
সাত-আট বছর আগেই রোনালদো ফুরিয়ে গেছেন, দাবি সাবেক কোচের
খেলা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৪১

ভারতের টেস্ট দলে জায়গা না পেয়ে হতাশ সরফরাজ খান। ছবি: এপি
ফিটনেসের উন্নতি এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক রান করার পরও ভারতীয় টেস্ট দলে ফেরার সুযোগ না পাওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরফরাজ খান। এই মিডল অর্ডার ব্যাটার ২০২৪ সালে মুম্বাইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন।
মুম্বাইয়ের হয়ে রেলওয়েজের বিপক্ষে রঞ্জি ট্রফির ম্যাচের প্রথম দিনের খেলা শেষে সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সরফরাজ বলেন, ‘অনেক কিছুই ঘটে গেছে। আমি এখন আর বেশি কিছু ভাবছি না। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজেকে একই প্রশ্ন করি, “আমি কেন এত পরিশ্রম করব?”’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় একই রুটিন শুরু হয়। আমি ভারতের হয়ে খেলেছি। স্বাভাবিক রুটিন মেনেও আমি মুম্বাইয়ের হয়ে রঞ্জি ট্রফি খেলতে পারি, কারণ আমি ৩০, ৫০ কিংবা ১০০ রানের ইনিংস খেলেই চলেছি।’
কঠিন সময়ে তার অনুপ্রেরণা হিসেবে বাবার কথা উল্লেখ করেন ২৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। সরফরাজের বাবা নওশাদ খান বরাবরই তার পাশে থেকেছেন।
‘তবে মাঝেমধ্যে সেই প্রশ্নটা মাথায় আসে। আবার যখন দেখি, আমার বাবা কঠোর পরিশ্রম করছেন, তখন ভাবি, ঠিক আছে, তার জন্যই মাঠে গিয়ে রান করব। আমার রুটিন একই আছে,’–সরফরাজ বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘সবাই জানে, সরফরাজ খানের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তার বাড়ির ঠিকানায় যেতে হবে না। ভোর ছয়টায় আজাদ ময়দান কিংবা ক্রস ময়দানে গেলেই তার দেখা পাওয়া যাবে।’
ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে আপাতত ক্রিকেটেই মনোযোগ দিতে চান সরফরাজ।
তিনি বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য ডাক পাব, সেটাও আমি জানতাম না। আমি তখন এনসিএতে ছিলাম। আমাকে ডাকা হয়েছিল, কিন্তু খেলার সুযোগ পাইনি। এরপর ফিরে এসে মুম্বাইয়ের হয়ে ক্রিকেট খেলছি। এখন আর কিছুই বুঝতে পারি না, শুধু খেলে যাচ্ছি।’
‘জাতীয় দলের নির্বাচকেরা ডাকলে আমি গিয়ে ভারতের হয়ে খেলব। আর ডাক না পেলে এখানেই খেলব,’–তিনি যোগ করেন।
তবে সরফরাজের একটি মন্তব্য বেশ চমকপ্রদ। তার দাবি, ভারতীয় দল তাকে মূলত দেশের মাটিতে টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্যই বিবেচনা করছে। যদিও দলের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে নিজের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি এখনো স্পষ্ট কোনো বার্তা পাননি।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে টেস্ট অভিষেক হওয়া সরফরাজ এখন পর্যন্ত ক্যারিয়ারের ছয়টি টেস্টই খেলেছেন ভারতের মাটিতে।
সম্প্রতি চোট পাওয়া সাই সুদর্শনের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কা সফরে ভারতীয় দলে জায়গা পেয়েছিলেন মুম্বাইয়ের এই ব্যাটার। কিন্তু কোনো ম্যাচেই একাদশে সুযোগ পাননি। এর আগে অস্ট্রেলিয়া সফরেও ভারতীয় দলের সঙ্গে ছিলেন তিনি, তবে সেখানেও একাদশে জায়গা হয়নি।
সরফরাজ বলেন, ‘কোনো নির্বাচক আমাকে সরাসরি এ কথা বলেননি। তবে ভারতীয় দলের সঙ্গে থাকার সময় আমি শুধু এটাই শুনেছি যে, ভারতের কন্ডিশনেই আমাকে বেশি বিবেচনা করা হচ্ছে।’
সোমবার (২ নভেম্বর) ব্র্যাবোর্ন স্টেডিয়ামে রেলওয়েজের বিপক্ষে ১০০ বলে ৫৫ রান করেন সরফরাজ। বিদেশের সফরগুলোর জন্য দল ঘোষণার সময় তার নাম না থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি।
নিজের যুক্তির পক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে করা দুটি সেঞ্চুরির উদাহরণও তুলে ধরেন সরফরাজ।
‘তারপরও আমার একটা প্রশ্ন আছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে ভারতীয় দলের বিপক্ষে ৬০ বলে (আসলে ৬৩ বলে) সেঞ্চুরি করেছিলাম। ইংল্যান্ডে গিয়েও ৬০ বলে (আসলে ৭৬ বলে ১০১ রান) সেঞ্চুরি করেছি,’–বলেন তিনি।
২০২৩-২৪ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে প্রিটোরিয়ায় ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে মূল ভারতীয় দলের বিপক্ষে ৬৩ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন সরফরাজ। এর এক বছর পর পাঁচ টেস্টের সিরিজের আগে বেকেনহ্যামে ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে ৭৬ বলে ১০১ রান করেন তিনি।
কিন্তু এই দুটি সফরের কোনোটিতেই মূল ভারতীয় দলে সুযোগ পাননি সরফরাজ।
‘তাই এমন নয় যে আমি ভারতের বাইরে রান করতে পারিনি। আমি রান করেছি। ঠিক আছে, এটা তাদের সিদ্ধান্ত, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। আমার কাজ ক্রিকেট খেলা,’–বলেন তিনি।
তবে সরফরাজের শেষ চারটি টেস্ট ইনিংসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০২৪ সালে পুনে ও মুম্বাইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার রান ছিল যথাক্রমে ১১, ৯, ০ ও ১। শেষ পর্যন্ত এই ব্যর্থতার পরই দল থেকে বাদ পড়েন এই আক্রমণাত্মক ব্যাটার।
বিদেশে খেলার পর দেশে ফিরে হঠাৎ স্পিন-সহায়ক উইকেটে মানিয়ে নেওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জকেও ওই সিরিজে ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সরফরাজ বলেন, ‘বিদেশ থেকে ফিরে যখন ভারতে একেবারে স্পিন-সহায়ক উইকেটে খেলতে হয়... হ্যাঁ, ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক লড়াই করে ভারতীয় দলে জায়গা পাওয়া যায়। কিন্তু হঠাৎ করে এত কঠিন উইকেটে ভালো খেলতে পারা সহজ নয়।’