
বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের জন্য ইনডেমনিটি দেয়া হয়েছিল: রিজভী
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২

সরকার পতনের এক দফা দাবিতে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির মহাসমাবেশ। ফাইল ছবি
আজ রক্তক্ষয়ী ২৮ অক্টোবর। ২০২৩ সালে বিএনপির ডাকা সরকার পতনের একদফা আন্দোলনের দিন। এদিন ঢাকার রাজপথ পরিণত হয়েছিলো রণক্ষেত্রে। টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে নয়াপল্টনের বিশাল মহাসমাবেশ পণ্ড করে দিয়েছিলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কাকরাইলসহ কয়েকটি পয়েন্টে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মী এবং পুলিশের সাথে দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। নিহত হন ২ জন, আহত হয় শতাধিক। বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে এমন আক্রমণের পরেও তাদের কণ্ঠ রোধ করতে পারেনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।
সরকার পতনের এক দফা দাবিতে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির মহাসমাবেশ পণ্ড করে দিয়েছিলো পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড, লাঠিচার্জ করে বিরোধী দলের বিশাল সমাবেশ পন্ড করে দেয়া হয়।
এমনকি বিএনপি মহাসচিব ঠিকভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেননি। বিএনপির ডাকা ওই দিনের মহাসমাবেশে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও যোগ দেন রাজধানীর ও আশপাশের এলাকা থেকে আসা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। নয়াপল্টনে তিন ধারণের জায়গা ছিলো না। আশপাশের বিভিন্ন সড়কেও অবস্থান নেন তারা।
বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে পাল্টা কর্মসূচি দেয় বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। নিজ নিজ দলের কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে কাকরাইল ও বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সংঘর্ষে জড়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। ভাঙচুর করা হয় তাদের বহনকারী বাস-পিকআপ।
দিনভর থেমে থেমে চলে এমন সংঘর্ষ। কাকরাইলে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় পুলিশ। এ সময় হামলা ও ভাঙচুর হয় প্রধান বিচারপতির বাসভবন। পুলিশি ব্যারিকেড ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় পুলিশ বক্সে। এসময় মারধর করা হয় সাংবাদিকদেরও।
পুলিশের টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। করে। আইডিইবি ভবনে রাখা দুটি গাড়িতে দেয়া হয় আগুন। এই সংঘর্ষ বিজয়নগর পানির ট্যাংক ও শান্তিনগরসহ ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন জায়গায়। চলতে থাকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষ। রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালের ফটকের ভেতরে রাখা মোটরসাইকেল, অ্যাম্বুলেন্সে দেয়া হয় আগুন।
দিনভর সেই সংঘর্ষে মারা যান একজন যুবদল কর্মী ও এক পুলিশ সদস্য। আহত হয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি। পরে ডিএমপির পক্ষ থেকে হত্যা, বিস্ফোরক, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ ৩৬ টি মামলা করা হয়। ১ হাজার ৫০০ জনের নামসহ অজ্ঞাত কয়েক হাজার জনকে করা হয় আসামি।
এসব মামলায় গ্রেফতার করা হয় মির্জা ফখরুল ইসলাম, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ ১ হাজার ৭২৭ জনকে। ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের পর এসব মামলায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ফাইনাল রিপোর্ট দেয় পুলিশ। একে একে মুক্তি পান বিএনপি নেতাকর্মীরা।