিপদসঙ্কুল এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই বাসিন্দাদের ত্রাণশিবিরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিঁ বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দিয়েছেন আট মন্ত্রীকে। তারা ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন।
‘অর্ণব’র প্রভাব পড়তে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলেও। উপকূল সংলগ্ন জেলাগুলোতে ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে থাকবে বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়া। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র উত্তাল হতে পারে। মৎস্যজীবীদের তাই আলাদা করে সতর্ক করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র উত্তাল হবে মঙ্গলবার থেকে। ঢেউ ‘অতি উত্তাল’ও হয়ে উঠতে পারে। তাই বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার ভারি বৃষ্টি (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) হতে পারে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে। এই চার জেলায় ঝোড়ো হাওয়ার বেগ থাকবে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাতেও ঝোড়ো হাওয়া বইবে, সঙ্গে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি। বৃহস্পতি এবং শুক্রবার ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলায়। বর্ষণের জেরে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামতে পারে বলে সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস।
ঘূর্ণিঝড়ের জেরে উপকূলীয় অঞ্চলে ভারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তা ছাড়া গভীর নিম্নচাপ ও পূর্ণিমার কটালের জেরে নদী ও সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কাও রয়েছে। তাই এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা-সহ উপকূলীয় অঞ্চলের ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল থানা, গঙ্গাসাগর কোষ্টাল থানা, গোবর্ধনপুর কোষ্টাল থানার পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে সতর্ক করতে মাইকে প্রচার শুরু হয়েছে। মৎস্যজীবীদেরও সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া সকল মৎস্যজীবীদের নিরাপদ স্থানে ফিরে আসার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সাগর, নামখানা-সহ উপকূলীয় এলাকায় সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে।
উপকূলবর্তী না হওয়া সত্ত্বেও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়তে চলেছে বিহার এবং উত্তর প্রদেশেও। পূর্ব উত্তর প্রদেশ এবং বিহারে ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। এই বিষয়ে দুই রাজ্যকে সতর্ক করেছেন ক্যাবিনেট সচিব টিভি সোমনাথন।
সূত্র: আনন্দবাজার