
মাঠ পুনরুদ্ধার দাবিতে শেকৃবির শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, বাণিজ্য মেলার গেট-স্টল ভাঙচুর
এম এ আজীম
প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ৯:৩৮

নামিদামি কোম্পানির মোড়কে বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্য। সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে কেজি দরে পুরান ঢাকার চকবাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের মোড়ক। আর এসব মোড়ক ব্যবহার করেই বাজারে ভেজাল খাদ্যপণ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে একাধিক চক্র।
সময় সংবাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের একটি গলিতে রয়েছে মোড়কের দোকান। সেখানে চাল থেকে শুরু করে চানাচুরসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের নামিদামি কোম্পানির মোড়ক বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা সেজে সময় সংবাদের প্রতিবেদক যান এমনই একটি দোকানে সেখান থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে কেনা হয় দেশের নামকরা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্যের মোড়ক। তবে কোনো কারখানা নেই কোনো চিহ্ন, নেই বিএসটিআই বা মোড়কজাতকরণের লাইসেন্স। অথচ চকবাজারের এ ধরনের গলি থেকে সামান্য কিছু টাকায় কেনা মোড়ক ব্যবহার করেই বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর পণ্য।
আবার সাভারে গিয়ে দেখা যায়, একটি ছোট্ট ঘরে তৈরি করা হচ্ছে আইসক্রিম। তবে এর উপাদান দেখলে অবাক হতে হয়। ফ্লেভার, কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর রং দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে চকলেটের প্রলেপ। ঘরে রাখা ডিপ ফ্রিজ খুলতেই বেরিয়ে আসে আসল চিত্র। নামিদামি প্রতিষ্ঠানের ‘লাভেলো’ ও ‘পোলার’ এর মোড়কে বিক্রি করা হচ্ছে সেখানে তৈরি অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের আইসক্রিম।
কারখানাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, যেসব দোকানে তারা পণ্য সরবরাহ করেন সেসব দোকানদার জানেন কোথা থেকে পণ্য নেয়া হয়। কীভাবে তৈরি করা হয় এবং কীভাবে বিক্রি করা হয়। সবকিছু জানার পরও তারা এসব পণ্য বিক্রি করেন।
পোলারের প্যাকেটে আইসক্রিম বিক্রির কারণ জানতে চাইলে কারখানাসংশ্লিষ্ট একব্যক্তি জানান, পোলারের প্যাকেট আলাদাভাবে কিনে আনা হয়। কারণ নিজস্বভাবে একটি প্যাকেট তৈরি করতে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা খরচ হয়। অথচ অন্যের তৈরি করা প্যাকেট মাত্র ১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
একই এলাকার আরেকটি নামহীন কারখানার সন্ধান পায় সময় সংবাদ। তবে প্রতিবেদকের উপস্থিতি টের পেয়ে শ্রমিক-কর্মচারীরা সবাই সেখান থেকে সরে পড়েন। শুধু তাই নয়, কিছুক্ষণ আগেও সেখানে খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘বনফুল’ ও ‘কুলসুম’-এর মোড়কে পণ্য প্যাকেজিংয়ের কাজ চলছিল। কারখানাটির পরিবেশ ছিল অস্বাস্থ্যকর। এরসঙ্গে ছিল পচা সেমাইও। এভাবেই নামিদামি প্রতিষ্ঠানের মোড়কে বাজারে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে ভেজালপণ্য।
পণ্য মোড়কজাতকরণ বিধিমালা-২০২১ এর ৮ পরিচ্ছেদের ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, অন্য প্রতিষ্ঠানের মোড়কে পণ্য বাজারজাত করা সম্পূর্ণ বেআইনি। একইভাবে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মোড়ক ছাপানো ও বিক্রি করাও অবৈধ।
তাহলে ঢাকার চকবাজারে কীভাবে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোড়ক-এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আবারও মাঠে নামে সময় সংবাদ।
তবে প্রশ্নের মুখে অনেকেই কোনো উত্তর দিতে পারেননি। কেউ কেউ দিয়েছেন মনগড়া ব্যাখ্যা।
একসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বলেন, ‘ভেজাল পণ্য কারা তৈরি করছেন সেটি তাদের বিষয়। আমরা শুধু প্যাকেট বিক্রি করছি।’
প্রকাশ্যে ভেজাল খাদ্য তৈরি ও বিক্রির এমন কর্মকাণ্ড চললেও এ বিষয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভূমিকা জানতে চাইলে কর্মকর্তারা নিজেদের অসহায়ত্বের কথা জানান।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্যশিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, ‘যারা ভেজাল খাদ্য তৈরি ও বিক্রি করেন তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া উচিত। তবে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়ার বিষয়টি যেমন একদিকে আছে, ঠিক তেমনি তাদেরও নিজে থেকে নৈতিকভাবে সৎ না হলে এসব কর্মকাণ্ড মোকাবিলা করা খুবই কঠিন।’
সাভার, আশুলিয়া ও কেরানীগঞ্জের মতো ঢাকার উপকণ্ঠ এলাকায় শত শত কারখানায় চলছে ভেজাল পণ্যের এ রমরমা বাণিজ্য। অবৈধ মোড়ক ব্যবহার করে পণ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিনিয়ত ক্রেতাদের সঙ্গে করা হচ্ছে প্রতারণা।