
ডেঙ্গুতে গেল ৯ জনের প্রাণ, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৮২
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ২১:২৪

হার্ট অ্যাটাকের সময় হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ছবি: সংগৃহীত
বুকে চাপ, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম কিংবা বমি ভাব—অবহেলা নয়। হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ চিনে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই বাঁচাতে পারে জীবন।
হার্ট অ্যাটাক হঠাৎ করেই হতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রে এর আগে শরীরে কিছু সতর্কসংকেত দেখা দেয়। কখনো বুকের মাঝখানে চাপ বা ভারী অনুভূতি হয়, কখনো শুরু হয় হালকা অস্বস্তি। আবার ব্যথা কিছুক্ষণ পর কমে গিয়ে পুনরায় দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণকে গ্যাস বা সাধারণ ব্যথা ভেবে অবহেলা করা বিপজ্জনক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্ট অ্যাটাকের সময় হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে হৃৎপিণ্ডের পেশির ক্ষতি বাড়তে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাব্য লক্ষণ
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, হার্ট অ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—
বুকে চাপ বা ব্যথা: বুকের মাঝখানে চাপ, চেপে ধরা, ভারী লাগা কিংবা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হতে পারে অথবা কমে গিয়ে আবার ফিরে আসতে পারে।
শরীরের অন্য অংশে ব্যথা: এক বা দুই হাত, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল কিংবা পেটের ওপরের অংশে অস্বস্তি বা ব্যথা হতে পারে।
শ্বাসকষ্ট: বুকব্যথার সঙ্গে বা বুকব্যথা ছাড়াও শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে।
ঠান্ডা ঘাম: হঠাৎ ঘাম হওয়া, শরীর ঠান্ডা হয়ে আসা কিংবা ফ্যাকাশে দেখাতে পারে।
বমি ভাব ও মাথা ঘোরা: বমি বমি ভাব, দুর্বলতা, মাথা হালকা লাগা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তিও দেখা দিতে পারে।
নারীদের ক্ষেত্রে বুকের অস্বস্তির পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, বমি ভাব, পিঠে বা কাঁধে ব্যথা এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো লক্ষণও দেখা যেতে পারে। তবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে উপসর্গের ধরন ভিন্ন হতে পারে।
হার্ট অ্যাটাক হলে তাৎক্ষণিক কী করবেন?
১. জরুরি সেবায় ফোন করুন: বুকব্যথা বা হার্ট অ্যাটাকের অন্য লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় জরুরি চিকিৎসাসেবায় যোগাযোগ করুন। বাংলাদেশে ৯৯৯ নম্বরে জরুরি সহায়তা চাওয়া যায়।
২. বিশ্রামে থাকুন: শারীরিক পরিশ্রম বন্ধ করে আরামদায়ক অবস্থায় বসুন। নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।
৩. চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন: আগে থেকে হৃদ্রোগের জন্য নির্ধারিত ওষুধ থাকলে চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবহার করুন। অ্যাসপিরিন কিছু ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে, তবে অ্যালার্জি, রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বা অন্য নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা ক্ষতিকর হতে পারে। তাই জরুরি সেবার কর্মী বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করুন।
৪. আক্রান্ত ব্যক্তি অচেতন হলে: ব্যক্তি সাড়া না দিলে এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে জরুরি সেবায় ফোন করুন। দ্রুত বুকের মাঝখানে জোরে ও দ্রুত চাপ দিয়ে সিপিআর (CPR) শুরু করুন এবং সম্ভব হলে স্বয়ংক্রিয় বহিঃস্থ ডিফিব্রিলেটর ব্যবহার করুন। জরুরি সেবার কর্মীর নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
কাশি দিয়ে কি হার্ট অ্যাটাক ঠেকানো যায়?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই দাবি করা হয়, হার্ট অ্যাটাক হলে জোরে জোরে কাশি দেওয়া এবং দীর্ঘশ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন সচল রাখা সম্ভব। কিন্তু এই পদ্ধতিকে ‘কাশির মাধ্যমে সিপিআর’ বা ‘কাফ সিপিআর’ বলা হলেও, হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে এটি কার্যকর—এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনও সাধারণ মানুষের জন্য এই পদ্ধতি সুপারিশ করে না। বরং কাশি দিতে গিয়ে জরুরি চিকিৎসা নিতে দেরি হলে বিপদ বাড়তে পারে। তাই হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে কাশি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা না করে দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিতে হবে।
কোন কারণে বাড়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি?
হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকা, ধূমপান, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন এবং কিছু ক্ষেত্রে বংশগত প্রবণতা। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপও হৃদ্স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ঝুঁকি কমাতে ধূমপান এড়িয়ে চলা, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত।
মনে রাখবেন: হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ সব সময় তীব্র হয় না। বুকের অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট বা ঠান্ডা ঘামের মতো উপসর্গ দেখা দিলে অপেক্ষা করবেন না। দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তথ্যসূত্র: আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন