
কোস্টগার্ডের উদ্যোগে প্রশিক্ষণে অংশ নিলেন ৭ দেশের ১২ জন

ময়মনসিংহে কথা বলছেন এমরান সালেহ প্রিন্স। ছবি: সময় সংবাদ
বিএনপির বিরুদ্ধে কল্পকাহিনি প্রচার করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর ‘তলে তলে খাতির’ আড়াল করা যাবে না এবং শুধু নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গেই নয়, তাদের ‘প্রভু’খ্যাত দেশের সঙ্গেও জামায়াতের ‘পরকীয়া’ এখন ওপেন সিক্রেট বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার মুন্সিরহাট মাদ্রাসা মাঠে বাঘবেড় ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় নেতাদের মতামত শুনতেই এই সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, “২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের রক্তাক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের ‘তলে তলে খাতির’ ছিল বলে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক অসততার বহিঃপ্রকাশ। নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও ঐতিহাসিক দায় আড়াল করতেই বিএনপির বিরুদ্ধে এমন মনগড়া অভিযোগ তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত ওই নৃশংস সহিংসতার দায় কাল্পনিক কোনো সমঝোতার গল্প দিয়ে আড়াল করা যাবে না। ওই ঘটনাকে পুঁজি করে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেয়া কেবল দুঃখজনকই নয়, বরং নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টাও বটে।
এমরান সালেহ আরও বলেন, বিএনপিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড় করানোর যে কোনো অপচেষ্টা প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগের অতীত অপকর্মের দায় মুছে দেয়ার শামিল। যারা আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে বিএনপির দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামকে অস্বীকার করতে চায়, তারা মূলত ইতিহাসের সত্যকেই অস্বীকার করছে। তাই বিএনপির বিরুদ্ধে আঁতাতের কাল্পনিক গল্প ছড়িয়ে নিজেদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ঢাকার চেষ্টা না করার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এমরান সালেহ বলেন, জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামতের ওপর ভিত্তি করেই বিএনপির পক্ষ থেকে একজন প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া হবে। দল যাকে সমর্থন দেবে, দলীয় বিভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তার বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে। এর বাইরে গিয়ে দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
একই সঙ্গে আগামী ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে ফ্যাসিবাদের দোসরদের যে কোনো অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্রের বিষয়ে নেতাকর্মীদের মাঠপর্যায়ে সতর্ক ও সচেতন থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।
বাঘবেড় ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান ফরহাদ রাব্বানী সুমনের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলাম সরকারের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আনিসুর রহমান মানিক, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুস ও মাহবুবুল আলম বাবুল, জেলা যুবদলের সহসভাপতি আবুল কাশেম ডলার, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ফারুক হোসেন এবং উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বক্তব্য দেন।