
ফাজিল-কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বাতিলের সিদ্ধান্ত হাইকোর্টে স্থগিত
মুফতি জাকারিয়া হারুন
প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৩:৪২

মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি। ছবি: সংগৃহীত
মুসলিম বিশ্বের প্রখ্যাত আলেম, ইসলামি চিন্তাবিদ ও বিশিষ্ট ফকিহ মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি বাংলাদেশ সফরে আসছেন।
রোববার (১ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজধানীর শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ও শাইখুল হাদিস মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ।
তিনি জানান, আগামী ২২ নভেম্বর রোববার বাদ জোহর রাজধানীর কাওলা নামাপাড়ায় শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে ১৫ সালা দস্তারবন্দী মহাসম্মেলন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি। এ ছাড়া বাংলাদেশ সফরকালে তিনি আরও কয়েকটি সম্মেলনে অংশ নেবেন।
মুফতি তাকি উসমানি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পণ্ডিত, আইনবিদ, বিচারক এবং দেওবন্দি আন্দোলনের বুদ্ধিবৃত্তিক নেতা। তিনি করাচি বিশ্ববিদ্যালয় ও পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় (লাহোর) থেকে আরবি সাহিত্যে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন (১৯৭০)। পাশাপাশি আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। করাচির দারুল উলুম থেকে ইসলামি শিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং হাদিস, ফিকহ ও তাসাউফে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন।
১৯৮২ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের শরিয়ত আপিল বেঞ্চের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ১৯৮১ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত তিনি ফেডারেল শরিয়ত কোর্টের বিচারক ছিলেন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত জিয়াউল হকের নেতৃত্বাধীন ইসলামি আদর্শ কাউন্সিলের (Council of Islamic Ideology) সদস্য ছিলেন এবং হুদুদ অধ্যাদেশ প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন।
বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমি (জেদ্দা) এবং বাহরাইনভিত্তিক ইসলামি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব ও নিরীক্ষা সংস্থার (AAOIFI) শরিয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং দারুল উলুম করাচির শাইখুল হাদিস ও নায়েবে মুহতামিম। ২০২১ সাল থেকে তিনি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া পাকিস্তানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আধুনিক ইসলামি ব্যাংকিং ও সুদবিহীন অর্থব্যবস্থার অন্যতম প্রবর্তক ও বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ। তিনি মিযান ব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরিয়াহ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন।
তিনি আরবি, উর্দু ও ইংরেজি ভাষায় ১৪৩টির বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে:
১. ইংরেজি ও উর্দু ভাষায় পবিত্র কুরআনের অনুবাদ ও তাফসীর (তাওযীহুল কুরআন)।
২. সহিহ মুসলিমের ওপর ৬ খণ্ডের আরবি শরিহ গ্রন্থ ‘তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম’।
৩. ইসলামি বাণিজ্যিক আইন ও অর্থনীতি নিয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ফিকহুল বুয়ূ’।
৪. ‘উসূমুল কুরআন’ ও ‘আপ্রোচ টু দ্য কুরআনিক সায়েন্সেস’।
ইসলামে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে তাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ পদকে ভূষিত করা হয়।