
২ নভেম্বর: ইতিহাসে এই দিনে আলোচিত কী ঘটেছিল?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৪:৫৯

আমলকী ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ একটি ফল। ছবি: সংগৃহীত
আমলকী ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ একটি ফল। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে আমলকীর জুস পান করলে শরীরে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এর উপকার নির্ভর করে কতটা পান করছেন, কীভাবে তৈরি করছেন এবং আপনার শারীরিক অবস্থার ওপর।
আমলকীর জুসের ৭ উপকারিতা
১. রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে: আমলকীতে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। তবে আমলকীর জুস খেলেই সর্দি-কাশি বা সংক্রমণ ঠেকানো যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
২. ত্বকের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখে: ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে প্রয়োজনীয়। এটি ত্বকের স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখতে সহায়তা করে। তবে আমলকীর জুস খেলেই ত্বক ফর্সা বা বলিরেখামুক্ত হবে, এমন প্রমাণ নেই।
৩. আয়রন শোষণে সাহায্য করে: উদ্ভিজ্জ খাবারে থাকা আয়রন শরীরে শোষিত হতে ভিটামিন সি সাহায্য করে। ডাল, শাকসবজি ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে আমলকী খাওয়া উপকারী হতে পারে।
৪. কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করে: আমলকীতে পলিফেনলসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। এগুলো শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে আমলকী সব ধরনের রোগ প্রতিরোধ করে।
৫. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য ভূমিকা: কিছু গবেষণায় আমলকীর নির্যাস বা সাপ্লিমেন্ট রক্তে শর্করার মাত্রায় ইতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে সাধারণ আমলকীর জুস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ওষুধের বিকল্প নয়।
৬. কোলেস্টেরলের মাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে: সীমিত মানবগবেষণায় আমলকীর নির্যাস গ্রহণের পর ভালো কোলেস্টেরল (HDL) ও খারাপ কোলেস্টেরল (LDL)-এর কিছু সূচকে উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে গবেষণা ছোট পরিসরের এবং জুসের ক্ষেত্রে একই ফল নিশ্চিত নয়।
৭. হজমে কিছুটা সহায়ক হতে পারে: আমলকী ফলের আঁশ হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। তবে ছেঁকে শুধু জুস পান করলে আঁশের বড় অংশ বাদ পড়ে যেতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য কমানোর জন্য গোটা ফল খাওয়া বা আঁশযুক্ত খাবার বেছে নেওয়া বেশি উপকারী।
কখন ও কীভাবে আমলকীর জুস খাবেন?
- পরিমাণ: অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করুন। যেমন, ১–২টি ছোট আমলকী দিয়ে তৈরি জুস পানি মিশিয়ে পান করতে পারেন। এর কোনো সর্বজনস্বীকৃত চিকিৎসাগত ডোজ নেই।
- চিনি না মেশানো ভালো: অতিরিক্ত চিনি যোগ করলে পানীয়টির ক্যালরি বাড়ে।
- খালি পেটে খেতেই হবে, এমন নয়: খালি পেটে খেলে বেশি উপকার হয়—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। অস্বস্তি হলে খাবারের পরে পান করুন।
- প্রতিদিন পান করা বাধ্যতামূলক নয়: সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে আমলকী খেতে পারেন।
কারা সতর্ক থাকবেন?
- যাদের গ্যাস্ট্রিকের অস্বস্তি বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স আছে, তাদের ক্ষেত্রে টক জুস অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
- ডায়াবেটিসের ওষুধ কিংবা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেলে নিয়মিত ঘন আমলকীর নির্যাস বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- কিডনিতে পাথরের ইতিহাস থাকলে উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।