
‘হেয়ার এশিয়া’র বিচারকের আসনে কাজী কামরুল ইসলাম
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৫

নিজের সংগীতের বাইরেও নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। ছবি: সংগৃহীত
বাংলা ব্যান্ড সংগীতের আকাশে উজ্জ্বল এক নক্ষত্র আইয়ুব বাচ্চু। গিটারের জাদুতে কোটি শ্রোতার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন এই কিংবদন্তি। তার কণ্ঠ, গিটারের সুর আর মঞ্চ মাতানো উপস্থিতি আজও ভক্তদের মনে জাগায় ভালোবাসা। তবে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও কিছু স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে এই রকস্টারের।
আজ ১৮ অক্টোবর, আইয়ুব বাচ্চুর অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৮ সালের এই দিনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ‘রূপালি গিটার’-এর জাদুকর। আট বছর পেরিয়ে গেলেও তার গান আর সুরে আজও বেঁচে আছেন কোটি ভক্তের হৃদয়ে।
আইয়ুব বাচ্চুর স্বপ্ন ছিল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ১৫ লাখ দর্শক নিয়ে বিশাল এক কনসার্ট আয়োজনের। যেখানে দেশি-বিদেশি তারকাদের সঙ্গে একই মঞ্চে সংগীত পরিবেশনের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। তালিকায় ছিলেন স্টিভ ভাই, জো সাত্রানি, কার্লোস সান্টানা, জেমস ও বেজবাবা সুমনের মতো শিল্পীরা। তার ভাষায়, ‘আমরা একটা স্লট বাজাবো, ঘণ্টা তিনেক ধরে। আর দর্শক থাকবে ১৫ লাখ। তাহলে সেটা হবে স্বপ্নের কনসার্ট।’ কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি আর।
নিজের সংগীতের বাইরেও নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। চেয়েছিলেন এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়তে, যেখানে তরুণেরা বাদ্যযন্ত্র শিখে তৈরি করবে নতুন ব্যান্ড, সমৃদ্ধ করবে বাংলা সংগীতকে।
১৯৯১ সালে নিজের ব্যান্ড ‘এলআরবি’ গড়ে তুলে ‘সুখ’, ‘তবুও’, ‘ঘুমন্ত শহরে’র মতো অসংখ্য অ্যালবাম উপহার দিয়েছেন তিনি। তার গিটারের সুর হয়ে উঠেছে কয়েক প্রজন্মের আবেগ ও স্মৃতির অংশ। ২০২৬ সালে তাকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে। জন্মশহর চট্টগ্রামের প্রবর্তক মোড়ে স্থাপন করা হয়েছে তার স্মরণে গিটার ভাস্কর্য।
আইয়ুব বাচ্চু নেই, কিন্তু তার সুর আজও অমলিন। গিটারের প্রতিটি ঝংকারে, গানের প্রতিটি কথায় তিনি বেঁচে থাকবেন বাংলা ব্যান্ড সংগীতের এক চিরসবুজ কিংবদন্তি হয়ে।