
ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ: মজুরি বোর্ড
শাতিলা শারমিন
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৩:০

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ডা. জলিল রহিমি জাহানাবাদি। ছবি: সংগৃহীত
নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা ও কৌশলগত স্বার্থ হাসিলে যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো অপরাধমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে, এমনকি ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলা চালাতেও পিছপা হবে না বলে আশঙ্কা করছে তেহরান। তবে এ ধরনের যে কোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। সে ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল সরাসরি ইরানি হামলার নিশানায় পরিণত হবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ডা. জলিল রহিমি জাহানাবাদি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ও উদীয়মান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান।
রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদি বলেন, ইরান কোনো দেশের ভূখণ্ড দখলের জন্য নয়, বরং কেবল নিজেদের মাতৃভূমি রক্ষার্থেই লড়াই করছে। মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য ‘তৃতীয় ধাপের সংঘাত’-এর জন্য তেহরান প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে এরইমধ্যে নতুন প্রযুক্তির ড্রোন ও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন রাখা হয়েছে। তবে ইরান কখনোই আগ বাড়িয়ে যুদ্ধ চায়নি এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তৃতিও তাদের কাম্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতির কঠোর সমালোচনা করে ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, গণতন্ত্র ও সমঝোতার কথা বললেও ওয়াশিংটন প্রকৃতপক্ষে তাতে বিশ্বাস করে না। তারা আলোচনার টেবিলে বসাকে প্রতিপক্ষের ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে গণ্য করে। তিনি আরও বলেন, জেসিবিওএ (পারমাণবিক চুক্তি) আলোচনার মাধ্যমে যেসব যৌথ সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ডনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর তা একতরফাভাবে ভুলে গেছেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও ওয়াশিংটনের আগ্রাসী যুদ্ধনীতিতে কোনো গুণগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছে না তেহরান।
সংবাদ সম্মেলনে আঞ্চলিক শান্তি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে আলোকপাত করে রাষ্ট্রদূত বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যদি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি না থাকত, তবে তেহরান কখনোই ওই অঞ্চলগুলোর প্রতি আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিত না। তিনি সৌদি আরবের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রশ্ন তোলেন, ইয়েমেনের স্বাধীনতাকামী জনগণ কিংবা ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মার্কিন-ইসরাইলি আধিপত্যের প্রতিবাদ করা কীভাবে অপরাধ হতে পারে? ইয়েমেনের বিরুদ্ধে শত্রুতা পরিহার করতে তিনি আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সরকার এবং বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতারা ইরানের সঙ্গে গঠনমূলক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখছেন। মধ্যপ্রাচ্যের উদ্ভূত সংকটে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের গৃহীত ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত অবস্থানকে তেহরান ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে।
বাংলাদেশিদের ‘ভাই-বোন’ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচলে ইরানের কোনো আপত্তি নেই এবং নির্দিষ্ট রুটে এগুলো সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। সংকটের এই সময়ে ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য তিনি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।