
ইরানের অস্ত্র পরিবহন ঠেকাতে টাস্কফোর্স গঠন যুক্তরাষ্ট্রের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ১৯:৯

প্রথমবারের মতো বিদেশি নভোচারী হিসেবে চীনের মহাকাশ স্টেশনে যাচ্ছেন পাকিস্তানের এক নাগরিক। দেশটির পরবর্তী ‘শেনঝৌ-২৪’ মিশনে অংশ নেবেন তিনি। শনিবার (৭ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে চীনের মহাকাশ সংস্থা (সিএমএসএ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। এই অংশীদারত্বের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যার অধীনে পাকিস্তানি নভোচারীদের চীনা সরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়।
চীনের ম্যানড স্পেস এজেন্সি (সিএমএসএ) তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, মনোনীত ওই পাকিস্তানি নভোচারী মূলত একজন ‘পে-লোড স্পেশালিস্ট’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি চীনা মিশন ‘শেনঝৌ-২৪’-এর ক্রুদের সঙ্গে মহাকাশ স্টেশনে যাবেন।
সংস্থাটি আরও জানায়, তিনি অল্প সময়ের জন্য কক্ষপথে থাকবেন এবং পরবর্তীতে গত মে মাসে তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনে যুক্ত হওয়া ‘শেনঝৌ-২৩’ মহাকাশযানে চেপে পৃথিবীতে ফেরত আসবেন। তবে ঠিক কোন তারিখে এই মিশন চালু হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদই পরিচালিত হতে পারে বহুল প্রতীক্ষিত এই মহাকাশ অভিযান।
সিএমএসএ তাৎক্ষণিকভাবে সেই নভোচারীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করলেও, গত এপ্রিলে চীনের প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত দুই পাকিস্তানি নভোচারী মুহাম্মদ জিশান আলী ও খুররম দাউদের নাম জানিয়েছিল বেইজিং।
চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্যমতে, ২০২৫ সালের চুক্তি অনুযায়ী চীনে কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে পাকিস্তানি নভোচারীরা আগামী কয়েক বছর ধরে চীনা ক্রুদের সঙ্গে বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি মিশনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
উল্লেখ্য, বেইজিং বিগত কয়েক বছর ধরে তাদের মহাকাশ গবেষণায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে আসছে। দেশটির লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানব মিশন পাঠানো এবং এর মাধ্যমে এ খাতের অন্যতম বিশ্বশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমিয়ে আনা। বহু বছরের বন্ধুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে পাকিস্তানকেই মহাকাশ গবেষণার অন্যতম অংশীদার হিসেবে বেছে নিয়েছে চীন।