
সিলেটে মুহূর্তেই উধাও ট্রেনের টিকিট, তদন্তে পিবিআই
প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:২১

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে শিশু বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার আসামিরা। ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ১৩ মাস বয়সি এক শিশুকে দুই লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে তার বাবা ও স্বজনদের বিরুদ্ধে। পরে ঢাকার দোহার উপজেলার চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচণ্ডী এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির দাদা-দাদিসহ পাঁচজনকে বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোররাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, শিশুটিকে পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ পেয়েছে তারা। বুধবার ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজহাটি (সুতি ভরট) এলাকার বাসিন্দা শিশুটির দাদা উজ্জল মিয়া (৫০), দাদি আয়শা খাতুন (৪৫), শিশুটির ফুফু শরিফা খাতুন (৩৫) এবং ঢাকার দোহার উপজেলার হরিচণ্ডী এলাকার আবেদ মোল্লা (৩৫) ও তার স্ত্রী শিখা (৩৫)।
বুধবার সকালে এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোজিনা বেগমের (২১) সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে মো. নাঈম মিয়ার (২৫) বিয়ে হয়। তাদের ছেলে মোজাহিদের বয়স এখন ১৩ মাস। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় পাঁচ মাস আগে রোজিনাকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তবে শিশুটিকে রেখে দেয়া হয় বাবার বাড়িতে। রোজিনা পরে গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। এর মধ্যে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, গেল ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে তার স্বামী ও স্বজনেরা শিশুটিকে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের কাছে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রোজিনা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শিশুর বিষয়ে জানতে চান। এ সময় তাকে গালাগাল করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার পুলিশ জানায়, গেল সোমবার শিশুটির মা ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। জিডির পর পুলিশ তদন্তে শিশুটির অবস্থান ঢাকার দোহার উপজেলার হরিচণ্ডী এলাকায় শনাক্ত করে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন বলেন, যে দম্পতির কাছ থেকে শিশুটি উদ্ধার হয়েছে তাদের কোনো সন্তান নেই। শিশুটিকে লালন-পালনের জন্য তারা নিয়েছিল। কিন্তু প্রক্রিয়াটি সঠিক ছিল না। শিশুটি নিরাপদে পুলিশের কাছে রাখা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে হস্তান্তর করা হবে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আসামিদের বুধবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।