
‘না জানিয়ে’ আলভারেজকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করায় বার্সেলোনাকে জরিমানা
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১

আর্সেনালকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে ফ্লিটউড টাউন। ছবি: রয়টার্স
অঘটনের শিকার হয়েছে প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কারাবাও কাপ থেকে ছিটকে পড়েছে গানাররা। মিকেল আর্তেতার দল টাইব্রেকারে অবিশ্বাস্যভাবে হেরে গেছে চতুর্থ বিভাগের দল ফ্লিটউড টাউনের কাছে।
জয় নিশ্চিত করার পথে ব্রুনো গিমারায়েসের পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন ফ্লিটউডের গোলরক্ষক জে লিঞ্চ। এরপর কিশোর ডিফেন্ডার কনর হগি জোরালো শটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলের ৫-৩ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন। সঙ্গে সঙ্গে সমর্থকরা আনন্দে নেমে আসে হাইবারি স্টেডিয়ামের মাঠে। প্রতিযোগিতাটির ৬৬ বছরের ইতিহাসে অন্যতম বড় অঘটন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে এই হার।
জয়সূচক পেনাল্টি নেওয়ার আগে কী ভাবছিলেন, স্কাই স্পোর্টসের এমন প্রশ্নে হগি বলেন, 'জানি না, শুধু শট নেওয়ার জায়গাটা ঠিক করলাম এবং বল জালে পাঠালাম! ওপরের কোণে শট নিয়ে এরপর দৌড় দিলাম।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নদের হারিয়েছি। এতে বোঝা যায়, আমাদের দল কতটা ভালো।'
প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন অবস্থায় কোনো চতুর্থ বিভাগের দলের কাছে লিগ কাপ থেকে বিদায় নেওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম। ইংল্যান্ডের ফুটবল কাঠামোয় দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ৮৪ ধাপ। ড্রাফটকিংসের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে আর্সেনালকে হারিয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়ার জন্য ফ্লিটউডের পক্ষে বাজির দর ছিল +১৫০০!
এদিন নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হয় ১-১ গোলে।
ফ্লিটউডের কোচ ম্যাট ললর স্কাই স্পোর্টসকে বলেন, 'আমার মনে হয় না, এই জয়ের অনুভূতি পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারব। আমি খেলোয়াড়দের বলেছি, এই মুহূর্তটা উপভোগ করতে। তবে শনিবার আমাদের লিগের ম্যাচ আছে। বাস্তবতার কথা বলতে চাইনি, কিন্তু আমাদের আরেকটি ম্যাচ খেলতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। প্রতিপক্ষ হিসেবে এত বড় দল শহরে আসায় এটি ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাত। কোনোভাবে আমরা চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে দিয়েছি!'
আর্সেনাল অবশ্য পূর্ণ শক্তির দল নামায়নি। ডেকলান রাইস, গ্যাব্রিয়েল ও ডেভিড রায়ার মতো প্রথম একাদশের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়েরা ছিলেন না। তবে কোচ মিকেল আরতেতা অভিজ্ঞ ফুটবলারদের নিয়ে শক্তিশালী দলই সাজিয়েছিলেন। প্রথমার্ধে ফ্লিটউড ১-০ গোলে এগিয়ে থাকায় বিরতির পর অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডকেও মাঠে নামান তিনি।
লিগ টুতে ১৮তম স্থানে থাকা ফ্লিটউড স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ২১ মিনিটে। ফুলহ্যাম থেকে ধারে খেলতে আসা অ্যারন লুপালো-বির গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। অন্যদিকে, একাধিক পরিবর্তন নিয়ে নামা আর্সেনাল তখনও নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিল না।
দ্বিতীয়ার্ধে ওডেগার্ড মাঠে নামার পর আর্সেনালের খেলায় উন্নতি দেখা যায়। ৫০ মিনিটে ভিক্টর ইয়োকেরেস কোনোমতে বল জালে পাঠিয়ে চলতি মৌসুমে নিজের প্রথম গোলটি করেন। ফলে সমতায় ফেরে গানাররা।
এরপর আর্সেনাল একের পর এক আক্রমণ করলেও গোলের দেখা পায়নি। উল্টো খেলা শেষ হতে পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের কিশোর প্রতিভা ম্যাক্স ডাউম্যানকে। মাঠ ছাড়ার সময় কোচ আর্তেতার কাছ থেকে তাকে বকুনি শুনতেও দেখা যায়।
নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে বেন হোয়াইট ও ওডেগার্ডের দুটি বিপজ্জনক শট দারুণভাবে ঠেকান লিঞ্চ। এরপর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ফ্লিটউডের খেলোয়াড়েরা নিখুঁতভাবে সব পেনাল্টি থেকে গোল করে শীর্ষ বিভাগের কোনো দলকে প্রথমবার হারানোর কৃতিত্ব অর্জন করেন।
আর্সেনাল কোচ আর্তেতা বলেন, 'আমাদের জন্য এটি সত্যিই দুঃখজনক একটি দিন। খেলোয়াড়দের মানসিকতা নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। এই পর্যায়ে যা করা প্রয়োজন, তা করতে কাউকে ব্যর্থ হতে দেখিনি। কিন্তু বলের দখল আমাদের কাছে ছিল অনেক বেশি, আমরা প্রচুর সুযোগ পেয়েছি, অনেক শট নিয়েছি। পেনাল্টি পর্যন্ত গড়ানোর আগেই যদি ব্যবধান বাড়াতে চাই, তাহলে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা তা পারিনি। আর ফুটবল আসলে এমনই।'
এই জয়ের ফলে প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতাটির কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ফ্লিটউড। জয়ের পর দলের খেলোয়াড়েরা জানান, গত মৌসুমে চতুর্থ বিভাগের গ্রিমসবির কাছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হারের ঘটনা থেকে তারা অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন।
গোলরক্ষক লিঞ্চ বলেন, 'গত বছর গ্রিমসবির কাছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হার আমরা দেখেছিলাম। সেই ঘটনার সঙ্গে নিজেদের তুলনা করেছি, যদিও এবার প্রতিপক্ষ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন। আমরা ভেবেছিলাম, নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিই, তারপর দেখা যাবে কী হয়।'
ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় শহর ফ্লিটউড মূলত পরিচিত সাবেক ইংল্যান্ড ও লেস্টার সিটির স্ট্রাইকার জেমি ভার্ডির কারণে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে মাত্র এক মৌসুম ফ্লিটউডে খেলেছিলেন তিনি। তার অবদানে দলটি পঞ্চম বিভাগ থেকে উন্নীত হয়ে ইংলিশ ফুটবল লিগে জায়গা করে নেয়। এরপর ২০১২ সালে লেস্টার সিটিতে যোগ দেন ভার্ডি।
ইংলিশ ফুটবলের চতুর্থ বিভাগের দলের কাছে লিগ কাপ থেকে টানা দ্বিতীয়বার বিদায় নিল আর্সেনাল। এর আগে ২০১২-১৩ মৌসুমে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্র্যাডফোর্ড সিটির কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরেছিল উত্তর লন্ডনের দলটি। অবশ্য এর আগে চতুর্থ বিভাগের দলগুলোর বিপক্ষে টানা আটটি ম্যাচে জিতেছিল তারা।
গত মৌসুমের শেষ দিকে বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে পিএসজির কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরেছিল আর্সেনাল। এবারও টাইব্রেকারে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেল দলটি।