
ফ্রি ওমরাহর সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে
মুফতি জাকারিয়া হারুন
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:৭

দায়িত্ববোধ অনেক বড় বিষয়। দায়িত্বসচেতন মানুষ সব জায়গায় সমাদৃত হন। অসচেতন ও ফাঁকিবাজ লোকদের কেউ পছন্দ করে না। বরং সব জায়গায় নিন্দিত হন। কর্মস্থল দায়িত্ববোধের সবচেয়ে বড় জায়গা। সে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমেই উপার্জন হালাল হয়। আর হালাল উপার্জন করা ফরজ এবং ইবাদত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত। ফলে এটি শুধু নামাজ, রোজা ও হজের মতো ইবাদতই নয়, বরং এসব ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য হালাল উপার্জন জরুরি। কিন্তু অনেকেই জেনে না-জেনে কাজে ফাঁকি দিচ্ছেন। তবে কি সেসব ব্যক্তি হালাল উপার্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন?
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘হালাল উপার্জন করা, অন্যান্য ফরজ আদায়ের পর আরেকটি ফরজ।’ (তাবরানি ও বায়হাকি)।
এ দায়িত্বের কথা স্মরণ করে দিয়ে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘জেনে রেখো! তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীলদের একজন; আর তোমরা প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব ইমাম, যিনি জনগণের দায়িত্বশীল; তিনি তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। পুরুষ গৃহকর্তা তার পরিবারের দায়িত্বশীল; তিনি তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। নারী তার স্বামীর পরিবার, সন্তান-সন্ততির ওপর দায়িত্বশীল, তিনি এসব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। কোনো ব্যক্তির দাস নিজ মালিকের সম্পদের দায়িত্বশীল; তিনি এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। অতএব জেনে রাখো, প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্বাধীন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। (বুখারি: ৬৬৫৩)
মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘নামাজ শেষ হলে তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর দেয়া উত্তম রিজিক অনুসন্ধান করো ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, তোমরা সফলকাম হবে।’ (সুরা জুমা, আয়াত: ১০)।
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্য সর্বোত্তম খাদ্য’ (বায়হাকি)। তাই ফরজ বিধান মানলে যেমন সওয়াব হবে, হালাল উপার্জনেও সে রকম সওয়াব পাওয়া যাবে। হালাল উপার্জনের তাগিদ থেকেই ইসলাম বরাবর আমাদের কাজে উৎসাহিত করে। আগ্রহী করে তোলে হালাল আয়-উপার্জনে।
কর্মস্থলের দায়িত্ব একটি আমানত। এ আমানত যথাযথভাবে পালন করা উচিত। অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অমনোযোগ ও ফাঁকির আশ্রয় নিলে আমানতের খেয়ানত হবে। উপার্জিত অর্থে মিশে যাবে খেয়ানতের অপবিত্রতা। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমরা যখন কাউকে দায়িত্ব প্রদান করি, সে যদি এক টুকরো সুতা বা তার চেয়েও কোনো ক্ষুদ্র জিনিস খেয়ানত করে, তবে কেয়ামতের মাঠে সে খেয়ানতের বোঝা মাথায় নিয়ে উঠবে’ (মেশকাত)।
কর্মস্থলে নির্ধারিত অঙ্গীকার পূর্ণ না করা, কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া ও কর্মস্থল ত্যাগের বেলায় সময়ের যথাযথ ব্যবহার না করা প্রতারণারই শামিল। পুরো সময় কাজ না করলে বা দায়িত্বে অবহেলা করলে পরিপূর্ণ বেতনও হালাল হবে না। নিজ সন্তান ও পরিবারের জন্য বৈধ উপার্জনই হোক জীবনচলার অবলম্বন।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি হারাম পন্থায় সম্পদ উপার্জন করে তা থেকে দান-খয়রাত করলেও কবুল হবে না এবং তিনি তার এই সম্পদের বরকত পাবে না। পরিত্যক্ত হারাম সম্পদ তার জাহান্নামের পাথেয় হবে’ (মুসনাদে আহমাদ)।
নবীজি (সা.) আরও বলেছেন, ‘অনেক মানুষ দীর্ঘ সফর করে কাবায় আসেন এবং অত্যন্ত ব্যাকুলভাবে দুহাত তুলে আল্লাহর দরবারে বলতে থাকেন, হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করো ইত্যাদি! অথচ তার কোনো দোয়াই কবুল হয় না’ (মেশকাত)। যেহেতু সে ব্যক্তির পানাহারসামগ্রী হারাম উপার্জনের, পরিধেয় পোশাক-পরিচ্ছদ হারাম পয়সার, এমতাবস্থায় তার ইবাদত-বন্দেগি, নামাজ-রোজা কী করে কবুল হতে পারে? হাদিসের আরও কঠোর ভাষ্য হলো, নবীজি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হারাম উপার্জনের এক লোকমা তার পেটে ঢোকাবে, ৪০ দিন পর্যন্ত তার নামাজ-রোজা, ইবাদত কবুল হবে না’ (তাবরানি)।
আবার অনেক জায়গায় সাধ্যের চেয়ে বোঝা বেশি চাপিয়ে দেয়। এটি একদম অনুচিত। মানবতার নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শ্রমিকের অধিকার আদায়ে চূড়ান্ত মূলনীতি বলে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ঘাম শুকানোর আগেই শ্রমিকের পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।’ (ইবনে মাজাহ : ২৪৩০) এদিকেও নজর দিতে হবে। পুঙ্খানুপুঙ্খ কাজ আদায় করে অনেক কর্তাব্যক্তি ন্যায্য পারিশ্রমিক দিতে গড়িমসি করেন। ন্যায্য পারিশ্রমিক পরিশোধে হেলা করায় এদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি।