
নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ২৫০ মিলিয়ন ইউরো ঋণ নিয়ে জার্মানিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২০

১৫ থেকে ১৮ ফুটের সড়কটি ৩৪ ফুটে উন্নীত করে আঞ্চলিক মহাসড়কে রূপ দেয়া হচ্ছে। ছবি: সময় সংবাদ
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিকল্প সড়ক হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-সরাইল-নাসিরনগর ও হবিগঞ্জের লাখাই সংকোচিত আঞ্চলিক সড়কটি আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নিত করণের লক্ষ্যে প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। এরপরই শুরু হয় দৃশ্যমান কাজ।
সড়ক সংশ্লিষ্টরা জানান, সড়কটি প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হলে বিকল্প এই সড়কে সিলেটের সাথে দূরত্ব কমবে অন্তত ৪০ কিলোমিটার। সেই সঙ্গে চাঙ্গা হবে হাওড়াঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ঢাকা থেকে সিলেটের দূরত্ব ২২০ কিলোমিটার। অপর দিকে ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের কোট্টা পাড়ার মোড় পর্যন্ত দূরত্ব অন্তত ১০০ কিলোমিটার। এ অস্থায় সরাইলের কোট্টাপাড়া থেকে নাসিরনগর ও হবিগঞ্জের লাখাই হয়ে বর্তমান ১৫ থেকে ১৮ ফুটের সড়কটি ৩৪ ফুটে উন্নীত করে আঞ্চলিক মহাসড়কে রূপ দেয়া হচ্ছে।
বর্তমানে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই- হবিগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কটি সংকোচিত হওয়ার কারণে সরাইলের কোট্টাপাড়া মোড়, সদরের উচালিয়া পাড়া, কালিকচ্ছ, নাসিরনগর উপজেলার কলেজ মোড়, লাখাই উপজেলার বাজার বাস স্ট্যান্ড, বামৈ বাজার, বুল্লা বাজার, কালাউক বাজার, লোকড়া বাজার,ধল বাজার ও রিচি বাজারে নিয়মিত যানজট লেগে থাকে।
জানা যায়, সড়কটির প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হলে সরাইল, নাসিরনগর ও লাখাই হবিগঞ্জ হয়ে সিলেটে চলাচলের ক্ষেত্রে অন্তত ৪০ কিলোমিটার সড়ক পথ কমে যাবে। দ্রুত গতিতে চলবে যানবাহন। যাতায়তের ক্ষেত্রে সময় কমবে অন্তত ১ ঘণ্টা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইমরান জানান, আমাদের নাসিরনগর হাওড় বিস্তৃত এলাকা। আমরা অনেক অবহেলিত মানুষ। সড়কটির প্রশস্ত করা হলে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থাটা অনেক ভালো হবে।
হাওড়াঞ্চলের বাসিন্দা আতিকুর রহমান বলেন, সড়কটি প্রশস্ত করার মধ্য দিয়ে বড় করা হলে আমাদের জমিনের উৎপাদিত ফসল আমরা সহজে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতে পারবো।
সিএনজি অটো রিক্সা চালক রহিম মিয়া জানান, রাস্তার যে অবস্থা আছে, এই রাস্তায় সিএনজি অটেরিকশা বা বাস চলাচলের জন্য উপযোগী না। যত দ্রুত সম্ভব এখানে ফোর লেনের কাজটা দ্রুত করা হোক। কারণ প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত প্রচুর জ্যাম লেগে থাকে নাসিরনগর কলেজ মোড় এলাকায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিবার্হী প্রকৌশলী ইউনূস আলী বলেন, সড়কটির প্রশস্ত করা হলে জনসাধারণের ট্রাভেল টাইম কমবে। ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল-কলেজ এবং রোগীদের উন্নত চিকিৎসা সেবা নিতে জেলাশহর কিংবা রাজধানীর হাসপাতালে যাওয়া আসার ক্ষেত্রে সময় কবে আসবে। এছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।
সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মান প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোফাজ্জল হায়দার বলেন, এই সড়কটি হওয়ার পরে ঢাকা-সিলেটের এই অঞ্চলে যারা আছেন, নাসিরনগর, সরাইল এবং লাখাইর উপজেলাবাসী যারা আছেন, তাদেরকে আর মেইন যে সড়কটি ঢাকা-সিলেটের অংশে ঢুকতে হচ্ছে না। তারা এই সংযোগ সড়ক দিয়ে সহজে সিলেটে চলে যেতে পারবেন। কারণ এটা আঞ্চলিক মহাসড়কে রূপান্তর হবে। ঢাকা সিলেটের যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ কমে আসবে। সময়ও বাঁচবে অন্তত এক ঘণ্টা।
তিনি জানান, এই প্রকল্পটি নির্মাণের সময়সীমা ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ধরা আছে। সরাইলের কুট্টা পাড়া থেকে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বলভদ্র সেতু পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সড়কে ভূমি অধিগ্রহণের ঝামেলা নেই। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মোটামুটি ৯০ থেকে ১০০ ভাগ কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান বলেন, এই কাজটা একপাশে করার পর বৃহত্তর সিলেটের সাথে নাসিরনগরের সরাসরি ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে ঢাকা যেতে আমাদের ৪০ কিলোমিটারের দূরত্ব কমে যাবে এবং এই অঞ্চলের মানুষের দুর্গতি কমে যাবে। আমরা আশা করি আমরা নাসিরনগর থেকে ৩ ঘণ্টা নির্বিঘ্নে আমরা রাজধানীর সাথে যোগাযোগ করতে পারব এবং আমাদের জেলা সদরের সাথে নিঃসন্দেহে একটা বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধিত হবে। এটা বৃহত্তর সিলেট থেকে শুরু করে ঢাকা পর্যন্ত সকলে একটা ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হয়ে যাবেন। আশা করছি এই মহাসড়কটি আমাদের দেশের জন্য সুফল বয়ে আনবে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে ২৫ কিলোমিটার সড়কটি প্রশস্ত করণে ব্যায় ধরা হয়েছে ৩৯৬কোটি টাকা। আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ঠিকাদারির প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাওয়াল কনস্ট্রাকশন কাজটি শেষ করার কথা রয়েছে।