
ক্যান্সার থেকে বাঁচতে গ্রিন টি খাবেন যেভাবে
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৪১

‘নার্সিসিস্ট’ শব্দটি এসেছে গ্রিক পুরাণের নার্সিসাস নামের এক চরিত্র থেকে। ছবি: সংগৃহীত
কিছু মানুষ সব সময় নিজের প্রশংসা শুনতে চান। নিজের মতামতকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন, ভুল করলেও তা স্বীকার করতে চান না। অন্যের অনুভূতিকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের চাহিদা পূরণে ব্যস্ত থাকেন। কেউ তাদের সমালোচনা করলে রেগে যান, আবার কখনো অন্যকে অপরাধবোধে ভুগিয়ে নিজের ইচ্ছামতো পরিচালনা করার চেষ্টা করেন। মনোবিজ্ঞানে এ ধরনের কিছু বৈশিষ্ট্যকে নার্সিসিজমের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচনা করা হয়।
নার্সিসিস্ট বলতে কী বোঝায়?
‘নার্সিসিস্ট’ শব্দটি এসেছে গ্রিক পুরাণের নার্সিসাস নামের এক চরিত্র থেকে। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, নার্সিসাস নিজের প্রতিবিম্বের প্রতি এতটাই মুগ্ধ হয়ে পড়েছিলেন যে অন্য কিছুর প্রতি মনোযোগ দিতে পারেননি।
মনোবিজ্ঞানে নার্সিসিজম বলতে নিজের গুরুত্ব সম্পর্কে অতিরঞ্জিত ধারণা, অতিরিক্ত প্রশংসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, বিশেষ সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা এবং অন্যের অনুভূতি বোঝার ক্ষেত্রে অসুবিধার মতো বৈশিষ্ট্যকে বোঝানো হয়।
তবে নার্সিসিজমের মাত্রা সবার ক্ষেত্রে এক নয়। নিজের প্রতি ভালোবাসা, আত্মবিশ্বাস কিংবা নিজের অর্জন নিয়ে গর্ব করা স্বাভাবিক। সমস্যা তৈরি হয় যখন এসব বৈশিষ্ট্য দীর্ঘদিন ধরে এমনভাবে প্রকাশ পায় যে তা ব্যক্তির সম্পর্ক, কর্মজীবন এবং আশপাশের মানুষের মানসিক সুস্থতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
একজন নার্সিসিস্টের মধ্যে কী কী বৈশিষ্ট্য দেখা যেতে পারে?
১. সবকিছুর কেন্দ্রে নিজেকে রাখতে চান: আলোচনা, সিদ্ধান্ত কিংবা সম্পর্ক—সব ক্ষেত্রেই নিজের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন। অন্যের সাফল্য বা অনুভূতির চেয়ে নিজের অর্জন ও অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা থাকতে পারে।
২. অতিরিক্ত প্রশংসা ও স্বীকৃতি চান: নিজের যোগ্যতা, সৌন্দর্য, সাফল্য বা বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রশংসা পেতে আগ্রহী হন। প্রত্যাশামতো স্বীকৃতি না পেলে বিরক্তি বা হতাশা প্রকাশ করতে পারেন।
৩. সমালোচনা সহজে নিতে পারেন না: সামান্য সমালোচনাকেও ব্যক্তিগত অপমান হিসেবে নিতে পারেন। কেউ ভুল ধরিয়ে দিলে আত্মপক্ষ সমর্থন, রাগ, পাল্টা অভিযোগ কিংবা অন্যকে ছোট করার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন।
৪. অন্যের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতে অসুবিধা হয়: অন্য কেউ কষ্ট পেয়েছেন—এটি বুঝতে পারলেও তার অনুভূতিকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে। তবে সব নার্সিসিস্টের ক্ষেত্রে এই বৈশিষ্ট্য একই মাত্রায় থাকে না।
৫. নিজের ভুলের দায় অন্যের ওপর চাপান: কোনো সমস্যা তৈরি হলে নিজের ভূমিকা স্বীকার না করে পরিস্থিতি, সহকর্মী, সঙ্গী বা পরিবারের অন্য সদস্যকে দায়ী করতে পারেন। ফলে সম্পর্কের মধ্যে একই ধরনের দ্বন্দ্ব বারবার ফিরে আসে।
৬. অন্যের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হতে পারেন: অন্যের অর্জনকে ছোট করে দেখা, নিজের সঙ্গে তুলনা করা কিংবা অন্যের সাফল্যের কৃতিত্ব নিজের বলে উপস্থাপন করার প্রবণতা দেখা যেতে পারে।
৭. সম্পর্কের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন: কিছু মানুষের মধ্যে অপরাধবোধ তৈরি করা, নিজের সুবিধামতো ঘটনা ব্যাখ্যা করা কিংবা অন্যের সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা থাকতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, এসব আচরণ শুধু নার্সিসিজমের কারণেই ঘটে না।
সম্পর্কের শুরুতে কি নার্সিসিস্টকে চেনা যায়?
অনেক সময় সম্পর্কের শুরুতে এমন ব্যক্তিকে আত্মবিশ্বাসী, আকর্ষণীয়, যত্নশীল কিংবা অত্যন্ত মনোযোগী মনে হতে পারে। তিনি সঙ্গীকে প্রচুর প্রশংসা করতে পারেন, নিয়মিত খোঁজ নিতে পারেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় বড় পরিকল্পনার কথা বলতে পারেন।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বদলে যেতে পারে—বিশেষ করে যদি একজনের চাহিদা, মতামত ও সিদ্ধান্তই বারবার প্রাধান্য পায়।
উদাহরণ হিসেবে, সঙ্গীর পছন্দকে অবজ্ঞা করা, মতবিরোধ হলেই অপমান করা, নিজের ভুলের দায় এড়িয়ে যাওয়া কিংবা অন্যজনকে সব সময় নিজেকে প্রমাণ করতে বাধ্য করার মতো আচরণ দেখা যেতে পারে।
তবে একটি সম্পর্কের কয়েকটি খারাপ অভিজ্ঞতা থেকেই কাউকে নার্সিসিস্ট বলা যায় না। দেখতে হবে, আচরণগুলো কতটা নিয়মিত, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সেগুলো দেখা যায় কি না এবং সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলছে।
নার্সিসিস্ট কী কখনো ভালোবাসতে পারেন?
নার্সিসিজমের বৈশিষ্ট্য রয়েছে—এমন ব্যক্তিও ভালোবাসা, আকর্ষণ, আবেগ ও সম্পর্কের প্রতি টান অনুভব করতে পারেন। নার্সিসিজম থাকলেই কেউ ভালোবাসতে অক্ষম, এমন সিদ্ধান্তের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
তবে সমস্যা হতে পারে ভালোবাসার প্রকাশ, পারস্পরিক সম্মান, সহানুভূতি এবং নিজের ভুল স্বীকার করার ক্ষেত্রে। সম্পর্কটি যদি একতরফা হয়ে পড়ে, যেখানে একজনের চাহিদাই সব সময় গুরুত্বপূর্ণ এবং অন্যজনের অনুভূতি নিয়মিত উপেক্ষিত হয়, তাহলে সেই সম্পর্ক মানসিকভাবে ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
সুস্থ সম্পর্কের জন্য শুধু ভালোবাসা নয়, প্রয়োজন পারস্পরিক সম্মান, দায়িত্ববোধ, সীমারেখার প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভুল হলে তা সংশোধনের সদিচ্ছা।
নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার কী?
নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার বা এনপিডি হলো একটি স্বীকৃত মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত রোগনির্ণয়, যেখানে আত্মগুরুত্বের অতিরঞ্জিত ধারণা, প্রশংসার প্রয়োজন এবং সহানুভূতির ঘাটতির মতো বৈশিষ্ট্য দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যাপকভাবে দেখা যেতে পারে।
তবে নার্সিসিজমের কিছু বৈশিষ্ট্য থাকা আর এনপিডি থাকা এক বিষয় নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে আত্মকেন্দ্রিক মনে হওয়া, কোনো সম্পর্কে প্রতারণার শিকার হওয়া কিংবা কারও আচরণে কষ্ট পাওয়া থেকে তাঁর এনপিডি রয়েছে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। রোগনির্ণয়ের জন্য যোগ্য মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর মূল্যায়ন প্রয়োজন।
এমন ব্যক্তির সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক সামলাবেন?
১. যদি কারও আচরণে আপনি নিয়মিত মানসিক চাপে থাকেন, তাহলে কিছু বিষয় কাজে আসতে পারে।
২. নিজের সীমারেখা নির্ধারণ করুন: কোন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়, তা স্পষ্ট করে জানান।
৩. অপ্রয়োজনীয় তর্ক এড়িয়ে চলুন: একই বিষয় নিয়ে বারবার দোষারোপের চক্রে না জড়িয়ে আলোচনাকে নির্দিষ্ট সমস্যার মধ্যে রাখুন।
৪. নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন: বারবার অপমানিত বা অপরাধী বোধ করলে সেটিকে তুচ্ছ করে দেখবেন না।
৫. বিশ্বস্ত মানুষের সহায়তা নিন: বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
৬. নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিন: সম্পর্কের মধ্যে হুমকি, ভয় দেখানো, জবরদস্তি বা নির্যাতন থাকলে নিরাপদ সহায়তা নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।