
আজ বিশ্ব ব্যর্থতা দিবস: ব্যর্থতা মানেই কী সব শেষ?
ওয়েব ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৪২

ওজন কমাতে আপেল সিডার ভিনেগারের কদর অনেক আগেই বেড়েছে। তবে শুধু আপেল সিডার ভিনেগার গ্রহণ নয়, এর সঙ্গে অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করতে হবে। সুষম খাবার, ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ইত্যাদি বিষয় মেনে চলার পাশাপাশি লেবু পানি, গ্রিন টি, ডিটক্স ওয়াটারের মতো আপেল সিডার ভিনেগার শরীরে বিএমআর (বডি মেটাবলিক রেট) বাড়িয়ে ওজন কমাতে ভূমিকা রাখবে।
আপেল সিডার ভিনেগার কী
আপেল সিডার ভিনেগার ফার্মেন্টেড আপেলের জুস থেকে তৈরি তরল। আপেলে থাকা প্রাকৃতিক সুগার ফার্মেন্টেশন বা গাজন প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহলে পরিণত হয় এবং এই অ্যালকোহল থেকে অ্যাসিটিক এসিড তৈরি হয়। অ্যাসিটিক অ্যাসিডের কারণে আপেল সিডার ভিনেগার গন্ধযুক্ত ও ঝাঁঝালো স্বাদযুক্ত হয়।
এটি বিভিন্ন ফর্মে পাওয়া যায়। আমরা সাধারণত পানির সঙ্গে মিশিয়ে যেটি খাই সেটা মাদার গ্রুপের হয়ে থাকে। এটির মধ্যে প্রোটিন, এনজাইম ও কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া বেশি থাকে।
ওজন কমাতে ১ মিলিগ্রাম আপেল সিডার ভিনেগার দিনে সর্বোচ্চ ১ থেকে ২ টেবিল চামচ খাওয়া নিরাপদ। এটি সরাসরি না খেয়ে এক গ্লাস বা অন্তত ২০০ মিলি কুসুম গরম বা সাধারণ পানিতে ভালোভাবে মিশিয়ে প্রধান খাবারের ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগে পান করুন। কখনো খালি পেটে বা অতিরিক্ত পরিমাণে খাবেন না, কারণ এটি দাঁতের এনামেল ও পাকস্থলীর ক্ষতি করতে পারে।
খাওয়ার সময়: দুপুর বা রাতের প্রধান ভারী খাবারের ঠিক আগে এটি পান করলে পেট ভরা ভাব থাকে এবং ক্ষুধা কম লাগে।
পরিমাণ ও কীভাবে খাওয়া উচিত
একজন ব্যক্তি আপেল সিডার ভিনেগার কীভাবে খাবেন সেটা নির্ভর করে তিনি কোন উদ্দেশ্যে খাচ্ছেন তার ওপর। যেমন ওজন কমানোর জন্য ব্যবহার করলে ঘুম থেকে উঠে সকালে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ইসবগুল, তোকমা বা চিয়াসিডের সঙ্গে মিশিয়ে এটি খেলে ভালো উপকার পাওয়া যাবে।
অনেকেই আপেল সিডার ভিনিগারের সঙ্গে লেবু যোগ করেন, যা একদমই উচিত নয়। লেবুতে সাইট্রিক এসিড এবং অ্যাপেল সিডার ভিনিগারে অ্যাসিটিক অ্যাসিড আছে। দুই ধরনের এসিডযুক্ত খাবার একসঙ্গে খাওয়া ঠিক নয়।
যারা ডায়াবেটিস রোগী, ওষুধ খাচ্ছেন এবং সুগার লেভেল আরেকটু নিয়ন্ত্রণে আনতে চান তারা খাওয়ার আগে বা খাওয়ার ৩০ মিনিট পরে এটি খেতে পারেন।
একজন ব্যক্তি সারাদিনে সর্বোচ্চ দুই টেবিল চামচ অ্যাপল সিডার ভিনেগার খেতে পারবেন। প্রথমে এক টেবিল চামচ দিয়ে শুরু করে দেখবেন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে কি না। পরে ধীরে ধীরে দুই টেবিল চামচ খাবেন। তবে সারা দিনে এক টেবিল চামচ পরিমাণ খাওয়াই যথেষ্ট। আর যাদের খেতে অসুবিধা হয় তারা আরও কম পরিমাণে এক চা চামচ করে খেতে পারেন।
আপেল সিডার ভিনেগারের অন্যান্য উপকারিতা
অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়। খাবার পর গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। রক্তের কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী।
যাদের খাওয়া উচিত না:
গলা দিয়ে টক পানি আসা, গলা জ্বলা এ ধরনের সমস্যা থাকলে আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়া উচিত না। যাদের শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা কম থাকে বা মাঝে মাঝে কমে যায় অর্থাৎ হাইপোক্যালেমিয়া আছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাবেন না। কারণ আপেল সিডার ভিনিগার পটাশিয়ামের মাত্রা কমিয়ে দেয়।
ডায়োবেটিসের রোগী যারা দুই বেলা ইনসুলিন নেন আবার আপেল সিডার ভিনেগার খান, তাদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া অর্থাৎ সুগার লেভেল একদম কমে যেতে পারে। তাই এই রোগীরা এটি খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। আর যারা ইনসুলিন না নিয়ে ওষুধ খান এবং সুগার লেভেল সবসময় নিয়ন্ত্রণে থাকে তারা দিনে সর্ব্বোচ্চ একবার খেতে পারবেন। তবে সুগার লেভেল কমে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে খাওয়া ঠিক নয়।
যাদের অ্যাসিটিক পাথর তৈরি হয় কিডনিতে তারা আপেল সিডার ভিনেগার খাবেন না।
যাদের অনেক অ্যালার্জির সমস্যা আছে তারা এটি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। যাদের ডেন্টাল সমস্যা যেমন এনামেল ক্ষয়ে যাওয়া, গর্ত হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা আছে তারাও এটি ব্যবহার করবেন না।
যাদের অস্টিওপোরেসিস আছে তাদেরকে এটি খেতে নিষেধ করা হয়। কারণ অ্যাপল সিডার ভিনেগার বোন মিনারেল ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন কে শোষণে বাধা দেয়। ফলে হাড়ের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।