
মজুরি বোর্ড গঠনের ৩ দিনের মাথায় চেয়ারম্যান পরিবর্তন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৫

ভোক্তা স্বার্থের পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের দাবিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে বিইআরসি, বলছে ক্যাব ।
কেবল কাঁচামালের দামই নয় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে বিভিন্ন কমিশনও বাড়িয়েছে বিইআরসি। আর এতেই ১২ কেজি এলপি গ্যাস সরকার নির্ধারিত দাম প্রথমবারের মতো ২ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে।
দাম পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে ১২ কেজি এলপি গ্যাসে বিভিন্ন চার্জ ও কমিশন বেড়েছে আগের তুলনায় ১৫১ টাকা। যা ৩৫ কেজিতে ৪৪১ টাকা ও ৪৫ কেজিতে ৫৬৬ টাকা। এ অবস্থায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন জ্বালানি উপদেষ্টা কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) শামসুল আলম। তিনি বলেন, ভোক্তা স্বার্থের পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের দাবিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে বিইআরসি।
এর আগে অক্টোবরে ২৫২ টাকা আর চলতি মাসের শুরুতেই ২২৩ টাকা; দু'দফায় ৪৭৫ টাকা বেড়ে ১২ কেজি এলপি গ্যাসের নির্ধারিত দাম এখন ২ হাজার ৬০ টাকা। যা গত মার্চেও ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। তবে আরেক বাস্তবতা হলো, দুই হাজার টাকা ছাড়ালেও নির্ধারিত দামে বাজারে মিলছে না জ্বালানি এ পণ্যটি।
ভুক্তভোগীরা জানান, যারা গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করেন তাদের স্বার্থ দেখা হচ্ছে, গরীবদের না। আরেকজন বলেন, একদিন আগেও গ্যাস সিলিন্ডার কিনেছি ২৫০০ টাকা দিয়ে। এক খুচরা বিক্রিতা বলেন, এতো টাকায় কেনা হলে তার ওপর কিভাবে বিক্রি করবো। আরেকজন বলেন, ১২ কেজিরটা ২২৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে তাহলে আমরা বিক্রি করবো কি পাল্টা প্রশ্ন রাখেন তিনি।
আরেক ভুক্তভোগী বলেন, সব কিছুতে ফাঁকিতে পড়েন জনগণ, জিতেন ব্যবসায়ীরা এই আর কি। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করা হয়নি। ব্যবসায়ীদের আরো লাভবান করা হয়েছে।
দাম পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, আমদানি করা কাঁচামাল ও জাহাজ ভাড়ার বাইরেও বাড়ানো হয়েছে বেশ কিছু চার্জ। গতমাসে ধর্মঘটের হুমকি দিয়ে কমিশন বাড়ানোর যে দাবি তুলেছিলেন ব্যবসায়ীরা, এবার সেই দাবিতে সায় দিয়েছে সরকার। ১২ কেজি এলপি গ্যাসে স্টোরেজ-বোতলজাতকরণ, ডিস্ট্রিবিউটর, রিটেইলার, মূল্য সংযোজন করসহ অন্যান্য চার্জ বাড়ানো হয়েছে আগের তুলনায় ১৫১ টাকা ৪৪ পয়সা। যা ৩৫ কেজিতে দাঁড়ায় ৪৪১ টাকা ও ৪৫ কেজিতে ৫৬৬ টাকা।
বিশ্লেষকরা বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে বিইআরসি। এতে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে ভোক্তা স্বার্থ।
জ্বালানি উপদেষ্টা কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) শামসুল আলম সময় সংবাদকে বলেন, বিইআরসির নির্ধারিত দাম অপেক্ষা বেশি বাজারে বিক্রি করেছে তারা। এরপর তারা মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনায় নেয়ার আগেই ভোক্তাদের তরফ থেকে বলা হয়েছিল যে, তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এখানে ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ এ মূল্যহার ঘোষণার মধ্যেদিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং বিইআরসি অসাধু ব্যবসায়ীদের রক্ষায় জায়গায় নিরবতা পালন করেছে এবং তাদের সুরক্ষা দিয়েছে।
যদিও বিইআরসির দাবি, সব দিক বিবেচনা করেই কমিশন বাড়ানোসহ নতুন দাম ঠিক করা হয়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সদস্য (গ্যাস) মিজানুর রহমান বলেন, রিটেইলার ও মূল্য সংযোজন করসহ অন্যান্য চার্জ বাড়ানোতে দামটা একটু বেশি মনে হচ্ছে। বেশি দামে বিক্রি হলে কঠোর মনিটরিং করার কথা বলা হয়েছে।
দেশে ১২ কেজি এলপি গ্যাসের নির্ধারিত দাম এবারই প্রথম ২ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। যদিও বেঁধে দেয়া দাম বরাবরই উপেক্ষিত থাকে বাজারে।