
খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীদের দিন আজ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:২

মনোবিজ্ঞানে এই প্রবণতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ধারণা হলো ‘রোমান্টিক হিপোক্রেসি’। ছবি: সংগৃহীত
প্রেমের সম্পর্কে সঙ্গী অন্য কারও সঙ্গে নিয়মিত ব্যক্তিগত বার্তা বিনিময় করছেন। বিষয়টি আপনার অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। আপনার মনে হচ্ছে, এমন আচরণ সম্পর্কের বিশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী।
অথচ আপনি নিজে যখন অন্য কারও সঙ্গে একইভাবে কথা বলেন, তখন হয়তো সহজেই বলে দেন, ‘আমরা শুধুই বন্ধু’ কিংবা ‘এতে আপত্তির কী আছে?’
একই আচরণ, অথচ বিচার করার ক্ষেত্রে দুই রকম দৃষ্টিভঙ্গি—প্রেমের সম্পর্কে এমন মানসিকতা অস্বাভাবিক নয়। নিজের আচরণের পক্ষে নানা যুক্তি দাঁড় করালেও সঙ্গীর একই আচরণ মেনে নিতে কষ্ট হয় অনেকের।
মনোবিজ্ঞানে এই প্রবণতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ধারণা হলো ‘রোমান্টিক হিপোক্রেসি’ বা প্রেমের সম্পর্কে দ্বৈত মানদণ্ড।
সম্পর্কে বিশ্বস্ততার অর্থ সবার কাছে এক নয়। কারও কাছে শারীরিক ঘনিষ্ঠতাই বিশ্বাসভঙ্গের প্রধান সীমারেখা। আবার কারও কাছে অন্য ব্যক্তির সঙ্গে গোপনে আবেগঘন কথোপকথন, নিয়মিত ফ্লার্ট করা কিংবা সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সঙ্গীর কাছ থেকে লুকিয়ে রাখাও বিশ্বাসের পরিপন্থী।
সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন নিজের জন্য এক ধরনের নিয়ম আর সঙ্গীর জন্য আরেক ধরনের নিয়ম তৈরি করা হয়। নিজের আচরণকে নির্দোষ মনে হলেও সঙ্গীর ক্ষেত্রে একই আচরণকে সন্দেহজনক বা অনৈতিক বলে বিবেচনা করা হয়।
প্রেমের সম্পর্কে নিজের ও সঙ্গীর আচরণকে ভিন্নভাবে মূল্যায়নের বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন মনোবিজ্ঞানী অ্যাশলি ই. থম্পসন ও লুসিয়া এফ. ও’সুলিভান। তাদের ‘আমি পারি, কিন্তু তুমি পারো না’ শিরোনামের গবেষণায় ৮১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের অভিজ্ঞতা ও মতামত বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষণাটিতে সম্পর্কের বিভিন্ন আচরণকে মানুষ কতটা অবিশ্বস্ততা হিসেবে বিবেচনা করেন এবং নিজেরা এমন আচরণ করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়।
ফলাফলে আবেগঘন আচরণ ও প্রযুক্তির মাধ্যমে যোগাযোগের মতো কিছু ক্ষেত্রে নিজের এবং সঙ্গীর আচরণ মূল্যায়নে পার্থক্যের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে সব ধরনের আচরণের ক্ষেত্রে একই দ্বৈত মানদণ্ড দেখা যায়নি।
এ থেকে বোঝা যায়, সম্পর্কের কোনও আচরণকে মানুষ কীভাবে বিচার করবেন, তা শুধু আচরণের ধরনের ওপর নির্ভর করে না; কে আচরণটি করছেন, সেটিও মূল্যায়নে প্রভাব ফেলতে পারে।
মানুষ সাধারণত নিজের আচরণের পেছনের পরিস্থিতি, উদ্দেশ্য ও অনুভূতিকে গুরুত্ব দেন। কিন্তু অন্য কেউ একই কাজ করলে তার ব্যক্তিত্ব বা উদ্দেশ্য নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
মনোবিজ্ঞানে এই পার্থক্যের সঙ্গে ‘অ্যাক্টর-অবজারভার বায়াস’ বা কর্তা-পর্যবেক্ষক পক্ষপাতের সম্পর্ক রয়েছে। তবে নিজের আচরণকে ইতিবাচকভাবে দেখার প্রবণতা এবং অন্যের আচরণকে নেতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করার বিষয়টি সব পরিস্থিতিতে একইভাবে কাজ করে না।
প্রেমের সম্পর্কেও এর প্রভাব দেখা যেতে পারে। যেমন, সঙ্গী অন্য কারও সঙ্গে নিয়মিত গোপনে কথা বললে মনে হতে পারে, তিনি ইচ্ছা করেই সম্পর্কের সীমা অতিক্রম করছেন।
কিন্তু নিজে একই কাজ করলে যুক্তি আসতে পারে, ‘কথা বলতে বলতে বন্ধুত্ব হয়েছে’, ‘এতে খারাপ কিছু নেই’ কিংবা ‘আমার তো অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল না’।
এভাবে নিজের আচরণের ব্যাখ্যা খুঁজতে গিয়ে মানুষ কখনো কখনো সঙ্গীর অনুভূতি ও অভিযোগকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে ব্যর্থ হন। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে সম্পর্কের মধ্যে সন্দেহ, ক্ষোভ ও মানসিক দূরত্ব তৈরি হতে পারে।