
শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, ১২ ঘণ্টার মধ্যে হয়ে উঠতে পারে ‘অতি তীব্র’

ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। ছবি: রয়টার্স
ইসরাইলের সংসদ নির্বাচনে চলমান ভোটগ্রহণের মধ্যেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ব্যালট নিয়ে কারচুপি ও চুরির অভিযোগ তুলেছে দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল ইয়াশার। দলটির দাবি, দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে তারা এ ধরনের অনিয়মের খবর পেয়েছে।
দলটির অভিযোগ, ইয়াশারের সমর্থকদের উপস্থিতি বেশি এমন ভোটকেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে দলটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইয়াশার পার্টি বলেছে, এ বিষয়ে শিগগিরই কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে তা জানানোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
পোস্টে দলটি আরও বলেছে, ‘আমরা যে পরিবর্তন চাই, তা বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ কাউকে দেব না।’ তবে ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।
এদিকে ভোটকেন্দ্রগুলোতে সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে সতর্ক থাকতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাবেক অর্থমন্ত্রী ও ইসরাইল বেইতেনু দলের নেতা আভিগদর লিবারম্যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘প্রিয় নাগরিকেরা, চোখ-কান খোলা রাখুন। প্রতারণা, জালিয়াতি এবং আপনাদের ভোটের ক্ষতি করার যেকোনো প্রচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক থাকুন।’
ইয়াশার ও লিবারম্যানের দল উভয়ই ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থি জোটের বিরোধী শিবিরে রয়েছে। তবে ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখনও জানা যায়নি।
আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর এটাই দেশটির প্রথম সাধারণ নির্বাচন।
আল জাজিরার তথ্য মতে, এই নির্বাচনে প্রায় ৭৩ লাখ ইসরাইলি ভোট দেওয়ার যোগ্য। এর মধ্যে ইসরাইলের ১২ লাখ ফিলিস্তিনি নাগরিকও অন্তর্ভুক্ত।
তবে বিদেশে বসবাসকারী অধিকাংশ ইসরাইলি ভোট দিতে পারছেন না। কারণ ইসরাইলে অনুপস্থিত অবস্থায় ভোট দেওয়ার (অ্যাবসেন্টি ব্যালট) কোনো সাধারণ ব্যবস্থা নেই এবং নির্বাচনের দিন ভোটারদের সশরীরে দেশটিতে উপস্থিত থাকা আবশ্যক। যদিও কূটনীতিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা এর ব্যতিক্রম, তারা ইসরাইলি মিশনগুলোতে নিজেদের ভোট দিয়েছেন।
ইসরাইলের নির্বাচনে স্থানীয় সময় সকাল ১০টা পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি জানিয়েছে, ১৯৮১ সালের পর কোনো নির্বাচনে এই সময় পর্যন্ত এটিই সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।
নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ১০টা (জিএমটি সকাল ৮টা) পর্যন্ত ভোটগ্রহণের এই হার রেকর্ড করা হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১০টায় (জিএমটি রাত ৮টা) ভোটকেন্দ্রগুলো বন্ধ হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।