
নিকি মিনাজ কি হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হচ্ছেন, জবাবে যা বললেন ট্রাম্প

শত্রুর হুমকি মোকাবিলায় জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারদের কৌশলগত নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
শত্রুর যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক, কার্যকর ও ‘ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই’ পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের নতুন করে তেহরান সফরের মধ্যেই শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের উদ্দেশে এক লিখিত বার্তায় তিনি এ নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করার আদেশও দিয়েছেন তিনি। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ‘প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ’ সম্পদকে হামলার আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে।
যেকোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিন অর্থাৎ আগামী ৪ নভেম্বর থেকেই হামলা শুরু হতে পারে। এ বিষয়ে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে প্রস্তুত থাকার সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিবৃতিতে খামেনি বলেন, শত্রুরা নতুন করে সামরিক বা সন্ত্রাসী হামলা শুরু করলে সংঘাত কখন শেষ হবে, তা ইরানই নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে যুদ্ধের সময় ও শর্ত নির্ধারণের অধিকারও তেহরানের থাকবে।
তিনি সামরিক বাহিনীকে নজরদারি, সহায়তা ও যুদ্ধ পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত গোলাবারুদ এবং অস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
গত জুনে দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়। তবে তাতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত হয়নি। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচলও ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয় ওই সমঝোতা।
এরপর ইরান নতুন একটি প্রস্তাব দেয়। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করবে তেহরান।
এই পরিস্থিতিতে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে কাতার। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দেশটির মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনার জন্য আবারও তেহরানে যান।
তবে আলোচনায় এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। ওয়াশিংটন চায়, আলোচনার শুরুতেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হোক। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, আগে ইরানের বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার এবং তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হবে।
এদিকে আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে বলে তিনি মনে করেন।
কানসাস সিটির রেডিও স্টেশন কেসিএমওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। তবে আমাদের এমন নিশ্চয়তা প্রয়োজন, যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না হয়।’
এর আগে নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানো হবে না বলেও জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা