
সিলেটে মুহূর্তেই উধাও ট্রেনের টিকিট, তদন্তে পিবিআই
প্রতিবেদক, পটুয়াখালী
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৮

জামিনে বের হওয়ার পর বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা। ছবি সংগৃহীত
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিনে বের হওয়ার পর বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে মামলার আসামি ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের ভূঁইয়াকান্দা গ্রামে বাদীর বাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় মামলার বাদী, তার স্বামী, শাশুড়ি নিলুফা বেগম, গ্রাম পুলিশ হৃদয় হাসান, আবু সুফিয়ান ও রুবিনা আক্তারসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত সোহাগ আকনকে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হাওলাদার (২৭) একই গ্রামের আক্কেল আলী হাওলাদারের ছেলে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজনকে বাদী ও তার স্বামীকে মারধর করতে দেখা যায়। ভিডিওতে লাঠি হাতে দুই নারীকে হামলায় অংশ নিতেও দেখা যায়। তারা জাহাঙ্গীরের স্ত্রী কেয়া মনি (২৫) ও তার ভাইয়ের স্ত্রী নাজমা বিবি (৪০) বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় গ্রাম পুলিশ হৃদয় হাসানকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, গত ১৯ জুলাই রাতে বাদীর স্বামী বরিশালে অবস্থান করছিলেন। ওই রাতে জাহাঙ্গীর হাওলাদার তার মোবাইল ফোনে কল করে স্বামীর অবস্থান জানতে চান। পরে রাত ১টার দিকে জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকে দুই সন্তানসহ ঘুমিয়ে থাকা গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এসময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে এবং ঘরে আলো জ্বালানো হলে তিনি অভিযুক্তকে চিনতে পারেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় ২৩ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রাঙ্গাবালী থানায় মামলা করেন ওই গৃহবধূ। একই দিন জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
বাদীর অভিযোগ, জাহাঙ্গীর কারাগারে থাকা অবস্থায় তার ভাইয়েরা মামলা তুলে নিতে চাপ দেন এবং ফের ধর্ষণের হুমকি দেন। এ ঘটনায় ৩১ জুলাই থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন বাদী।
বাদী বলেন, মামলা তুলে নিতে তাদের ওপর চাপ ছিল। সোমবার দুপুর ৩টার দিকে আদালতে হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরেন তারা। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার স্বামীকে একা পেয়ে মারধর শুরু করা হয়। চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও এবং তার শাশুড়িকে মারধর করা হয়।
বাদীর স্বামী সোহাগ আকন বলেন, অভিযোগপত্র আদালতে দাখিলের পর সোমবারই ছিল মামলার প্রথম হাজিরা। হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার পরপরই তাদের ওপর হামলা করা হয়।
গ্রাম পুলিশ হৃদয় হাসান বলেন, চিৎকার শুনে বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি সোহাগ ও তার স্ত্রীকে মারধর করতে দেখেন। তিনি ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় তাকেও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, অভিযোগপত্র আদালতে দাখিলের পর সোমবার প্রথম হাজিরা ছিল। আদালত প্রাঙ্গণে বাদীপক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি বাদীর স্বামী সোহাগের ছবি তোলেন। এ নিয়ে গ্রাম পুলিশ হৃদয়ের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে বাড়িতে এসে মারামারির ঘটনা ঘটে।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাহাঙ্গীর হাওলাদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় আরও পাঁচটি মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।