
গ্রিন কার্ড পেলেন মৌসুমী, দেশে ফিরবেন নাকি যুক্তরাষ্ট্রেই থাকবেন?
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৩৫

পাকিস্তানি ইউটিউবার ডাক্কি ভাই (বামে) ও মিস কিউইর সঙ্গে (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
ছোটবেলা থেকে যেসব ইউটিউবারকে দেখে বড় হয়েছেন, এবার তাদের হাতেই নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়েছেন দেশের নামকরা কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাফসান দ্য ছোটভাই! অবাক করা কথা হলেও এমন ঘটনাই দেখা যাবে তার নতুন কনটেন্ট সিরিজে। যাতে রাফসান কোলাবোরেশন করছেন একদল বিখ্যাত আন্তর্জাতিক ইউটিউবারের সঙ্গে।
রাফসান বলেন, আমি এমন একটি সিরিজ করতে চেয়েছিলাম, যেখানে ইউটিউবাররা আমার জীবন নিয়ন্ত্রণ করবে। এটি একাধিক ক্রিয়েটরের সঙ্গে যৌথভাবে করা একটি সিরিজ। শুরুতে পরিকল্পনা ছিল, বাংলাদেশের বাড়িতেই পুরো সিরিজের শুটিং করা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি পরিণত হয়েছে ভ্রমণভিত্তিক একটি শোতে। প্রতিটি ক্রিয়েটর রাফসানকে একটি করে চ্যালেঞ্জ দেন। সেই চ্যালেঞ্জ পূরণ করতে সংশ্লিষ্ট ক্রিয়েটরের দেশের উদ্দেশে যাত্রা করেন রাফসান। অনেক ক্ষেত্রেই সেখানে তার সঙ্গে যোগ দেন দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় কোনো কনটেন্ট ক্রিয়েটর।
প্রথম পর্বে ছিলেন পাকিস্তানি ইউটিউবার ডাক্কি ভাই। মালয়েশীয় কৌতুকশিল্পী নাইজেল এনজির ‘আঙ্কেল রজার’ চরিত্রটি তাকে পাঠায় মালয়েশিয়ায়। সেখানে দেশটির বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর মিস কিউইয়ের সঙ্গে চ্যালেঞ্জে অংশ নেন রাফসান। খাবারবিষয়ক ভিডিও নির্মাতা মার্ক উইন্সের দেওয়া চ্যালেঞ্জ তাকে নিয়ে যায় কেনিয়ায়। রাফসান বলেন, ‘প্রতিটি দেশেই আমি গিয়েছি এবং চ্যালেঞ্জটি সম্পন্ন করেছি। বিষয়গুলোর মধ্যে কিছুটা যোগসূত্র আছে, আবার কিছুটা নেইও।’
এই সিরিজ নিয়ে রাফসানের পরিকল্পনা আরও বড়। তালিকায় থাকা আঙ্কেল রজার ও গোল্ডেন ব্যালান্সের মতো কয়েকজন ক্রিয়েটর এখনো বাংলাদেশে আসেননি। রাফসান চান, সেই চিত্র বদলে যাক। আন্তর্জাতিক তারকাদের আতিথেয়তা দেওয়ার অভিজ্ঞতা অবশ্য রাফসানের আগেও রয়েছে। ২০২২ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কনটেন্ট ক্রিয়েটর খালিদ আল-আমেরিকে নিজের বাড়িতে ইফতারের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি।
আর গত বছর পাকিস্তানি অভিনেত্রী হানিয়া আমিরকে নিয়ে একটি ভ্লগ তৈরি করেন রাফসান, যেখানে তার মায়ের রান্না করা খাবার উপভোগ করেন হানিয়া। দুই দেশের দর্শকদের কাছ থেকেই উষ্ণ প্রতিক্রিয়া পেয়েছিল সেই ভিডিও। সিরিজটির শুটিং হয়েছে ইংরেজিতে। তবে প্রকাশের আগের দিন পুরো সিরিজটি বাংলায় ডাবিং করান রাফসান। এরপর ফাইভার থেকে খুঁজে নেয়া একজন ভয়েস আর্টিস্টের মাধ্যমে উর্দুতেও ডাবিং করানো হয়।
দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখতে প্রতিটি পর্বের শুরুতে থাকছে আগের ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ। এই সিরিজ থেকে কী পাচ্ছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে রাফসান বেশ খোলামেলাভাবেই নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আর্থিক দিক থেকে পুরো সিরিজটি তৈরি করা খুবই বোকামির সিদ্ধান্ত। এখান থেকে খরচের টাকা ফেরত পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ইউটিউবে ১০ লাখ ভিউ হলে হয়তো ৩০০ ডলার আয় হবে। তাই এই আয় যথেষ্ট নয়। তবে ছোটবেলা থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল একজন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ইউটিউবার হওয়ার। আমি সত্যিই দেখাতে চাই, বাংলাদেশ থেকেও কেউ এই অঙ্গনে প্রতিযোগী হয়ে উঠতে পারে। আর আমি সেটা করেই দেখাব।’