
নবীজির জীবনের শেষ আমল মিসওয়াক

বিয়ে মানুষের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। স্বামী-স্ত্রীর নতুন জীবনে বরকত, ভালোবাসা ও কল্যাণ কামনা করা ইসলামের সুন্দর একটি শিক্ষা। রাসুলুল্লাহ ﷺ নবদম্পতিকে অভিনন্দন জানানোর জন্য একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন। এটি শুধু শুভেচ্ছা নয়; বরং নবদম্পতির সুখী ও কল্যাণময় জীবনের জন্য একটি বরকতময় প্রার্থনা।
নবদম্পতির জন্য দোয়া
بَارَكَ اللَّهُ لَكَ، وَبَارَكَ عَلَيْكَ، وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ উচ্চারণ: বারাকাল্লাহু লাকা, ওয়া বারাকা আলাইকা, ওয়া জামাআ বাইনা কুমা ফি খাইর।
অর্থ: আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন, তোমার ওপর তাঁর বরকত নাজিল করুন এবং তোমাদের দুজনকে কল্যাণের সঙ্গে একত্রে রাখুন। সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ২১৩০; জামে তিরমিজি, হাদিস ১০৯১; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৯০৫।
হাদিসের মান: আল্লামা আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। ইমাম তিরমিজি (রহ.) বলেছেন, হাসান সহিহ।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন কাউকে বিয়ের জন্য অভিনন্দন জানাতেন, তখন তিনি এই দোয়া পড়তেন।
দোয়াটি সংক্ষিপ্ত হলেও এর মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত সুন্দর তিনটি প্রার্থনা। প্রথমত, নবদম্পতির জীবনে বরকত কামনা করা। দ্বিতীয়ত, তাদের ওপর আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও কল্যাণ কামনা করা। তৃতীয়ত, স্বামী-স্ত্রীকে কল্যাণের পথে একসঙ্গে রাখার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা।
দোয়ার শব্দগুলোর তাৎপর্য
বারাকাহ (বরকত): বরকত বলতে শুধু সুখ-শান্তি বোঝায় না; বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্থায়ী কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও উপকারিতা বোঝায়। এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়, যেন দাম্পত্য জীবন দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের মাধ্যম হয়।
ওয়া জামাআ বাইনা কুমা ফি খাইর: অর্থাৎ আল্লাহ যেন তোমাদের দুজনকে কল্যাণের সঙ্গে একত্রে রাখেন। ঈমান, উত্তম চরিত্র, পারস্পরিক ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও পারিবারিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যেন তাদের মধ্যে ঐক্য ও কল্যাণ বজায় থাকে।
মূল হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ বরকে উদ্দেশ্য করে একবচন শব্দ ব্যবহার করেছেন। তবে স্বামী-স্ত্রী দুজনকে একসঙ্গে অভিনন্দন জানাতে চাইলে দোয়াটি দ্বিবচন শব্দে পড়া যায়।
بَارَكَ اللَّهُ لَكُمَا، وَبَارَكَ عَلَيْكُمَا، وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ উচ্চারণ: বারাকাল্লাহু লাকুমা, ওয়া বারাকা আলাইকুমা, ওয়া জামাআ বাইনা কুমা ফি খাইর।অর্থ: আল্লাহ তোমাদের দুজনকে বরকত দান করুন, তোমাদের উভয়ের ওপর তাঁর বরকত নাজিল করুন এবং তোমাদের কল্যাণের সঙ্গে একত্রে রাখুন।
দাম্পত্য জীবনের আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া
১. স্ত্রীর কল্যাণ কামনায় স্বামীর দোয়া
বিয়ের পর স্বামী যখন স্ত্রীর কাছে যাবেন, তখন তার কপালের সামনের অংশ ধরে আল্লাহর নাম নিয়ে এই দোয়া করতে পারেন।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা জাবালতাহা আলাইহি, ওয়া আউযু বিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি মা জাবালতাহা আলাইহি।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে তার কল্যাণ এবং তার স্বভাব-প্রকৃতির মধ্যে যে কল্যাণ রেখেছেন, তা প্রার্থনা করছি। আর তার অনিষ্ট এবং তার স্বভাব-প্রকৃতির মধ্যে যে অনিষ্ট রেখেছেন, তা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ২১৬০; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৯১৮। হাদিসের মান: আল্লামা আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে হাসান বলেছেন।
২. স্বামী-স্ত্রীর মিলনের আগে পাঠ করার দোয়া
দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মিলনের আগে উভয়ে এই দোয়া পড়বেন।
بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি, আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইতানা ওয়া জান্নিবিশ শাইতানা মা রাযাকতানা।
অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ! আমাদের থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন এবং আপনি আমাদের যে সন্তান দান করবেন, তার থেকেও শয়তানকে দূরে রাখুন। সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস ১৪১; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৪৩৪।
হাদিসের মান: হাদিসটি সহিহ বুখারি ও মুসলিম উভয় গ্রন্থে বর্ণিত।
এখানে উল্লেখিত হাদিসের নম্বরগুলো সুন্নাহ ডটকম ও দারুসসালাম প্রকাশিত সংস্করণ অনুসারে দেওয়া হয়েছে। প্রকাশনী ও মুদ্রণভেদে হাদিসের নম্বরে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে।
নবদম্পতিকে বিয়ের শুভেচ্ছা জানানোর সবচেয়ে সুন্দর উপহার হতে পারে একটি আন্তরিক দোয়া। শুধু মুখের শুভেচ্ছা নয়, বরং তাদের নতুন জীবনে আল্লাহর রহমত, বরকত ও কল্যাণ কামনা করাই হোক আমাদের প্রত্যাশা। আল্লাহ তাআলা প্রতিটি দম্পতির দাম্পত্য জীবনকে সুখময়, শান্তিময় ও বরকতময় করুন। তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা ও বোঝাপড়া বাড়িয়ে দিন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে একসঙ্গে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।