
দায়িত্ব গ্রহণের ৫ দিনের মাথায় চাকরি হারালেন ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:১৯

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও বিরোধী দল ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট। ছবি: ইসরায়েল হায়োম
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইসরাইলে একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনে উৎসাহ দানের কাজ করছে। যার আওতায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আরও সর্বোচ্চ দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর রাজনীতি থেকে অবসরে যাবেন। আঞ্চলিক কূটনৈতিক চুক্তি নিশ্চিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুনভাবে সাজানোর মার্কিন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োম-এর এক প্রতিবেদনে এমনটা জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতায় নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টিকে ‘এক’ করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এমন একটি জোট সরকার গঠন করা হবে, যা গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সমঝোতার অধীনে নেতানিয়াহু নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় সরকার আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ করা এবং আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে। বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এরপর নেতানিয়াহু রাজনীতি থেকে অবসরে যাবেন।
একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরাইলে বৃহত্তর পরিসরের সরকার গঠনের বিষয়ে ওয়াশিংটনের পছন্দের কথা দেশটির জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতাদের জানানো হয়েছে। সরাসরি যোগাযোগের পাশাপাশি কূটনৈতিক চ্যানেলেও এ বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিও গাদি আইজেনকটসহ দেশটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ধারণা তৈরি হতে পারে, এমন পরিস্থিতি এড়াতে মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উগ্রপন্থীদের বাইরে রেখে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠনের প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই উদ্যোগ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আব্রাহাম চুক্তির পরিসর বাড়ানোর প্রচেষ্টার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সৌদি আরবকে রাজি করানোর লক্ষ্যে ওয়াশিংটন দেশটিকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রস্তাব দিচ্ছে। এর মধ্যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা এবং বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহায়তার বিষয়টিও রয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তির অগ্রগতির জন্য দেশটির সরকারের গঠনে পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত জোট সরকারে যোগ দেওয়ার আগে গাদি আইজেনকটের রাজনৈতিক জোট কয়েকটি শর্ত দিতে পারে।
শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, নির্ধারিত সময় শেষে নেতানিয়াহু রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন, এমন বাধ্যতামূলক নিশ্চয়তা। এছাড়া সরকারের বিচারব্যবস্থা সংস্কার পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন বাতিল, ইসরাইলের বিচারিক ও সাংবিধানিক কাঠামোয় পরিবর্তন এবং ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার ঘটনা তদন্তে একটি রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি রয়েছে।
ভবিষ্যতে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আলোচনা প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সম্ভাব্য ভূমিকার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে প্রেসিডেন্টের দফতর জানিয়েছে, এ ধরনের আলোচনা বা সমঝোতায় হারজগ অংশ নিচ্ছেন বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয়।
২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর যাতে আবারও নির্বাচন আয়োজনের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য কাজ করার আগ্রহ সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন হারজগ।
তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক জোট চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি। মার্কিন, ইসরাইলি ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত এ ধরনের কোনো সমঝোতা হবে কি না, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের ফলাফল, সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি এবং আইজেনকটের রাজনৈতিক জোটের প্রস্তাবিত শর্তগুলো গ্রহণযোগ্য হওয়ার ওপর।
তথ্যসূত্র: দ্য ইয়েশিভা ওয়ার্ল্ড নিউজ ও ইসরায়েল হায়োম