
ইসলাম গ্রহণ করে মার্কিন তরুণী বললেন, ‘যা খুঁজছিলাম, সব পেয়ে গেছি’
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৩৯

মিসওয়াক করা গুরুত্বপূর্ণ আমল। এটি নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের শেষ আমল। এতে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ হয়। পাশাপাশি দাঁতও পরিষ্কার হয়। প্রত্যেক ফরজ নামাজের আগে মিসওয়াক করলে নামাজের সওয়াব ৭০ গুণ বেড়ে যায়।
মিসওয়াকের এত বেশি গুরুত্ব যে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি আমি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে অবশ্যই প্রত্যেক নামাজের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম। (মিশকাত: ৩৪৬)
নবীজির স্ত্রী হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিসে আছে, নবীজি বলেন, যে নামাজ মিসওয়াক করে আদায় করা হয়, সে নামাজ মিসওয়াক করা বিহীন নামাজের চেয়ে ৭০ গুণ বেশি সওয়াবের। (বায়হাকি, সুনানুল কুবরা: ১৫৯)
হজরত আবু উমামা (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে আছে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
তোমরা মিসওয়াক করো। নিশ্চয়ই মিসওয়াক মুখ পরিষ্কারকারী ও আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ। যখনই জিবরাইল আমার কাছে আসেন, তখনই আমাকে মিসওয়াক করার জন্য বলেন। এমনকি আমি ভয় করি যে, আমার ও আমার উম্মতের উপর তা ফরজ করা হয় কি-না। আমার উম্মতের উপর কঠিন হয়ে যাওয়ার ভয় না করলে মিসওয়াক করা আমি উম্মতের উপর ফরজ করে দিতাম। আমি মিসওয়াক করতেই থাকি এমনকি আশঙ্কা করি যে, আমি হয়ত আমার মুখের সামনের দিক ক্ষয় করে ফেলব। (ইবনু মাজাহ: ২৮৯)
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিসওয়াক করাকে এতটাই গুরুত্ব দিতেন, এতটাই ভালোবাসতেন যে, তিনি মৃত্যুর সময়েও মিসওয়াক করা ছাড়েননি, বরং তিনি যখন মিসওয়াক করতে পারছিলেন না তখন হযরত আয়েশা রা. নিজ থেকে মিসওয়াক চিবিয়ে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে তুলে দিচ্ছিলেন।
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে থাকা অবস্থায় আমার বুকে মাথা রেখে ইন্তেকাল করেন। তিনি অসুস্থ হলে আমাদের মধ্যে কেউ দোয়া পড়ে তাকে ঝাড়ফুঁক করতেন। আমি তাকে ঝাড়ফুঁক করছিলাম। এমন সময় আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) এলো। তার হাতে মিসওয়াকের একটি তাজা ডাল ছিল। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিকে তাকালেন। আমি বুঝতে পারলাম, তিনি মিসওয়াকের প্রয়োজন বোধ করছেন। আমি সেটি নিয়ে চিবিয়ে প্রস্তুত করে তাকে দিলাম। তিনি সেটি দিয়ে সুন্দরভাবে মিসওয়াক করলেন, যে রকম তিনি (সুস্থ সময়ে) করে থাকেন। এর পর তিনি সেটি আমাকে দিলেন। এর পরই তার হাত ঢলে পড়ল। পার্থিব জীবনের শেষ দিনে এবং আখিরাতের প্রথম দিনে মহান আল্লাহ আমার থুতুকে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের থুতুর সঙ্গে মিলিয়ে দিলেন। (বুখারি: ৪৪৫১)
মিসওয়াক করার নিয়ম
মিসওয়াক নিজ হাতের আঙুলের মতো মোটা এবং এক বিঘত পরিমাণ লম্বা হওয়া মুস্তাহাব, তবে জরুরি বা আবশ্যক নয়। এতে মিসওয়াক ধরতে সুবিধা হয়। ডান হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলি নিচে রেখে মিসওয়াক ধরতে হবে। মধ্যমা ও তর্জনী থাকবে ওপরে, বৃদ্ধাঙ্গুলি নিচে। এতে মুখের ভেতর ভালোভাবে ঘুরিয়ে মিসওয়াক করা সম্ভব হয়। এ পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)।
মিসওয়াক করার সুন্নতসম্মত পদ্ধতি হলো ডান হাতে মিসওয়াক নিয়ে ডান দিক থেকে মিসওয়াক শুরু করা। দাঁতে প্রস্থে ও জিহ্বায় লম্বালম্বি মিসওয়াক করা সুন্নত। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/৭; আল বিনায়াহ: ১/২০৪, আদ্দুররুল মুখতার: ১/১১৩)