
কালিয়াকৈর-শম্ভুগঞ্জ ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন চালু: বিদ্যুৎ সরবরাহে নতুন দিগন্ত
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৫

মাছ ধরার জাল মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাঁদপুরের জেলেরা। ছবি: সময় সংবাদ
নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগে মাছ ধরার জাল মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাঁদপুরের জেলেরা। জেলার মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে দক্ষিণে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় পুরোনো ও নতুন জালে সুতা বুনছেন তারা। শুধু জাল নয়, মাছ ধরার অন্যতম উপকরণ নৌকাও মেরামত করছেন জেলেরা। নৌকা ধোয়া-মোছার পাশাপাশি গতি বাড়াতে ইঞ্জিনের কাজও চলছে।
দেশের অন্য অভয়াশ্রমগুলোর মতো চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতেও সব ধরনের মাছ ধরার ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছিল। ফলে জাল ও নৌকা নিয়ে যাদের জীবন-জীবিকা, তাদের মাছ ধরা পুরোপুরি বন্ধ ছিল এ সময়। সরকারিভাবে খাদ্যসহায়তা পেলেও পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে অনেক জেলেকে।
আজ মধ্যরাতে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর আবারও জাল ও নৌকা নিয়ে নদীতে নামবেন তারা। মাছ ধরার সব প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন জেলেরা। তবে তাদের দুশ্চিন্তাও কম নয়। কারণ, নিষেধাজ্ঞার আগে ভরা মৌসুমেও পদ্মা ও মেঘনায় আগের মতো ইলিশ ধরা পড়েনি। ফলে জাল ও নৌকা তৈরির জন্য নেয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
এমনই একজন চাঁদপুর সদর উপজেলার মেঘনাপাড়ের গোবিন্দিয়া গ্রামের বিল্লাল মিশৌরী (৪৫)। তিনি জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে ২২ দিন বেকার থাকতে হয়েছে। এতে সংসার চালাতে বেশ কষ্ট হয়েছে।
পাশের বহরিয়া এলাকার জেলে কাশেম গাজী (৫০) বলেন, আমার মতো অনেক জেলে সরকারি আইন মেনে চললেও এক শ্রেণির জেলে সুযোগ বুঝে নদীতে নেমে ইলিশ শিকার করেছেন।
আরেক জেলে মজিব ছৈয়াল (৩৮) বলেন, সরকারি সহায়তা হিসেবে চাল পেয়েছেন ঠিকই। কিন্তু অন্য কোনো সঞ্চয় না থাকায় সেই চাল দিয়ে কত দিন চলা সম্ভব, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এদিকে, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ডিম ছেড়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এসব ডিম থেকে পোনা ফুটে জাটকায় পরিণত হবে। তাই জাটকা সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দেশের শীর্ষ মৎস্যবিজ্ঞানী ও ইলিশ গবেষক ড. মোহাম্মদ আনিছুর রহমান।
আরেক জেলে মজিব ছৈয়াল (৩৮) বলেন, সরকারি সহায়তা হিসেবে চাল পেয়েছি ঠিকই। কিন্তু অন্য কোনো সঞ্চয় না থাকায় সেই চাল দিয়ে কত দিন চলা সম্ভব, সেই প্রশ্নও রয়ে গেছে।
এদিকে, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ডিম ছেড়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এসব ডিম থেকে পোনা ফুটে জাটকায় পরিণত হবে। তাই জাটকা সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দেশের শীর্ষ মৎস্যবিজ্ঞানী ও ইলিশ গবেষক ড. মোহাম্মদ আনিছুর রহমান।
তিনি বলেন, এবারের প্রজনন মৌসুমে কী পরিমাণ মা ইলিশ ডিম ছেড়েছে, তা জানতে মাঠপর্যায়ের মৎস্যবিজ্ঞানীরা নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তবে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ডিম থেকে জন্ম নেয়া পোনা ও পরবর্তী সময়ে জাটকায় পরিণত হওয়া মাছগুলোকে সুরক্ষা দেয়া।
ড. মোহাম্মদ আনিছুর রহমান আরও বলেন, নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত আট মাস জাটকা সংরক্ষণ করা গেলে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য নিজেদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় জেলেদের সচেতন থাকার পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকেও জাটকা সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
অন্যদিকে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, ২২ দিন বেকার থাকা জেলেদের খাদ্যসহায়তা দেয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরায় জড়িত প্রায় ২০০ জেলেকে আইনের আওতায় এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ মাছ ধরার জাল, নৌকা ও ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, অন্যান্য বছরের মতো এবারও অভয়াশ্রমের নিরাপত্তা ও নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, জেলা ও নৌ পুলিশ, মৎস্য বিভাগ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় ৫০ হাজার জেলে। তাদের মধ্যে সরকারি তালিকাভুক্ত ৪১ হাজারের বেশি জেলেকে নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনের জন্য জনপ্রতি ২৫ কেজি করে খাদ্যসহায়তার চাল দেয়া হয়েছে। এসব জেলের পরিবারের সদস্য মিলিয়ে এ সহায়তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষের সংখ্যা আরও প্রায় দুই লাখ।