
ব্যাটিং ব্যর্থতায় ডুবেছে বাংলাদেশ, সমস্যা মানসিকতায়: হৃদয়
খেলা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪২

বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগ নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন কায়েস। ছবি: ফেসবুক
ওয়ানডেতে স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে বাংলাদেশের ব্যাটিং দুর্বলতা। মাঠে পারফর্ম না করেও একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন অনেকে। ব্যাটিং পজিশনে বারবার পরিবর্তন, টিম সিলেকশনে স্বজনপ্রীতি নিয়েও আছে অভিযোগ। তামিমের বোর্ড দায়িত্বে আসার পর ভাগ্য খুলেছে অনেকের। সম্প্রতি বাংলাদেশের হতাশজনক পারফরম্যান্সে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ ঝেড়েছেন সাবেক টাইগার ওপেনার ইমরুল কায়েস।
নুরুল হাসান সোহান। প্রায় এক দশক আগে ওয়ানডে অভিষেক হয় এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের। ১৫ ইনিংস খেলে এখন পর্যন্ত একটি ফিফটি নেই তার নামের পাশে। ঘরোয়া লিগেও নিয়মিত নন এই ব্যাটসম্যান। তবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে দলের নিয়মিত মুখ হয়ে উঠেছেন সোহান। তামিম ইকবালের বোর্ড দায়িত্বে আসার পর একাদশে তার জায়গা অনেকটা অটো চয়েজের মতো।
সৌম্য সরকার। আর কত সুযোগ দেয়া হবে তাকে। এবছর ৯ ইনিংসে কেবল একটি পঞ্চাশোর্ধ রান। কখনো তাকে খেলানো হচ্ছে পাঁচে, কখনো ওয়ান ডাউনে। ৫০ ওভারের এই ফরম্যাটে এখনো নিজেকে প্রমাণ করতে পারলেন না সাইফ হাসান। নামে অলরাউন্ডার হলেও ব্যাটিংয়ে ধার নেই মেহেদী মিরাজের। নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটেও ধারাবাহিকতার অভাব। এমন দুর্গতি ঠেলে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে কতদূর যেতে পারবে টাইগাররা।
এদিকে, ঘরোয়া লিগে নিয়মিত পারফর্ম করেও জাতীয় দলের বিবেচনায় নেই বাংলাদেশের একমাত্র যুব-বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলী। ২০২৫ এশিয়া কাপের পর আর জাতীয় দলের একাদশে দেখা যায়নি জাকের আলীকে। এর বাইরে বাংলাদেশ পাইপলাইনে আর কোনো ব্যাটসম্যান তৈরি করতে পারেনি। এ ব্যর্থতার দায়ভার কার। কেন এমন ভরাডুবি একদিনের ম্যাচে। উত্তরটা দিলেন ইমরুল কায়েস। দল নির্বাচন নিয়ে হচ্ছে স্বজনপ্রীতি। সামাজিক মাধ্যমে টিম ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশেরই সাবেক ওপেনার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কায়েস বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ক্রিকেট বোর্ডের উচিত যোগ্যতা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য সেরা একাদশ নির্বাচন করা। ক্রিকেট একটি গোটা জাতির প্রতিনিধিত্ব করে। তাই জাতীয় দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবেগের বশবর্তী হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। যথেষ্ট হয়েছে! এবার যোগ্যতা, ন্যায্যতা এবং দেশের স্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখার সময় এসেছে।’
কখনো ম্যাচের শুরুতে উইকেট বিলিয়ে দেয়া, কখনো ম্যাচের মোমেন্টাম বুঝে না খেলা, আবার জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেও শেষপর্যন্ত ব্যাটিং বিপর্যয়ে পরাজয় বরণ। এটিই এখন বাংলাদেশের ওয়ানডে ফরম্যাটের নিয়মিত চিত্র। কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল কতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পারছেন এসব সমস্যার সমাধানে। যে বাংলাদেশ একসময় জিম্বাবুয়েকে হেসে খেলে হারাত, তারাই এখন হারছে নিয়মিত। তাও আবার টাইগারদের প্রিয় সংস্করণ একদিনের ম্যাচে। আশরাফুলের আমলে ওয়ানডে দুর্দশায় পড়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের আগে টাইগার ব্যাটসম্যানদের প্রস্তুতির ঘাটতি এখন দিবালোকের মতো সত্য।