
মালয়েশিয়ায় নথিবিহীন প্রবাসী আটক: ‘আমি তার বস’ বলে বাংলাদেশি মালিকের ক্ষোভ
মোহাম্মদ আবদুল কাদের
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৩২

মালয়েশিয়ায় অভিযান চালিয়ে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ কোটার অপব্যবহার ও অবৈধ মুনাফা অর্জনকারী চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের আমপাংয়ের তামান দাতো আহমদ রাজালি নামক এলাকার একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ কোটার অপব্যবহার ও অবৈধ মুনাফা অর্জনকারী একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ।
অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বোর্ডের (আইআরবি) গোয়েন্দা শাখাসহ অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টায় পরিচালিত এ যৌথ অভিযানে মোট ২০ জনকে তল্লাশি করা হয়। অভিযানকালে চক্রটির মূল হোতা ও ব্যবস্থাপক হিসেবে পরিচিত দুই নিবন্ধিত ব্যবসায়ী বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে যৌথ বাহিনী। এছাড়া ঘটনায় জড়িত ৬ জন স্থানীয় নারী কর্মী এবং অভিবাসন সংক্রান্ত নথি লেনদেনে আসা ৯ জন বাংলাদেশি ও ৩ জন ইন্দোনেশিয়ানসহ ১২ জন বিদেশি গ্রাহককে আটক করা হয়।
তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে নগদ ৬ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত এবং ২৬৫টি বাংলাদেশি, ৬৩টি ইন্দোনেশিয়ান, ১২টি পাকিস্তানি ও ১টি ভারতীয়সহ মোট ৩৪১টি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনিয়ম ও কর ফাঁকির উদ্দেশ্যে চক্রটি ‘এটুবি নিয়োগকর্তা’ মডেল ব্যবহার করে আসছিল। এই পদ্ধতির অধীনে তাদের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানটি (নিয়োগকর্তা ‘এ’) সরকার থেকে অস্থায়ী কর্মসংস্থান পাসের (পিএলকেএস) অনুমোদন নিয়ে বিদেশ থেকে শ্রমিকদের নিয়ে আসত। পরবর্তীতে এই শ্রমিকদের নিজ কোম্পানিতে কাজ না দিয়ে অবৈধভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানে (নিয়োগকর্তা ‘বি’) কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া হতো। ভুয়া নথিপত্র ও মিথ্যা তথ্য প্রদান করে বিদেশি শ্রমিকের কোটা হাসিল করার পর এই চক্রটি প্রতিটি শ্রমিকের বিপরীতে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত অবৈধ কমিশন আদায় করত।
শুধু তাই নয়, রাজস্ব ফাঁকি দিতে তারা কোম্পানির প্রকৃত উপার্জন অনেক কম দেখাত এবং মূল উদ্যোক্তা ২০২০ থেকে ২০২৩ কর বছর পর্যন্ত তার ব্যক্তিগত অর্জিত আয়েরও কোনো বিবরণী দাখিল করেননি।
বর্তমানে গ্রেফতার দুই বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, তাদের ব্যবস্থাপক এবং ৬ স্থানীয় নারী কর্মীর বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনের ধারা ৫৬(১)(এল) এবং ১৯৬৬ সালের পাসপোর্ট আইনের ধারা ১২(১)(এফ) এর অধীনে আইনানুগ তদন্ত চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি আটক ১২ জন বিদেশি গ্রাহককে অভিবাসন আইন ও বিধিমালা ভঙ্গের অপরাধে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তাছাড়া তথ্য গোপন ও আয়কর ফাঁকির অভিযোগে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বোর্ড ১৯৬৭ সালের আয়কর আইনের ধারা ১১২(৩) ও ১১৩(২) অনুযায়ী পৃথক তদন্ত শুরু করেছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, দেশের প্রচলিত আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি কিংবা মূল পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।