
অন্যকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতার নাম-ই কী নার্সিসিজম?
ওয়েব ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৪৯

যে কোনো বয়সি মানুষ মরণঘাতী ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। তাই এই রোগের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ক্যান্সার প্রতিরোধে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষকে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পাশাপাশি নিতে হবে নানা ধরনের ব্যবস্থা।
চিকিৎসকদের মতে, গ্রিন টি-তে রয়েছে এমন কিছু উপাদান, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে ওজন নিয়ন্ত্রণ, এমনকি ক্যানসার প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আসুন এবার জেনে নিই যে নিয়মে গ্রিন টি খেলে ক্যান্সার থেকে আমরা বাঁচতে পারবো।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দিনে ৩-৪ কাপ গ্রিন টি খেলে ওরাল বা মুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। দিনে যদি ৫ কাপ বা তার বেশি গ্রিন টি খেতে পারেন তাহলে কমবে প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি। শুধু প্রস্টেট ক্যান্সার নয়, দিন ৫ কাপ বা তার বেশি গ্রিন টি খেলে পাকস্থলীর ক্যান্সারেরও ঝুঁকি কমে। নারীরা ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে দিনে অন্তত ৩ কাপ গ্রিন টি খান। দিনে ৫ কাপ বা তার বেশি গ্রিন টি খেলে কমিয়ে ফেলতে পারেন প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের ঝুঁকিও।
ডায়াবেটিস যদি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তাহলে একটু বেশি গ্রিন টি খেতে হবে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দিনে ৬ কাপ বা তার বেশি গ্রিন টি খেলে টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সমস্যা ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে।
গ্রিন টির অন্যান্য উপকারিতা: চিকিৎসকরা গ্রিনটি আরও কিছু উপকারিতার উল্লেখ করেছেন চিকিৎসকরা। এগুলো হলো: স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়
অতিরিক্ত গ্রিন টি পানে যেসব ক্ষতি: যদিও গ্রিন টি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, তবে অতিরিক্ত পরিমাণে পান করলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যেমন-অনিদ্রা, উদ্বেগ, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা। এর প্রধান কারণ গ্রিন টিতে থাকা ক্যাফেইন। এছাড়া গ্রিন টি শরীরের আয়রন শোষণে বাধা দিতে পারে, ফলে রক্তশূন্যতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই যাদের আয়রনের ঘাটতি রয়েছে, তাদের উচিত খাবার খাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা পর গ্রিন টি পান করা।
গ্রিন টি পানে বিশেষ কিছু সতর্কবার্তা: গ্রিন টির বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে। তবে সেটা সবার ক্ষেত্রে নয়। শরীরের বিশেষ অবস্থায় গ্রিন টি পানে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। যারা গর্ভবতী বা শিশুকে দুধ পান করাচ্ছেন, যাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতিতে ভুগছেন, উদ্বেগ বা হৃদরোগের ওষুধ গ্রহণ করছেন, তাদের পানীয় হিসেবে গ্রিন টি বেছে না নেয়াই ভালো।
খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও পরিমাণ: ওজন কমাতে দিনে ২ থেকে ৩ কাপ গ্রিন টি পান করা কার্যকর। অতিরিক্ত পান করলে গ্যাসট্রিক বা মাথাব্যথার সমস্যা হতে পারে। চায়ে চিনি, মধু বা কৃত্রিম মিষ্টি মেশাবেন না। এতে ক্যালরি বেড়ে যায়।
খালি পেটে নয়: খালি পেটে গ্রিন টি খেলে অ্যাসিডিটি বা গ্যাসট্রিক বাড়তে পারে। তাই সকালে নাস্তার ৪৫ থেকে ৬০ মিনিট পর অথবা শরীরচর্চা বা ব্যায়াম করার ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট আগে গ্রিন টি পান করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।
খাবারের মাঝে বিরতি: প্রধান দুই খাবারের মাঝে (যেমন দুপুর ও বিকেলের দিকে) গ্রিন টি পান করুন। খাবারের ঠিক আগে বা পরে না খাওয়াই ভালো, কারণ এটি শরীরের পুষ্টি উপাদান ও আয়রন শোষণ কমিয়ে দিতে পারে।
তৈরির সঠিক পদ্ধতি: পানি ফুটিয়ে হালকা ঠান্ডা করুন (৮০° সেলসিয়াস বা ১৭৫° ফারেনহাইট)। খুব বেশি ফুটন্ত পানিতে পাতা বেশিক্ষণ রাখবেন না, এতে চা তেতো হয়ে যায় এবং পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়। গ্রিন টি-র পাতা বা ব্যাগ পানিতে ২ থেকে ৩ মিনিট ভিজিয়ে রেখে ছেঁকে বা তুলে নিন।